সিলেটে নিগৃহীত ইউসিসিএ কর্মচারীদের দু:খ ঘোচানোর কেউ নেই!

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২১

সিলেটে নিগৃহীত ইউসিসিএ কর্মচারীদের দু:খ ঘোচানোর কেউ নেই!

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
নিজস্ব প্রতিবেদক :: গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর মূল কর্মসূচির আওতাভুক্ত কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের (ইউসিসিএ) কর্মচারীদের দু:খ ঘোচানোর যেন কেউ নেই।

এসব কর্মচারীর অনেকে বেতন-ভাতা রাজস্বকরণ ছাড়াই বছরে পর বছর পাড়াগাঁয়ের মানুষজনকে সেবা দিয়ে অবসর নিয়েছেন রিক্ত হস্তে। চাকরিতরাও পাচ্ছেন না রাজস্বভুক্ত বেতন-ভাতা। এ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন কাটাতে হচ্ছে সিলেট জেলার অর্ধশতাধিক ইউসিসিএ কর্মচারীকে। বিভিন্ন সময় ঊর্ধতন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং দপ্তরে ধর্না দিয়েও কাটছে না তাদের দু:খ-দুর্দশা। অবশেষে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এসকল কর্মচারী খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, সিলেট জেলার উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসের অধীনে অর্ধশতাধিক ইউসিসিএ কর্মচারী চাকরিকালীন জীবনে অন্যান্যদের মতো টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড তো দূরের কথা, বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত স্কেলের বেতন-ভাতা কিংবা সুযোগ-সুবিধা পাননি। এভাবেই বছরের পর বছর চাকরি করে অবসর নিয়েছেন অনেকে। আর্থিক টানাপড়েনে বর্তমানের তাদের অনেকের সাংসারিক ও আর্থিক অবস্থা করুণ।

সিলেটের চাকরিরত ও অবসরে যাওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউসিসিএ কর্মচারীরা জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লাগাতারভাবে দাবি জানিয়ে আসছেন- বিআরডিবির রাজস্ব খাতভুক্ত করে তাদের বেতন-ভাতা বৈষম্য দূর করতে। কিন্তু কেউ তাদের দু:খ লাঘবে এগিয়ে আসেননি।

কেন্দ্রীয় এবং সিলেট জেলা পর্যায়ে ইউসিসিএ কর্মচারীদের রাজস্বকরণ ও রাজস্বকরণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত ৭০ শতাংশ বেতন অব্যাহত না রাখার দাবিতে বাংলাদেশ ইউসিসিএ কর্মচারী ইউনিয়ন বিভিন্ন সময় কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) অধীনস্থ উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের (ইউসিসিএ লিমিটেড) ভাগ্যাহত কর্মচারীদের জীবনে আশার আলো কখনো ফুটেনি।

এমন একজন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মো. আব্দুল সোবহান চৌধুরী। দীর্ঘ ৩৫ বছর ইউসিসিএ কর্মচারী ছিলেন। তিনি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয় (ডিআরডিবি) মূল কর্মসূচির অধীনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন। আব্দুল সোবহান ১৯৮২ সালে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি (আইআরডিবি)-এর অধীনে গ্রাম্য হিসাবরক্ষক পদে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালযয় বিআরডিবি-তে স্থানান্তরিত হলে পরিদর্শক হিসেবে তাঁর পদোন্নতি ঘটে। কিন্তু ঘটেনি ভাগ্যের উন্নয়ন।

ইউসিসিএ কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল সোবহান চৌধুরী চরম হতাশা নিয়ে বলেন, ‘চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই বেতন-ভাতার বৈষম্যের শিকার ছিলাম। বার বার বিভিন্ন সরকারের কাছে আমাদের বেতন-ভাতা জাতীয়করণের দাবিতে আবেদন করি। ফল না পেয়ে কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ে অনেক কর্মসূচিও পালন করি। বর্তমানেও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ সংক্রান্ত ফাইল জমা আছে। কিন্তু এ পর্যন্ত আমাদের দিকে কেউ মুখ তুলে তাকাননি।’

আব্দুল সোবহান বলেন, ‘২০১৭ সালে আমি সরকারি বিধিমোতাবেক চাকরি থেকে অবসরে যাই। কিন্তু অবসরকালীন সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছি। আমার মতো সিলেটে আরও কয়েকজন আছেন। আমরা দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে সার্ভিস দিয়ে আসলেও আমাদের আর্থিক টানাপড়েনের এই দু:সময়ে কোনো দপ্তর থেকে একটা খোঁজ পর্যন্ত কেউ নেননি। বর্তমানে আমার শারীরিক অবস্থা খবুই খারাপ। বিভিন্ন রোগে ভুগছি। আর্থিক দুরবস্থার কারণে চিকিৎসা তো করাতেই পারছি না, এমনকি দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এখন সর্বশেষ ভরসাস্থল জননেত্রী-জনদরদি শেখ হাসিনা। তিনি যদি নিজে হস্তক্ষেপ করেন তবেই আমাদের দীর্ঘ এ কষ্ট দূর হবে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ