সিলেটে সহকারীর স্ত্রীকে কুপ্রস্তাবের পর অপহরণ করলেন বাবুর্চি

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১

সিলেটে সহকারীর স্ত্রীকে কুপ্রস্তাবের পর অপহরণ করলেন বাবুর্চি

 

অনলাইন নউিজ ডক্সে :: সিলেট নগরের শিবগঞ্জ খরাদিপাড়ায় এক বাবুর্চি সহকারীর স্ত্রীকে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেন সিলেট মহানগর বাবুর্চি সমিতির সদস্য মো. শাহাব উদ্দিন। তাঁর এমন আচরণের প্রতিবাদে সহকারীর কাজ ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ বাবুর্চি শাহাব উদ্দিন তার সহকারী মো. শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে অপহরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ স্ত্রীকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে শহরতলির পূর্ব ইসলামপুরস্থ শাহাব উদ্দিনের ১০৮ নম্বর বাসায় ডেকে নিয়ে শফিকুলকে বেধরক মারধর এবং বাসার ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন নগরের শিবগঞ্জ খরাদিপাড়া ৭৯ নম্বর বাসার মো. শফিকুল ইসলামের পিতা মো.লায়েক শেখ।

বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লায়েক শেখের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর ছেলে বাবুর্চি শাহাব উদ্দিনের নির্যাতনের শিকার বাবুর্চি সহকারী মো. শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. লায়েক শেখ বলেন, আমার ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম সিলেট মহানগর বাবুর্চি সমিতির সদস্য, সিলেট শহরতলির পূর্ব ইসলামপুর ১০৮ নম্বর বাসার শাহাব উদ্দিন বাবুর্চি সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলো। কাজের সুবাদে বাবুর্চি শাহাব উদ্দিন আমার ছেলে শফিকুলের বাসায় আসা যাওয়া করতেন। এর মধ্যে শাহাব উদ্দিনের কুনজর পড়ে আমার পুত্রবধূর ওপর। বিভিন্ন সময় তাকে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতে থাকে শাহাব উদ্দিন। বিষয়টি আমার ছেলে শফিকুলের নজরে আসলে সে তৎক্ষণাৎ শাহাব উদ্দিন বাবুর্চিকে কাজ করবে না বলে জানিয়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শাহাব উদ্দিন আমার ছেলেকে হুমকি-ধামকি প্রদান করেন। এ সময় স্ত্রী সন্তানকে তুলে নেওয়ারও হুমকি দেয় শাহাব উদ্দিন বাবুর্চি।

তিনি আরও বলেন, গত ২০ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে শফিকুল ইসলাম স্ত্রী-সন্তানদের বাসায় রেখে জুমআর নামাজে যান। নামাজ থেকে বাসায় ফিরে তাঁর ২৮ বছর বয়সি স্ত্রী ও তিন বছর বয়সি মেয়েকে খুঁজে পায়নি। এ ঘটনায় শফিকুল ২২ আগস্ট সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় তার স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়রি করে। যার নাম্বার ১০৭৫। পুত্রবধূ নিখোঁজ হওয়ার সময় দেড় লাখ টাকা মুল্যের স্বর্ণের চেইন এবং কানের দুল, মোবাইল ফোন ইত্যাদি খোয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে লায়েক আরও উল্লেখ্য করেন- আমার পূত্রবধূ ও নাতনি নিখোঁজের পর আমার ছেলের বাসায় শাহাব উদ্দিন বাবুর্চি ও তার স্ত্রী সাহেদা বেগম গিয়ে শফিকুলকে বলে, ‘তুমি চিন্তা করো না, তোমার স্ত্রী যে জায়গায় আছে, সেখানে ভালই আছে। সে একজন পুলিশ অফিসারের কাছে আছে। তৎক্ষণাৎ আমার ছেলে জিজ্ঞাসা করে আমার স্ত্রী কোথায় আর তুমি কিভাবে জানলে? শাহাব উদ্দিন ও তার স্ত্রী কোন উত্তর না দিয়ে চলে যান। গত ৭ সেপ্টেম্বর শাহাব উদ্দিন বাবুর্চির বন্ধু কামাল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কৌশলে শফিকুলের স্ত্রী শাহাব উদ্দিন বাবুর্চির বাসায় রয়েছে বলে তাকে ডেকে নেয়। তাদের বাসায় যাওয়ার পর আমার ছেলে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং পকেটে থাকা নগদ টাকা এবং আরো জরুরি কাগজপত্র হাতিয়ে নেয়। পরে সজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে টেনেহিঁচড়ে বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেয় শাহাব উদ্দিন ও তার সহযোগিরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শফিকুলকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে শফিকুল বাসায় চিকিৎসাধীন।

তিনি বলেন, এ ঘটনার পর থেকে শাহাব উদ্দিন বাবুর্চি ও তার স্ত্রী এবং সহযোগিরা আমাকে এবং আমার ছেলেকে মামলা না করতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমার ছেলে এবং আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ অবস্থায় পুত্রবধূ ও নাতনিকে উদ্ধার এবং অপহরক শাহাব উদ্দিন বাবুর্চিসহ তার সহযোগিদের গ্রেফতারে লায়েক শেখ সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার ও র‌্যাব-৯ এর অধিনায়কের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ