সিলেটে ট্রাক আতঙ্ক, ৪ দিনে ১০ জন নিহত

প্রকাশিত: ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মে ৬, ২০২১

সিলেটে ট্রাক আতঙ্ক, ৪ দিনে ১০ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠেছে বেপোরোয়া ট্রাক। বর্তমান লকডাউন চলাকালে সড়কে গণ পরিবহন না থাকার সুযোগে ট্রাক আরও বেপোরোয়া হয়ে ওঠেছে। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনায়। গত ৪দিনে সিলেটে ট্রাক চাপায় নিহত হয়েছেন ১০ জন।

এরমধ্যে সর্বশেষ বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় নগরের সুবিদ বাজারে বেপোরোয়া ট্রাকের চাপায় মারা যান মো. সাব্বির নামে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয়ের এক শিক্ষার্থী।

সিলেট নগরের মধ্যে ট্রাক চাপায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নগরের ভেতর দিয়ে ট্রাক চলাচল বন্ধেরও দাবি ওঠেছে বিভিন্ন সময়। তবে কখনোই বন্ধ হয়নি ট্রাক চলাচল।

সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাত ৯টার আগে নগরীতে ট্রাক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলেও তাও মানা হচ্ছে না। সন্ধ্যার পরপরই নগরের অনেক সড়কে ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়। বিশেষত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে পাথরবহনকারী ট্রাক নগরের ভেতর দিয়ে সবচেয়ে বেশি চলাচল করে।

এ প্রসঙ্গে বুধবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হলে  নগরের ভেতরে প্রবেশ না করলে এই ট্রাকগুলো চলাচল করবে কোনদিকে? ট্রাক চলাচল তো বন্ধ করা যাবে না।

জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ থেকে পাথর বহনকারী ট্রাক যাতে নগরের ভেতরে প্রবেশ করতে না হয় সে জন্য বিমানবন্দর-বাদাঘাট-তেমুখী বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সে উদ্যোগও থেমে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

বুধবার রাতে নগরের দুর্ঘটনার আগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানী নগরে ট্রাক চাপায় নিহত হন এক ব্যক্তি। উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মান্নান হাওলাদার (২৬) অপর একটি ট্রাকের হেলপার। এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে প্রায় আড়াই ঘন্টা যান চালচল বন্ধ ছিলো।

এরআগে গত রোববার রাত দেড়টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুরের দরবস্ত এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় তিনজন নিহত হন।

একইদিন (২ মে) ভোরে একই উপজেলার ফেরিঘাট নামক স্থানে একটি বেপোরোয়া ট্রাক একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে একই পরিবারের ৪ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের রুপচেন গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী সাবিয়া বেগম, তার চার বছরের মেয়ে সাকিয়া বেগম, তিন মাস বয়সী ছেলে তাহমিদ হোসেন, বোন হাবিবুন নেছা ও অটোরিকশাচালক হোসেন আহমদ।

এরআগে গত এপ্রিল মাসে সিলেট বিভাগে ২০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহতের খবর জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামক একটি সংগঠন।

বুধবার ফাউন্ডেশনের মাসিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। দেশের সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে ৩৯৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৪৫২ জন নিহত ও ৫১৯ জন আহত হন। নিহতের মধ্যে ৫৪ জন নারী ও ৪৭ জন শিশু রয়েছে। ৩৯৭টি সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে পৃথকভাবে ১৪৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৫৮ জন নিহত হয়। যা মোট নিহতের ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

সংগঠনটি আরও জানায়, এপ্রিলে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪২ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছে চার জন। পাশাপাশি সাতটি রেলপথ দুর্ঘটনায় পাঁচ জন নিহত হন।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৫৮ জন, বাস যাত্রী পাঁচ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি যাত্রী ৬০ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ যাত্রী ১১ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (সিএনজি-ইজিবাইক-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু) ৮৯ জন, নসিমন-ভটভটি-পাখিভ্যান-মাহিন্দ্র-টমটম ২২ জন, বাইসাইকেল, প্যাডেল রিকশা, পাওয়ারটিলার, ইটভাঙ্গার মেশিন গাড়ির দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১২টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৭ জন। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। ২০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২১ জন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২৬টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত। সবচেয়ে কম পঞ্চগড় জেলায়। দুটি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ