সিলেটে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ, করোনামুক্তির বিশেষ দোয়া

প্রকাশিত: ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১৪, ২০২১

সিলেটে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ, করোনামুক্তির বিশেষ দোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :: হে আল্লাহ! করোনাভাইরাস মহামারী থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন। হে আল্লাহ! বিশ্বের সকলকে মহামারী হেফাজত করুন। ইয়া আল্লাহ, ইয়া রাহমানুর রাহিম, আমাদের তাওবা কবুল করুন। আপনি ছাড়া আমাদের ফরিয়াদ শোনার আর কেউ নেই। ইয়া আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কে আছে ? যার কাছে আমারা সাহায্য চাইবো?

এভাবে কান্নাজড়িত কন্ঠ পুরো দরগাহ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে করোনা মুক্তি থেকে বিশেষ মোনাজাত চলাকালে। শুক্রবার (১৪মে) সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও পালিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।

সিলেটে পবিত্র ঈদুল ফিতরের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের মসজিদে। সকাল সাড়ে ৮টায় মাজারের মসজিদে এ জামাত অনুষ্টিত হয়। এতে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

জামাতে ইমামতি করেন দরগাহ মসজিদের ইমাম হাফিজ মাওলানা হুজায়েফা ও খুতবা পড়েন মাওলানা মুফতি মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি। মসজিদ ছাড়িয়ে গোটা মাজার এলাকায় ঈদ জামাতের বিস্তৃতি ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি রাস্তা পর্যন্ত পৌছে যায়।

খুতবা শেষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দেশ জাতি ও বিশ্ববাসীর মুক্তি কামনায় দোয়া করা হয়।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যা শুরু হওয়া বৃষ্টি এখনো চলছে।সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের জামাতে অংশ নেন কয়েক শতাধিক মানুষ। মাজারে প্রবেশের পূর্বে গেইটে মুসল্লীদের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়। একই সাথে মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না দেখা যায়।

অন্যদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্যাহ গতকাল জানান, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ঈদের জামাত ঈদগাহ কিংবা খোলা মাঠে হচ্ছে না।

সিলেট নগরীর ইলেকটিক সাপ্লাই রায়হোসেন কলবাখানী জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ২ টি জামাআত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম জামাআত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮ টায়, দ্বিতীয় জামায়াত সকাল ৯ টায় ।

প্রথম জামাআতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম সমিতির সভাপতি ও ইসলামীক ফাউন্ডেশন মউশিক কল্যান পরিষদ সিলেট জেলা আহবায়ক হাফিজ মাওলানা নওফল আহমদ সুলেমান নগরী। দ্বিতীয় জামাআতে ইমামতি ইমামতি করেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফিজ হাবিবুর রহমান।

মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সবাইকে আহ্বান করা হয়েছে। নামাজ চলাকালে সব মসজিদে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনা চলার বিষয়টি নজর রাখা হবে।

তিনি বলেন, সেই সঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন অফিস–আদালত কিংবা ব্যাংকসহ বাড়তি নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে মহানগর পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এর মধ্যে থানা–পুলিশের পাশাপাশি টহল দল এবং সাদাপোশাকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ