সিলেটে বন্যার্তরা খাবার পানির তীব্র সংকটে

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২২

সিলেটে বন্যার্তরা খাবার পানির তীব্র সংকটে

সিলনিউজ বিডি ডেস্ক :: বর্তমানে সিলেট মহানগরীর প্রায় অর্ধেক এলাকায় দেখা দিয়েছে বন্যা। যত সময় যাচ্ছে ততই বাড়ছে পানি। সুরমা নদী টইটুম্বুর থাকায় সেই পানি সহসাই কমার সম্ভাবনা নেই।

এ অবস্থায় তীব্র খাবার পানির সংকটে পড়েছেন জলবন্দী বাসাবাড়ির মানুষজন। কিছু সংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে গেলেও বেশিরভাগ মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির কারণে পানিবন্দী হয়েই থাকতে হচ্ছে নগরীতে। তারা বেশি পোহাচ্ছেন এ ভোগান্তি। তবে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন পানিবন্দিরা। তাই পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও সরবরাহ করছে সিসিক।

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার রাত থেকে সিলেটে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। পরদিন বুধবার থেকেই সিলেট নগরীর নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করে। গত এক সপ্তাহে বিভাগীয় শহর সিলেটের অর্ধেক রাস্তাঘাট। বিশেষ করে নগরীতে সুরমা তীরবর্তী দুই কিলোমিটারের মধ্যের প্রত্যেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকেছে। মহানগরীর শাহজালাল উপশহর, সোবহানীঘাট, কালীঘাট, ছড়ারপাড়, শেখঘাট, তালতলা, মাছিমপুর, পাঠানটুলা, লন্ডনি রোড, সাগরদিঘির পাড়, সুবিদবাজার, শিবগঞ্জ, মেজরটিলা, মদিনা মার্কেট, দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোড, মোমিনখলাসহ বিভিন্ন এলাকা এখন বন্যাকবলিত।

ময়লাযুক্ত হয়ে রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বন্যার পানি ঢুকে পড়া এলাকায় সাপ্লাইয়ের পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে সিসিক। ফলে খাবার ও রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে পড়েছেন বন্যার পানিবন্দী মানুষ।

নগরীর কাজিরবাজার তেলিহাওর এলাকার বাসিন্দা চৌধুরী সানাউর রহমান জানান, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে তালতলা পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তায় কোমর পানি। আমরা ভাড়া থাকা ৪ তলা বাসার নিচের দুই তলার মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। আমরা ৩ ও ৪ তলার ভাড়াটেরা চাকরির স্বার্থে থাকতে হচ্ছে। বন্যার পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা আবর্জনা বাসায় প্রবেশ করেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। রিজার্ভ ট্যাংকে বন্যার পানি প্রবেশ করায় বাসায় ব্যবহার ও খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছি। একটি পানির কোম্পানিকে ফোন করে আজকে (বুধবার) ব্যবহারের জন্য কিছু পানির ব্যবস্থা করেছি। আগামীকাল কী হবে জানি না।

তিনি বলেন, বাসার নিচেই কোমর পানি। বিশুদ্ধ পানি যে কেউ নিয়ে আসবে সেই অবস্থাও নেই।

সিসিকের এই (১৩ নম্বর) ওয়ার্ড কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত সনতু এ বিষয়ে বলেন, আজ (বুধবার) সকালে সিসিকের পানির ট্যাংকে করে বিশুদ্ধ পানি এই এলাকার বাসিন্দাদের সরবরাহ করেছি। আগামীকালও করবো। আমার পানিবন্দী ওয়ার্ডবাসীর জন্য যা যা করা দরকার সব করবো।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বুধবার (১৮ মে) বিকেলে বলেন, পনিবন্দী এলকাগুলোতে সিসিক সাপ্লাইয়ের পানি বন্ধ রেখেছে। কারণ- সে পানির সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে রোগ-বালাই হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, পানিবন্দী মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ট্যাবলেট রয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ