সিলেটে পৃথক দূর্ঘটনায় ভাই-বোনসহ ৭ জনের প্রাণহানি

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১

সিলেটে পৃথক দূর্ঘটনায় ভাই-বোনসহ ৭ জনের প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক::
সিলেটে পৃথক দূর্ঘটনায় ভাই-বোনসহ ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এসব দূর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া নামক স্থানে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরও ৩ জন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন-উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মোশারফ হোসেন (৪), মেয়ে রুপা আক্তার (৭), তাঁর ভাই জব্বার আলী (২৮) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ গ্রামের মধু দাস।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সোমবার দুপুরে কুদ্দুস মিয়ার স্ত্রী বিলকিস আক্তার তাঁর দুই সন্তান, দুই ভাইকে নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাতে করে উপজেলার আদাঐর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি আন্দিউড়া পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি কোচ অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। অটোরিকশাটি ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মোশারফ ও মধু দাস মারা যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় বাকিদের উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। এ সময় রুপা আক্তার মারা যায়। পরবর্তীতে সিলেট হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা যায় জব্বর আলী।

এ বিষয়ে রসুলপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, কুদ্দুস মিয়ার স্ত্রী, সন্তান ও দুই ভাই আদাঐর গ্রামের বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এ দুর্ঘটনায় তাঁর দুই সন্তান ও ভাই মারা যায়। তাঁরা স্ত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মাধবপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আতিক আরমান মজুমদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, রসুলপুর গ্রামের আব্দুল্লা (২২) ও বেজুরা গ্রামের এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মাধবপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক ইমরান আহম্মেদ জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করেছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন। নিহত দুজন শাহজাহানপুর ইউনিয়নের। অপর জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এদিকে,সিলেটের গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাছের আঘাতে এক মৎস্যজীবী প্রাণ হারান। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বুধবারী বাজার ইউনিয়নের বাগিরঘাট লঞ্চঘাটের পাশে কুশিয়ারা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

আব্দুল হক (৫০) নামের ওই মৎস্যজীবী বুধবারী বাজার ইউনিয়নের কালিজুরী (ছয়ত্রিশ) গ্রামের নূর উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবী কুশিয়ারা নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। এ সময় জালে একটি বাউশ মাছ ধরা পড়ে। জাল থেকে মাছ তুলতে গিয়ে আব্দুল হকের বুকে ওই মাছ আঘাত করে। এসময় তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

অপরদিকে, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের পতনঊষারে ফরজান খান (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ সবজির ক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানান, কুলাউড়া থানার টিলাগাঁও ইউনিয়নের বিজলি গ্রামের মৃত রশিদ খানের ছেলে ফরজান খাঁন (৬০) সাথে প্রায় ৩০ বছর পূর্বে পতনউষারের টিলাগড় গ্রামের ছমসুন বেগমের সাথে বিবাহ হয়। স্বামী ফরজান খাঁন চুরি, ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কারনে এ নিয়ে সংসার জীবনের কলহের সৃষ্টি হয়। তাদের সংসারে ৩ সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ী পতনউষারে টিলাগড় গ্রামে চলে আসে। এদিকে, সংসার বিচ্ছেদের পর ফরজান দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে রোববার দিবাগত রাতের কোন এক সময় তিনি শ্বশুর বাড়ি আসার পর তাকে মেরে বাড়ির পিচনের ফসলি ক্ষেতের জমিতে তার লাশ ফেলে দেয়া হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথম স্ত্রী ছমসুন বেগমের বাড়ির পাশের সবজির ক্ষেত থেকে ফরজান খাঁন (৬০) মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ সময় মৃত ব্যক্তির গাঁয়ে সাদা গেঙ্গি ও আকাশি রঙের পুল শার্ট ও লুঙ্গি পড়া ছিল। লাশের শরীরের কোথায় আঘাতের আলামত পাওয়া না গেলেও মাথায় এবং গেঞ্জিতে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। যার কারনে বৃদ্ধের মূত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পতনঊষার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তৌফিক আহমেদ বাবু জানান, সকালের সংবাদ পেয়ে পুলিশের সহযোগিতায় সবজি ক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, সকালে ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধের লাশ সবজির ক্ষেতে পরে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের পাশ থেকে ধান কাটার কাঁচি, কাপড়ের বেগ, মোবাইল ফোন, নগদ ২০ টাকা ও বিড়ি পাওয়া গেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশু মারা গেছে। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে এই ঘটে।

নিহত দুই শিশু হলো, উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে সিয়াম (২) ও দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণভাগ গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে মাহের আহমদ (৩)।

হাসপাতাল, স্থানীয় ও নিহত দুই শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তারাদরম গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদের ঘরের পাশে একটি পুকুর রয়েছে। সোমবার দুপুরে তার দুই বছর বয়সী ছেলে সিয়াম ঘরে একা খেলছিল। একপর্যায়ে সকলের অগোচরে সিয়াম পুকুরে পানিতে পড়ে ডুবে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি পর পুকুর থেকে পরিবারের লোকজন তার নিথর দেহ উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নে নানা বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে যায় শিশু মাহের আহমদ (৩)। পরে স্বজনরা পুকুর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহের আহমদকে মৃত ঘোষণা করেন।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শুভ্রাংশু শেখর দে সোমবার বিকেলে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তারা মারা গেছে।’

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ