সিলেটে টিকটক ও লাইকি ব্যবহারকারীর তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার নজরধারীতে

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১

সিলেটে টিকটক ও লাইকি ব্যবহারকারীর তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার নজরধারীতে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: টিকটক নামক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমে আসলে কী হচ্ছে! তরুণ প্রজন্মের কাছে এই মোবাইল অ্যাপটি এরই মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এর মাধ্যমে সমাজে পৌঁছে যাচ্ছে ভুল বার্তা। বাড়ছে ধর্ষণ, নারী পাচার ও কিশোর অপরাধ। আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে অশ্লীলতা ও সামাজিক সহিংসতা। টিকটকের ফাঁদে পড়ে ঘটছে নারী পাচারের ঘটনা।

ঘটনা

সিলেটের জাফলংয়ে গিয়ে লাইকি ভিডিও করার কথা বলে এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর বাবা। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।সোমবার (১৪ জুন) দুপুর আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এর আগে গত ১৯ মে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত ১৭ মে তার মেয়ে বাসার মালিকের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে বেড়াতে যায়। সেখানে অবস্থানকালে ১৯ মে লিজা লাইকি ভিডিও করতে জাফলং বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে। সেখানে গিয়ে সবাই মিলে ভিডিও করবে বলে জানায়।‘বিষয়টি মেয়ে আমাকে অবগত করলে আমি লিজার সঙ্গে কথা বলে তাকে জাফলং যাওয়ার অনুমতি দেই। এরপর লিজা আমার মেয়েকে বিশ্বনাথ উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে লিজা তাকে সিলেট নগরের শিবগঞ্জ এলাকায় জুবায়েরের বাসায় নিয়ে যায়। এসময় আমার মেয়ে ওই বাসায় যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে লিজা তাকে বলে, এখানে একটু সময় বসতে হবে। সে বাসা থেকে কাপড় বদলে জাফলংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হবে। তখন জুবায়ের আমার মেয়েকে নাস্তা খেতে দেয়।’‘নাস্তা খাওয়ার পরপরই আমার মেয়ে অসুুস্থ হয়ে পড়ে। পরে জুবায়ের রাতভর তাকে ধর্ষণ ও মারধর করে। পরদিন সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিশ্বনাথে আমার এক আত্মীয়ের বাসায় দিয়ে যায়। এসময় জুবায়ের এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে যায়।

টিকটক ভিডিও ধারণের জায়গা

সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামন ও লাক্কাতুরা চা বাগান, এয়ারপোর্ট রোডের অভিযাত হোটেলের রাস্তা, এয়ারপোর্ট রোড, বাইশটিলা, শাহ পরান ব্রিজ, নগরীর কাজীর বাজার সেতুসহ নগরীর নামী-দামী হোটেল-রেস্টুরেন্টেও এসব ভিডিও তৈরি হয়।

ফাঁদ

সিলেটে লাইকি ভিডিও তৈরি চেয়ে ছেলে-মেয়েরা টাকা আয় করার জন্য বিভিন্ন গ্রুপে এড হয়ে থাকে। এসব গ্রুপে এড হতে গিয়ে আবার গ্রুপ এডমিনদেরকে বিকাশে টাকা দিতে হয়। পরবর্তীতে এসব গ্রুপে সুন্দরী মেয়ে দেখে হোস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যাদের কাজ হচ্ছে ছেলেদের বিভিন্নভাবে আকৃষ্ট করে গ্রুপ বড় করা। তবে কোনো  কোনো গ্রুপে ছেলেরা মেয়েদেরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ছবি-ভিডিও ধারণ করে টাকা দাবি করে থাকে।

আইনশঙ্খলা

এ বিষয়ে আইনশঙ্খলাবাহিনী জানিয়েছে, সিলেটে বর্তমানে এমন শতাধিক টিকটক ও লাইকি ‘তারকা’র সন্ধান তারা পেয়েছেন-যাদের বিষয়ে নজরদারি রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্ল্যা তাহের বলেন, টিকটক ও লাইকি ভিডিও তৈরি করার নাম করে যারা রাস্তায় ঘাটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, টিকটক-লাইকি ব্যবহারকারীর তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার নজরধারীতে রয়েছে।

উল্লেখ্য, এই টিকটক ভিডিওগুলোর বেশির ভাগেই নেই কোনো শিক্ষণীয় বার্তা। উল্টো এসব ভিডিওর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে চলে যাচ্ছে ভুল বার্তা। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই অ্যাপটির অপব্যবহারের কারণে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার বিব্রতকর, অনৈতিক ও অশ্লীল ভিডিও যা পর্নোগ্রাফিকে উৎসাহিত করে তা প্রচার করায় বিভিন্ন দেশ থেকে এর ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ