সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে নিম্নমানের খাবার দিয়ে দ্বিগুণমূল্য

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে নিম্নমানের খাবার দিয়ে দ্বিগুণমূল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট এমএজি ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর। বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের যাত্রী সেবা নিয়ে নেই কোন প্রশ্ন। সেবা পাচ্ছেন যাত্রীরা যতেষ্ঠ। তবে হয়রানীতে শিকার হচ্ছে বিভিন্ন দোকান ও রেস্টুরেন্ট মালিক-কর্মচারীর কাছে। সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই সকল দোকান ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করছেন যাত্রীদের। বিমানবন্দরে প্রবেশের পর বাহিরে বের হতে যাত্রীদের প্রায় ১ থেকে ২ কিলোমিটার রাস্তা অতিবাহিত করতে হয়। আর সেই সুযোগ গ্রহণ করেন বিমান বন্দরের কিছু অসাধু দোকান ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা।

বিমানবন্দরের প্রথম গেইটের ভিতরে মূল গেইটের একটু দূরে অবস্থিত ওয়েল ফেয়ার মার্কেট। এই মার্কেটের রয়েছে দুটি রেস্টুরেন্ট ও কয়েকটি নিত্য প্রয়োজনী জিনিস পত্রের দোকান। অশ্চর্য্যরে বিষয় হচ্ছে এই মার্কেটের রেস্টুরেন্ট ও দোকান গুলোতে জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুন হারে নেওয়া হচ্ছে বিমান যাত্রী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই মার্কেটের পিছনে রয়েছে একটি পাবলিক টয়েলেট যা তৈরি করেছেন বিমান কর্তৃপক্ষ। অব্যশ মার্কেটিও বিমান কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। বাথরুমের দৃশ্য দেখলে মনে হবে আমরা যে সিলেটের ময়লা ফেলার স্থপ পারাইচকের আছি। বাথরুমে প্রশ্রাব করতে গিয়ে বিমান বন্দরে এক যাত্রীর স্বজন বমি করে ফেলেন। আর দূরগন্ধে আশে পাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বাথরুমের আশাপাশে এমন ভাবে জঙ্গল লেগেছে যাতে ভয়পান যাত্রী ও যাত্রীদের স্বজনরা। এই বিষয়ে উক্ত মার্কেটের কোন নজরদারি নেই অথচ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় করের কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

যাত্রীদের বিদায় দিতে এসে যা যাতে সমস্য না পড়তে হয় সে কথা চিন্তা করে দোকান ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা যা চান তা দিয়েদেন যাত্রী ও তার স্বজনরা। আবার আসুন একটু জেনে নেই সরজমিন জিনিসপত্রে দামের কথা। সোমবার রাত ৭.৪৫ মিনিটে যাত্রী বিমান যোগে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমান বন্দর থেকে ত্যাগ করবেন। যাত্রীকে নিয়ে প্রায় ২ ঘন্টা পূর্বে বিমান বন্দরে পৌছান স্বজনরা। চা বা কফি খাবেন তারা। তখনি যান ওয়েল ফেয়ার মার্কেটে সামনে সেখানে যাওয়ার পার অন্য দৃশ্য। তাদের বিভিন্ন ভাবে রেস্টুরেন্টে নিতে ডাকছেন কর্মচারীরা। এমন অবস্থায় লন্ডন রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেন যাত্রীদের স্বজন। কোন কিছু না বলে বসে তারা চা ও কফির জন্য বলেন। কফি-চা ও কোকাকোলা খান তারা। কফি ও চায়ের অবস্থা এতই নাজুক যা ভাষায় প্রকাশ করা মত নয়। বিল দিতে রেস্টুরেন্টের কাউন্টারে এলে কর্তৃপক্ষ জানান বিল হয়েছে ৫৭০ টাকা।

কোকাকোলার গায়ে লেখা ৪০ টাকা লেখা রেস্টুরেন্ট রেখেছেন ৫০ টাকা, ২০ টাকা মূল্যের কফির দাম ৪০ টাকা, ৬ টাকা মূল্যের সিঙ্গারা দিগুণ, ৫টাকা মূল্যের কেকেও দিগুণ দাম দরে বিল বলেন। তখন রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিল চাইলে তারা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নিয়ে যানতে চাইলে কর্মচারী জানান তারা এই সব জিনিসের আলাদা করে কর প্রদান করেন সরকারকে। কোকাকোলার কেন বিদেশ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সরকারকে কর দিয়ে প্রবেশ করে এই কথা বলার পর কর্মচারী বলেন আলাদা করে প্রতি কেন কোকাকোলার জন্য তাদের ১০ টাকা হারে সরকারকে কর প্রদান করতে হয়।

লন্ডন রেস্টুরেন্ট মালিক আব্দুল করিম সাথে বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এধরনের হওয়ার নয়। কর্মচারীরা আমার প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে এধরনের কাজ করেছে। আমি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বাথরুমের নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি মাঝে মধ্যে লোক দিয়ে পরিস্কার করাই ইদানিং তা পরিস্কার করাতে পারিনি। তবে বাথরুম পরিস্কারের দায়িত্বে বিমান কর্তৃপক্ষের।

এই বিষয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদের ব্যবহারিত মুঠোফোন আলাপকালে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে প্রতিবেদক জানান। তবে বিষয়টি তিনি ক্ষতিয়ে দেখবেন। বাথরুমের বিষয়ে তিনি বলেন, বাথরুমটি মার্কেট কর্তৃপক্ষের সেক্ষেত্রে পরিস্কার রাখার দায়িত্বে তাদের উপর।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ