সিলেটে মুখোমুখি হাবিব-আতিক

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২১

সিলেটে মুখোমুখি হাবিব-আতিক

ওয়েছ খছরু,অতিথি প্রতিবেদক

সব হিসাব পাল্টে গেল সিলেট-৩ আসনে। পরিবার থেকে বেরিয়ে এলো দলীয় মনোনয়ন। নতুন নেতৃত্বকে বেছে নিলো আওয়ামী লীগ। এতে করে বদলে গেল দৃশ্যপটও। মনোনয়ন লাভের আশায় সিলেট ছেড়ে হবিগঞ্জে চলে গিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক। দলের মনোনয়ন নিয়ে তিনি ফের ফিরলেন নিজের এলাকায়। নতুন নেতৃত্বকে আপাতত গ্রহণ করলো না জাতীয় পার্টি। এ নিয়ে হয়েছে নানা নাটকীয়তা।
সব নাটকীয়তার ইতি ঘটিয়ে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে মুখোমুখি হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। কিন্তু স্বস্তি নেই বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতা শফি আহমদ চৌধুরীর। এরইমধ্যে তিনি স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করে তিনি দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠজনরা। সিলেট-৩ আসনে (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) এরশাদের জমানা থেকে কর্তৃত্ব ধরে রেখেছিলো জাতীয় পার্টি। এরপর মাঝখানে ছিল বিএনপি’র শাসন। ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে এ আসনটি। পরপর তিনবার এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত
হয়েছিলেন করোনায় মারা যাওয়া প্রয়াত নেতা মাহমদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। জীবদ্দশায় প্রয়াত এমপি তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় একক কর্তৃত্ব ধরে রেখেছিলেন। তার নেতৃত্বে ফেঞ্চুগঞ্জে স্থাপিত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সার কারখানা। এ ছাড়া অবহেলিত এলাকাগুলোতেও দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। টানা ১২ বছরের এমপি থাকায় তিনি এলাকায় ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়। এ কারণে তার মৃত্যুর পর এ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী। প্রয়াত এমপি’র সমর্থকদের উৎসাহে তিনি আওয়ামী লীগের কাছে চেয়েছিলেন মনোনয়নও। ফারজানার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালও মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। শেষ মুহূর্তে সবাইকে টপকে হাবিবুর রহমান হাবিবই হলেন সিলেট-৩ আসনে নৌকার কাণ্ডারি। মনোনয়ন পাওয়ার পর হাবিবও বেশ সতর্ক। তিনি কোনো কোন্দল চান না। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলতে চান। এ কারণে মনোনয়ন প্রাপ্তি উৎসব না করতে তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। হাবিবের মনোনয়ন প্রাপ্তিতে খুশি দক্ষিণ সুরমাবাসী। দীর্ঘদিন পর দক্ষিণ সুরমায় আসছেন এমপি এমনটি ধরে নিয়েছেন এলাকার মানুষ। কারণ- হাবিবের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকের বাড়িও দক্ষিণ সুরমায়। ফলে উপনির্বাচনের আগেই ধারণা করা হচ্ছে- এবার এ আসনের উপনির্বাচনে মূল লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন হাবিব ও আতিক। দলীয় প্রতীকের এই নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থান থাকবে দু’জনের। আতিকুর রহমান আতিক নির্বাচনী রাজনীতিতে অনেক আগে থেকেই বিচরণ করছেন। কিন্তু সিলেট-৩ আসনে ভাগ্য তার সহায় হচ্ছিলো না। এলাকার রাজনীতিতেও তিনি সুবিধা করতে পারেননি। এ কারণে এবার তিনি দলের মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ করে সিলেট জেলা জাতীয় পার্টি, দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জের দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে মাঠে নামবেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর গতকাল জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান বিমানযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন। এ সময় বিমানবন্দরে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানান স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। পরে বিশাল গাড়িবহর ও মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা নিয়ে শাহজালাল (র.) মাজার ও শাহপরাণ (র.)-এর মাজার জিয়ারতে যান আতিক। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি প্রচারণায় নামার ঘোষণা দেন। এ সময় আতিকুর রহমান আতিক দলীয় নেতাকর্মীদের জানান- সিলেট-৩ আসন হচ্ছে জাতীয় পার্টির অন্যতম দুর্গ। এ আসনের মানুষ সবচেয়ে ভালোবাসে প্রয়াত পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। লাঙ্গল হচ্ছে এ আসনের মানুষের জনপ্রিয় মার্কা। ফলে দলের সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সিলেটের এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবে জাতীয় পার্টি। জনগণ তার পক্ষে রয়েছে বলে জানান আতিক। এদিকে- এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে ফাঁকা মাঠে ছাড় দিতে চাচ্ছেন না বিএনপি’র দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি দলগতভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন দলের এই কেন্দ্রীয় নেতা। তার ঘনিষ্ঠজন ও প্রেস সচিব রাজু আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন- শফি আহমদ চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরছেন। সিলেট এসে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। তার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করে তা পূরণ করে জমা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। শফি আহমদ চৌধুরী ২০০১ সালে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের কাছে পরাজিত হলেও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ