সিলেটে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নবিরোধী ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০

সিলেটে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নবিরোধী ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক :: সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সিলেটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন।

বিকাল ৩ টায় গণসঙ্গীতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। দ্ব্যার্থকন্ঠে “চিৎকার করো মেয়ে” এ গানটি গাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদমুখর আন্দোলনে আলাদা মাত্রা যোগ হয়। ধারাবাহিকভাবে কবিতা আবৃত্তির পরপর শুরু হয় প্লানচেট বিতর্ক। প্লানচেট বিতর্কে ধর্ষিতা, ধর্ষক, ধর্ষিতার বাবা এবং ফুলন দেবীর প্রতিকী আত্মার পরিবেশনা ছিলো।

বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমাজের অগোচরে থাকা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যা সাধারণ মানুষের আত্মার আক্ষেপ। যা প্রতিবাদী কন্ঠে সাধারণ মানুষরাও চিৎকার করে বলতে চায়, কিন্তু তাদের কণ্ঠ বেড়াজালে বাঁধা পড়ে।

কর্মসূচির অন্যতম ধ্রুপদি পরিবেশনা ছিলো পথনাটক। নাটকটিতে তুলে ধরা হয় একজন নারীর শিশুকাল থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত লাঞ্ছনা সহ্য করার ইতিহাস। এক ছোট্ট মেয়ের বাইরে খেলতে না যেতে পারার আকুতি থেকে আত্মীয়ের কাছে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার গল্প উঠে আসে। উঠে আসে রক্ষণশীল পরিবারের মায়েরা কী করে তাদের কন্যাসন্তানের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করেন, সহ্য করতে শেখান।

একটা ছোট্ট শিশুর কিশোরবেলার অনিরাপদ জীবন আর সে জীবনের সাথে মানিয়ে চলার অসহনীয় যন্ত্রনার কথাও নাটকে উঠে আসে। আরো দেখানো হয়, কীভাবে একটি ছোট্ট শিশুর ছেলেবেলা কাটে ছেলে-মেয়ের পার্থক্য বুঝতে বুঝতে। মেয়েদেরকে কোণঠাসা করে গৃহবন্দী করে পুরুষ সমাজ কীভাবে নিজেদের পৌরুষের প্রমাণ দেয় তাও উঠে আসে নাটকে।

নাটকে আলোড়ন তুলে, কীভাবে একটি ছেলেকে মেয়েদের অসম্মান করতে গেলে পরিবার থেকে বাধা দেয়া হয় না। কিশোরীর ভাইটিও যে দিনে দিনে নিপীড়কে পরিণত হয়, পরিণত করা হয়- নাটকটি তা সমাজে একটি কড়া বার্তা দেয়। বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে নারীর যন্ত্রণা, অসহায়ত্বের করুণ চিত্র ফুঁটিয়ে তোলা হয় নাটিকায়। সবশেষে এতসব লাঞ্চনা সহ্য করে নিপীড়িতা নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়।

ভিন্নধর্মী এই আয়োজন নিয়ে আয়োজকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, “ক্রমাগত নারীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠা একটি সমাজে এখনই পরিবর্তনের আওয়াজ না তুললে মধ্যযুগের বর্বর সমাজেই আবার আমাদের ফিরে যেতে হবে। তাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য- সমাজের মানুষের কাছে এই সচেতনতাটুকু তৈরি করা।

সবশেষে একটি মশাল মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্লোগানে মুখরিত করে তুলেন নগরীর রাস্তা। স্লোগানের স্লোগানে তারা তীব্রকণ্ঠে ধর্ষকদের শাস্তির দাবি জানায়।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ