সিলেটে পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে বসতবাড়ি, পানিবন্দি লাখো মানুষ (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

সিলেটে পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে বসতবাড়ি, পানিবন্দি লাখো মানুষ (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ভারী বর্ষণে সিলেটের সবক’টি নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে একের পর এক প্লাবিত হচ্ছে সিলেটের নিম্নাঞ্চল।

ঢলের পানিতে আগাম বন্যায় কয়েকটি উপজেলার অন্তত শতাধিক গ্রামের ঘর, বাড়ির আশপাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পানিবন্দি রয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। রাস্তাঘাট তলিয়ে অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

বিশেষ করে পাহাড়ি ঢলে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তত অর্ধশত গ্রামের পানিবন্দি হাজার হাজার লোকজন। অকাল বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপজেলার অন্তত অর্ধশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত বন্ধ ছিল ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে বাড়ি ঘরে পানি না উঠলেও পানিবন্দি রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। উপজেলার প্রধান ৩টি সড়কে ডুবে গিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলার ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। আজ (শুক্রবার) পানি আরো বেড়েছে, ফলে বন্ধের দিক থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তত অর্ধশত ছাড়াবে। শুক্রবার পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে অন্তত ১৮ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি বলেন, পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ইসলামপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চল আরো প্লাবিত হচ্ছে। উপজেলার অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাছাড়া যে প্রতিষ্ঠানেই শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জনপদে ঢুকছে বানের পানিতিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। একটি আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি রেখেছি এবং ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

এদিকে, জেলা প্রশাসন থেকে সব উপজেলায় আগাম বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ও ধলাই এবং গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি ও জাফলং পাথর কোয়ারির পাথর উত্তোলন এবং সারি নদী থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব প্রায় দুই লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবারও সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় প্রবল বর্ষণে বৃদ্ধি পেয়েছে নদ নদীর পানি। সিলেটের প্রায় সবক’টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা বলেন, প্রবল বর্ষণে সিলেটের সবক’টি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে।

তিনি বলেন, সিলেটের কানাইঘাট সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

এই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টে পানির গতি প্রবাহ ছিল ১০ দশমিক ৫১ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা অমলশীদ পয়েন্টে পানির প্রবাহমান গতি ছিল ১৫ দশমিক ৬৪ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। কুশিয়ারা শেরপুর পয়েন্টে পানির গতি প্রবাহ ছিল ৮ দশমিক ৩৬ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া জৈন্তাপুর সারি নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিন এ নদীর পানির গতি প্রবাহ ছিল ১১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ