সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে আসছে নুতন নেতৃত্ব

প্রকাশিত: ১১:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৯

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে আসছে নুতন নেতৃত্ব

মো. নুরুল ইসলাম :: নুতন নেতৃত্ব আসছে সিলেট নগর আওয়ামী লীগে। ভাগ্য খুলছে কামরান ও আসাদের আর কপাল পুড়ছে নাহিদ ও মিসবাহ সিরাজের। আগামী ৩০ নভেম্বর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারন হওয়ায় ঘোষনা হওয়া মাত্র নগর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের আলোচনা সর গরম। কে হচ্ছেন আগামী দিনের নগর আওয়ামী লীগের নেতা। সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবনেতারা নগর কমিটিতে স্থান নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। শুরু হয়ে গেছে উল্লাস। বর্তমান সভাপতি বদর উদ্দিন কামরান ও সাধারন সম্পাদক আসাদ উদ্দিনের নেতৃত্ত্বে একটি সফল সম্মেলন হবে দলীয় কর্মীদের ভাবনা। গত বৃহস্পতিবার নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটি’র সভায় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারন হয়। এ সংবাদ পেয়ে মাত্র দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছাস দেখা যায়।
আগামী সম্মেলনে বর্তমান সভাপতি, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরান ও সাধারন সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আর থাকছেন না রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে। সফল সম্মেলন করে দুই শীর্ষ নেতা বিদায় নেবেন। দলের একাধিক সূত্র জানায় ভাগ্য খুলছে নগর আওয়ামী লীগের দুই নেতা কামরান ও আসাদ উদ্দিনের। আগামী জাতীয় সম্মেলনে কামরান ও আসাদ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্বে ভাল স্থান পাবেন। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হতে পারেন আর আসাদ উদ্দিন সাংগঠনিক সম্পাদক হতে পারেন। বিগত দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে কামরান এবং আসাদ উদ্দিনের কর্ম দক্ষতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সন্তুষ্টি করেছে।
এদিকে আবার দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের কপাল পুড়তে পারে। বর্তমান এই দুই কেন্দ্রীয় নেতা নানা কারনে সমালোচিত হয়েছেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক স্পীকার মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম শাহ এস এম কিবরীয়া, সাবেক মন্ত্রী মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজী, সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের মৃত্যুর পর অভিবাবকশূন্য হয়ে পড়ে সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগ। সঠিক নেতৃত্ত্বের অভাবে বিগত সিসিক, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়। দলে কোন্দল, মত বিরোধ বেড়ে যায়। বিদ্রোহী প্রার্থী কাল হয়ে দাঁড়ায় বিভিন্ন নির্বাচনে।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সিলেট বিভাগে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিগত দিন অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। এমনকি তার নির্বাচনী এলাকা বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জে দলের সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক। ২০০৩ সালে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। বিগত ১৭ বছরে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগের একই অবস্থা। শুধু মাত্র নাহিদ বিরোধী স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাংগঠনিক দিকে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগ উপজেলা সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আবার গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি ১৬ বছর ধরে। ২০০৪ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। এ উপজেলায় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের একই অবস্থা। দুই উপজেলায় সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক হওয়ায় দলীয় সাধারন নেতা কর্মীরা হতাশ। নাহিদের ভূমিকা ধরি মাছ না ছুই পানি। নাহিদের কারণে সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক পরিস্থিতিতে বিরাজ করছে। তাকে ঘিরে গড়া সিন্ডিকেট নাহিদের জন্য কাল হচ্ছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের বিরুদ্ধে গত সিসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী কামরানের পরাজয়ের দায়ভার পড়ে। এমনকি তিনি কেন্দ্রীয় ভাবে শোকোজ প্রাপ্ত হন। এছাড়া সাম্প্রতিককালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে এক অনুষ্টানে সিলেটের উন্নয়নে বিএনপি নেতা মেয়র আরিফের সূরে কথা বলায় আর আরিফ কানেকশনে বিব্রত হন দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রথমে তাকে সিলেট বিভাগের দায়িত্ত্বে থাকলে পরবর্তীতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
জানা যায় আগামী সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সম্মেলনে গ্রুপ রাজনীতীর অবসান হচ্ছে। যারা দলের মধ্যে গ্রুপ রাজনীতি করেছেন তাদের কে চিহৃত করা হচ্ছে। আর ব্যাকেট বন্দি আওয়ামী লীগ থাকবেনা। বিগত ১০ বছরে সিলেটে গ্রুপ রাজনীতীর কারণে বেশ হত্যাকান্ড হয়েছে। তাতে বিব্রত আওয়ামী লীগ।
জানা যায়, এবারের সম্মেলনে সভাপতি ও সম্পাদক যারা হবেন তাদের ক্লীন ইমেজ থাকতে হবে। সভাপতি পদে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ সভাপতি এডভোকেট রাজ উদ্দিন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক কাউন্সিলর ফয়জুল আনোয়ার আলাওর, সাধারন সম্পাদক পদে আলোচিত হচ্ছে বর্তমান যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এটি এম হাসান জেবুল।
আলোচিত প্রার্থীরা বলছেন নেত্রী দায়িত্ব দিলে দায়িত্ব পালন করবেন। বিভিন্ন সূত্র মতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি টিম প্রার্থীদেরকে নজরদারীর ভিতরে রেখেছেন। তাদের জীবন বৃত্তান্ত নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। গোয়েন্দা রির্পোট সংগ্রহ করতে পারেন। তবে প্রধানমন্ত্রী, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপর নির্ভর করছে কে হচ্ছেন আগামী দিনের সিলেট নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদক। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভীত মজবুত করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ