সিলেটে দল গোছাতে তৎপর আওয়ামী লীগ-বিএনপি

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

সিলেটে দল গোছাতে তৎপর আওয়ামী লীগ-বিএনপি

কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর নজরদারি


নিজস্ব প্রতিবেদক :: দেশব্যাপী রাজনৈতিক দলে শুদ্ধি অভিযানে সিলেটেও তৎপর রাজনৈতিক দলগুলো। ঘর গোছাতে ব্যস্ত প্রধান রাজনৈতিক দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দলের নেতৃত্বে ত্যাগী ও তরুণ নেতাদের সামনে আনা হচ্ছে। এতে করে দু’দলের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে। পদ-পদবি পেতে চালাচ্ছেন লবিংও। এক্ষেত্রে উভয়দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে সিলেটের রাজনীনিতে।

এই ঘর গোছানোর প্রক্রিয়ায় সতর্ক দু’টি দল। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বিরোধ দমিয়ে রাখতে সিনিয়র নেতারা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগ দল গোছানোর প্রক্রিয়ায় কোনো বিশৃঙ্খলা চায় না। আর বিএনপিও দুর্দিনে চাচ্ছে না দলের ভেতরের কোন্দল বাড়াতে।
সিলেট আওয়ামী লীগের কমিটি ৮ বছরের পুরনো। এতে করে দলের ভেতরে বাসা বেঁধেছে দ্বন্দ্ব ও অবিশ্বাস। দুটি সিটি, দুটি জাতীয়, কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে বিভক্ত। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতা তোফায়েল আহমদ ও মাহবুবুল আলম হানিফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির নেতারা অক্টোবরের শেষার্ধ্বে সিলেটে বর্ধিত সভা করেন। আর এই বর্ধিত সভায়ই ধরা পড়ে সিলেট আওয়ামী লীগের অগোছালো পরিবেশ। এরপর কেন্দ্রের নির্দেশে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ এখন তাদের বাকি থাকা ৮টি উপজেলার সম্মেলনের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগ বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করেছে। শেষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। আর মহানগর আওয়ামী লীগ এক সপ্তাহ আগেই তাদের বাকী থাকা ৬টি ইউনিটের সম্মেলন করে ফেলেছে। গত সোমবার রাতে মহনগর সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে সভা করে একাধিক উপ-কমিটি গঠন করেছে।

আগামী ৪ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। আর ৫ ডিসেম্বর হবে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান জানিয়েছেন- ‘চলতি মাসে আমরা ৮টি উপজেলা কমিটি গঠন পর্ব শেষ করে জেলার সম্মেলনের প্রস্তুতি নেব। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পুরাতন ধ্যান-ধারণা ভুলে সংগঠনকে গতিশীল ও চাঙ্গা করতে যা করার প্রয়োজন আমরা তাই করছি। বিশেষ করে ইউনিটগুলোর কমিটি গঠনের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মনোমানিল্য নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এদিকে- মহানগর আওয়ামী লীগ জেলার চেয়ে বেশি সুশৃঙ্খল। সম্মেলনের প্রস্তুতিতে এগিয়ে এ ইউনিটটি। আর এতে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন মহানগরের দীর্ঘ দিনের কান্ডারি কেন্দ্রীয় নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তিনি জানিয়েছেন- ‘সিলেট আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী সংগঠনে গড়তে আমরা কাজ করছি। দলীয় সভানেত্রী যে নির্দেশ দিচ্ছেন আমরা তা ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করছি। এবারের সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে সিলেটে কোন্দল ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে সবাই কাজ করছেনও। আমরা আশাবাদী সম্মেলনের পর সিলেটে দলের ভেতরের কোনো দূরত্ব থাকবে না। একই সঙ্গে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা যাতে নেতৃত্বে আসতে পারেন সেই চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।’

এদিকে, আওয়ামী লীগের দল গোছানোর প্রক্রিয়ার সময়কালেই সিলেটে একই কার্যক্রম শুরু করে বিএনপি। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে আহবায়ক কমিটি গঠন করেছেন।

নতুন আহবায়ক করা হয়েছে কামরুল হুদা জায়গীরদারকে। জেলা বিএনপি সার্বজনীন হয়নি দাবি করে প্রথমে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিলো। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে সেই ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। তবে এখনো পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারেনি বিএনপি। জেলা বিএনপির আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার জানিয়েছেন- সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের আগে ১৬টি ইউনিটের কমিটি গঠন করা হবে। কেন্দ্রের নির্দেশে উপজেলা, থানা ও পৌরসভার কমিটি নতুন করে গঠন করা হবে। ফলে কমিটি গঠনের জন্য এখন ওয়ার্মআপ চলছে। খুব শিগগিরই ইউনিটগুলোতে সম্মেলন ও কাউন্সিলের আয়োজন করা হবে। তিনি জানান- সিলেটে বিএনপি একটি শক্তিশালী সংগঠন। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে।

ওদিকে, সিলেট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনের পর মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার আভাস মিলেছে। তবে এখনো কেন্দ্রের তরফ থেকে ডাক পাননি সিলেট মহানগরের নেতারা। মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানিয়েছেন- জেলার মতো মহানগরকে কেন্দ্রে ডেকে নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এরপর কাজ শুরু করা হবে। তবে সিলেট মহানগর বিএনপিতে চলছে ওয়ানম্যান শো। একমাত্র নাসিম হোসাইন নির্ভর চলছে কমিটি। সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে। ফলে একেক সময় একেক যুগ্ম সম্পাদক ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

এই অবস্থায় মহানগর বিএনপিও সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত। সিলেট বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন- সিলেট বিএনপির এখন গোটা দেশের বিএনপির রাজনীতিতে রোল মডেল। কারণ আড়াই বছর আগে সিলেটে কাউন্সিলে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে নেতত্ব বাছাই করেছিলেন সিলেটের কাউন্সিলররা। এতে করে সিলেটে দলের ভেতরে কোন্দল কমেছে। এ কারণে এবার সিলেটে বিএনপি একই পথে হাঁটবে। যা হবে কাউন্সিল এবং ভোটের মাধ্যমে হবে। এ কারণে জেলা ও মহানগর বিএনপির সম্মেলনের আগে সবকটি ইউনিটে নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে। শুক্রবার গঠিত যুবদলের জেলা ও মহানগরের আহবায়ক কমিটি নিয়ে সিলেটে কিছুটা ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। না জানিয়ে কমিটি দেওয়ায় ক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন বিএনপি দলীয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। দলের মহাসচিব তাদের সেই পদত্যাগপত্র না রেখে শিগগিরই সুন্দর সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে নবগঠিত জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা মঙ্গলবার সিলেটে চমক দেখিয়েছেন। মাজার জিয়ারতের পর হাজারো কর্মীবাহিনী নিয়ে তারা নগরীতে শোডাউন দিয়েছে। এই শোডাউন নজর কেড়েছে সিলেটবাসীর।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ