সিলেটে ‘বঙ্গবন্ধু- বাপু’র ডিজিটাল জীবন কাহিনী(ভিডিও)

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২১

সিলেটে ‘বঙ্গবন্ধু- বাপু’র ডিজিটাল জীবন কাহিনী(ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক::  

তাদের দুজনের জন্ম দুটি ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। কিন্তু হলে কি হবে, দুজনকেই কাজ করতে হয়েছে লৌহ শাসকদের শাসনের বিরুদ্ধে। লড়তে হয়েছে দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য, ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে। সইতে হয়েছে অবর্ণনীয় নির্যাতন। কারাগার তাদের জন্য প্রায় স্থায়ী ঠিকানাই হয়ে গিয়েছিল। ছিল ঘরে বাইরে ষড়যন্ত্রের সুকঠিন জাল ছিন্ন করার মত বিচক্ষনতা আর আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের অসাধারণ যোগ্যতা।

 

দুটি আলাদা সময়ে জন্ম নেয়া এই দুই মানুষ দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মদাতা। ইতিহাসে তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে, আছে উপমহাদেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়েও। তাদের দুজনেরই মৃত্যু হয়েছিল বিশ্বাসঘাতকের নির্মম বুলেটে। একজন স্বপরিবারে, অপরজন উগ্র এক হিন্দু জাতীয়তাবাদীর হাতে।

তাদের একজন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আর অপরজন মহাত্মা গান্ধী, ভারতীয়দের জাতির জনক।

এ দুই মহান নেতার জীবনের নানা দিক নিয়ে সিলেটে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল চিত্র প্রদর্শনী।

সোমবার ( ৮ নভেম্বর ) সকাল ১১টায় নগরীর মাছিমপুরের আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। আগামী ১৫ নভেম্বর প্রদর্শনী সমাপ্ত হবে।

আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান নামক ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন বলতে গেলে শূণ্য হাতে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে ঘুরে ঘুরে মানুষের দুঃখ দুর্দশা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন। আর অনুভব করেছেন বাংলার কৃষক মজুরদের উৎপাদিত পাট, চা আর চামড়া বিক্রির টাকায় কিভাবে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তান। মারাত্মক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন তিনি। জাগিয়ে তুললেন বাংলার মানুষকে। একের পর এক মিথ্যা অভিযোগে রাজনৈতিক মামলা বারবার কারাবরণ করেছেন। বেরিয়ে এসে আবার বাংলার দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন। এভাবেই আসে একাত্তর এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা।

মহাত্মা গান্ধীর যুদ্ধ আর সংগ্রামও ছিল স্বাধীনতা। তিনি অহিংসা নীতি অবলম্বন করে অনশন সত্যাগ্রতের মত শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করেছেন। তার আন্দোলন সংগ্রাম চীরকাল ভারতবাসী এবং বিশ্ববাসীকে অনুপ্রাণিত করে। তারই নীতি অবলম্বন করে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্য দূর করতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। এমনকি আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাও গান্ধীর ভাবশিষ্য ছিলেন। আজো মহাত্মা গান্ধী ভারতীয়দের কাছে পরম শ্রদ্ধার ‘বাপুজি’।

বঙ্গবন্ধু ও বাপু শীর্ষক ডিজিটাল চিত্র প্রদর্শনী ভারতে অনেক আগে শুরু হলেও গত মার্চ থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। আর সিলেটে শুরু হলো সোমবার থেকে।

ডিজিটাল এই প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধীর জীবনের উল্লেখযোগ্য সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ সমৃদ্ধ এবং বিশেষায়ীত প্রযুক্তির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ভারতের মহাত্মা গান্ধী ডিজিটাল জাদুঘরের কিউরেটর শ্রী বিরাদ ইয়াগনিক পরিচালিত এই অনন্য প্রদর্শনী বঙ্গবন্ধু ও গান্ধী অনুরাগীদের জন্য একটা বিশেষ পাওনা বলেই দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এই প্রদর্শনী আসলে মুগ্ধ হয়ে কেবল দেখা নয়, হৃদয় দিয়ে অনুভব করার। কিভাবে সাধারণ মানুষের কাতার থেকে দুটি মানুষ সংগ্রাম যুদ্ধ আর স্বদেশ প্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে জাতির জনক বা ‘বাপু’ হয়ে উঠতে পারেন তা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে চাইলে এই প্রদর্শনী অবশ্যই দেখা প্রয়োজন। তাছাড়া প্রদর্শনীতে এই দুই নেতার জীবনী নির্ভর ভ্রাম্যমান তথ্যচিত্রও দেখার সুযোগ আছে।

সিলেটের ভারতীয় হাইকমিশন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত বলে আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে।

সিলনিউজবিডি ডট কম / এস:এম:শিবা

 

 

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ