সিলেটে লোভাছড়া কোয়ারিতে পাথর জব্দের এখতিয়ার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের-খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো

প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২০

সিলেটে লোভাছড়া কোয়ারিতে পাথর জব্দের এখতিয়ার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের-খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো

বিশেষ প্রতিনিধি

সিলেটের লোভাছড়া নদীর তীরে জমাকৃত পাথর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককৃত জব্দ ও নিলামের সিদ্ধান্ত এখতিয়ার বহির্ভূত বলে জানিয়েছে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)। সম্প্রতি ওই এলাকায় একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও ব্যবসায়ীদের পাথর অপসারণে বাধার অভিযোগে বিএমডির একটি সরেজমিন তদন্ত দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখতিয়ার বহির্ভূতর কথা জানায় এই দপ্তর।

রোববার (১৩ আগস্ট) বিএমডি-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো: জাফর উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘লোভাছড়া পাথর কোয়ারি হতে শুষ্ক মৌসুমে পাথর উত্তোলন হলেও যোগাযোগের কোনো রাস্তা না থাকায় কেবল বর্ষাকালে নদীতে পানি থাকাকালীন সময়ে ট্রলারযোগে পাথর পরিবহণ ও অপসারণ করা হয়। বর্তমানে সেখানে যে পাথর রয়েছে তা ইজারাকালীন মেয়াদের মধ্যেই ইজারাদারের নিকট থেকে বৈধভাবে ব্যবসায়ীরা ক্রয় করেছেন। তবে করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসায়ীরা যথাসময়ে তা অপসারণ করতে পারেননি। পরবর্তিতে স্তুপাকারে মুজদকৃত পাথর সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জব্দপূর্বক উন্মুক্ত নিলামে বিক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করায় আদালতে ছয়টি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।

দায়েরকৃত মামলাসমূহে ক্রয়কৃত ও মজুদকৃত পাথর অপসারণের সুযোগ প্রদানের আদেশ রয়েছে’। চিঠিতে আরো বলা হয়, পাথর একটি খনিজ সম্পদ হওয়ায় সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক কর্তৃক লোভাছড়া নদীর দুই তীরে জমাকৃত পাথর জব্দ ও পরিমাপক্রমে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এবং খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা, ২০১২ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও এখতিয়ার বহির্ভূত’।

এর আগে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর উপপরিচালক মো: মামুনুর রশীদ ও সহকারী পরিচালক (ভূ-পদার্থ) মো: মাহফুজুর রহমান লোভাছড়া পাথর কোয়ারি এলাকায় গিয়ে ব্যবসায়ী, সাধারণ জনগণ ও কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনের পরই মো: জাফর উল্লাহ স্বাক্ষরিত উল্লেখিত চিঠি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বরাবর প্রেরণ করা হয়।

এদিকে ৯ আগস্ট একই কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে এক চিঠিতে বলা হয়, ‘খনিজ সম্পদ এলাকায় যদি কেউ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে তাহলে জড়িতদের সনাক্তকরণপূর্বক স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিতকরণ এবং উক্তরূপ কাজে লিপ্ত থাকা ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা বা এখতিয়ার বিএমডির উপর ন্যস্ত’। চিঠিতে এ সংক্রান্ত কিছু বিএমডির মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়।
সুত্র : দৈনিক সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ