সিলেটে হেলে-দুলে চলছে গাড়ি

প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২১

সিলেটে হেলে-দুলে চলছে গাড়ি

অনলাইন ডেস্ক

মশাহিদ আলী : সিলেট নগরীর নাইওরপুল-শিবগঞ্জ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন বেসরকারি চাকরিজীবী নাসিরী। কর্মস্থল উপশহরে থাকায় প্রতিদিন সকালে অফিসের কাজে যেতে হয় শিবগঞ্জে।কিন্তু কয়েক মাস ধরে এই সড়কের বেহাল অবস্থা থাকায় এখন আর এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন না। ভাড়া বেশি দিয়ে সোহানীঘাট হয়ে যাওয়া আসা করেন তিনি।

নাসিরী বলেন,প্রতিদিন সকাল-বিকেলে অফিসের কাজে এই সড়ক দিয়ে যাওয়া আসা করতে হয়। এখন যে অবস্থা শুরু হয়েছে এই সড়ক দিয়ে যাওয়া আসা করলে যেকোনো সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে যাবে। তারপর সময়-অসময়ে এখানে যানজট লেগে থাকে।তাই বাধ্য হয়ে এখন বেশি ভাড়া দিয়ে সোবহানীঘাট হয়ে অফিসে যাতায়াত করি।

শুধু নগরীর নাইওরপুল-শিবগঞ্জ সড়কের যে এই অবস্থা তা কিন্তু নয়। একই অবস্থা রয়েছে নগরীর আম্বরখানা-টিলাগড় সড়ক, নয়াসড়ক-শাহী ঈদগাহ সড়ক ও ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই রোড। নগরীর গুরুত্বপূর্ন তিনটি সড়কের এখন বেহাল দশা। কাজের দোহাই দিয়ে কিছুদিন পরপর রাস্তার পাশ দিয়ে খুড়াখুড়ির করে সিলেট সিটি করপোরেশন। ড্রেনেজের কাজ করলেও সড়কের কাজ নিয়ে শুরু হয় সওজের সাথে সিসিকের কাঁদা ছড়াছড়ি। সড়কগুলোর মধ্যে তিনটির দায়িত্ব হলো সিলেট সড়ক ও জনপদ বিভাগের। আর একটি মাত্র সড়ক সিসিকের বলে দাবি করছেন কর্মকর্তারা। তবে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কারের কাজ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে জানান সিসিকের কর্মকর্তা।

সরেজমিনে ওই এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের পিচ উঠে গেছে। খানাখন্দে ভরা সড়কগুলোতে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে হেলে-দুলে গাড়িগুলো চলছে। শুকনো মৌসুমে দিনের বেলায় এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। যে কারণে প্রতিদিনই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। তাছাড়া সড়কে সংস্কার না থাকায় আশপাশের দোকানগুলোতে ধুলায় ভরে যাচ্ছে। দোকানিরা তাদের মালামালও কিছু সময় পরপর মুছে রাখছেন।

জিন্দাবাজার থেকে মিরাবাজার রিকশায় যাচ্ছিলেন আলম মিয়া। কিছু রাস্তা যেতে হঠাৎ করে গর্তে পড়ে রিকশা । অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রাক্ষা পান তিনি। আলম মিয়া বলেন, কি বলবো যে অব্স্থা সড়কের। কোন সময় কি হয়ে যায় বলা যায় না। আসার সময় রিকশা থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিলাম আল্লাহ রক্ষা করছেন। আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে টিলাগড় পর্যন্ত সড়কের অবস্থা নাজেহাল।

জানা যায়, কয়েক বছর ধরে সংস্কারহীন রয়েছে সড়কটি। প্রতিদিন শতশত গাড়ি যাওয়া আসা করলেও ভাঙাচোড়া রাস্তার দিকে যেনো চোখ পড়ে না উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। নগরীর ব্যস্তম আরেকটি সড়ক হচ্ছে তামাবিলমুখী নাইওরপুল-শিবগঞ্জ সড়ক। শিবগঞ্জ বাজার থেকে আরসিসি ঢালাই থাকলেও পরবর্তী সময়ে বিটুমিন দিয়ে (ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট) সংস্কার করা হয়। বর্তমানে দুই পাশে আরসিসি বক্স-কালভার্ট নির্মাণ করে সড়কটি সম্প্রসারণ করেছে সিসিক। সিসিক কাজের প্রয়োজনে সড়কের দুই পাশে ও মধ্যখানে একাধিক স্থানে গর্তও করে। কিন্তু পরে তা আর সংস্কার করা হয়নি। ফলে শিবগঞ্জ ও মিরাবাজার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই অবস্থা আম্বরখানা-সাপ্লাই রোড। রাস্তার পাশে ড্রেনের কাজ করতে গিয়ে সড়কের মধ্যে গর্ত করা হয় এখনো সেখানে কাজ চলছে।

ওই সড়কে চলাচলকারী বাস চালক শরিফুল ইসলাম জানান, ঝুঁকি নিয়ে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। বাসে যাত্রী নিয়ে হেলে-দুলে পথ চলা যায় না। তারপরও উপায়ন্তর না পেয়ে তাদের চলতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভাঙা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে গাড়ি ও সময়ের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো প্রতিনিয়ত বিকল হয়ে পড়ছে।

দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা অটোরিকশা চালক আলমগীর বলেন, সারা বছর শুধু জোড়াতালি দির । কয়দিন পরপর রাস্তা ভাঙিয়া যায়গি। তাইন তাইন (মেয়র) তো উচাগাড়িয়ে যাইন কুন্তা বুঝা যায় না। আমরার লাখান সারাদিন গাড়ি অতা রাস্তাত চালাউকা দেখবা নে কিলা লাগে। দুইদিন পরপর গাড়ির মিকার দেখা নি লাগে। ইতা টেখা পাইতাম কই?

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, ‘সড়কগুলোর পাশে সিসিকের কাজ চলছে।সেগুলোর কাজ শেষ হয়ে গেলে তারাই সড়ক সংস্কার করে দিবে। সড়কগুলো আমাদের দায়িত্বে ঠিক আছে। তাদের কাছে আমরা অনাদিপত্র দিয়েছি। ড্রেনের কাজ শেষ হয়ে গেলেই তারা রাস্তার কাজ করে দিবে।

এবিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আলী আকবর বলেন, সড়গুলোর দায়িত্বে সওজ। আম্বরখানো থেকে শাহী ঈদগাহ বেশির ভাগ রাস্তা সওজের।নগরীর ভিতরে থাকায় আমরা রাস্তাগুলো নিয়ে একটা পরিকল্পনা করি। রাস্তার পাশে ড্রেনের কাজ আমরা করছি। কোথাও ভাঙাচোড়া, কোথাও সেলফ নেই। মানুষের সুবিধার জন্য আমরা এগুলো সংস্কার করে দিচ্ছি। সংস্কার করতে গিয়ে ইলেক্ট্রিকের লাইন,গ্যাসের লাইন,পানির লাইনসহ বিভিন্ন লাইন থাকায় আরও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেগুলো সরিয়ে নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে আরসিসি ঢালাই করে দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি ড্রেনের কাজ শেষ হয়ে গেলে রাস্তার কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন,আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নগরীর সড়গুলোর কাজ শেষ হয়ে যাবে ও নাইওরপুল-শিবগঞ্জ সড়কের কাজ এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ