সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচন : কঠোর লকডাউনে ১-৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা নিষিদ্ধ

প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২১

সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচন :  কঠোর লকডাউনে ১-৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা নিষিদ্ধ

ডেস্ক

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের আলোচনা যখন ঘর থেকে বাজার পর্যন্ত, ঠিক তখন সারা দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রার্থীেদের পক্ষে ১ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত গণজমায়েত করে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো বা নির্বাচনি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না।

এ বিষয়ক একটি পরিপত্র আজ সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে এসে পৌঁছেছে। বিষয়টি সোমবার (২৮ জুন) নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহা. ইসরাইল হোসেন।

তিনি বলেন, আজ (সোমবার) সংশোধিত একটি পরিপত্র আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। সেই পরিপত্র অনুযায়ী আগামী ১ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থীদের পক্ষে গণজমায়েত করে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালানো যাবে না। তিনি জানান, ৮ তারিখ থেকে করা যাবে কি যাবে না- সেটি কমিশন পরবর্তীতে আমাদেরকে জানাবে।অপর এক প্রশ্নের জবাবে মোহা. ইসরাইল হোসেন বলেন, কঠোর লকডাউনকালীন নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রার্থী বা তাদের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে এই ৭ দিন আমাদেরকে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে। তবে ৮ জুলাইন থেকে আলাদা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হবে।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সোমবার (২৮ জুন) থেকে ‘সীমিত’ ও আগামী বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে সারা দেশে ‘কঠোর’ লকডাউন জারি করা হয়েছে। এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

এদিকে, সিলেটেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস। গত ২৪ ঘণ্টা ছাড়া এর আগের টানা ৪ দিনে সিলেটে করোনা কেড়ে নিয়েছে ১৫ জনের প্রাণ। প্রায় প্রতিদিনই করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন দুই শতাধিক নারী-পুরুষ। এ অবস্থায়

উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনের এমপি আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী চলতি বছরের ১১ মার্চ করোনায় সংক্রমিত অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। এরপর ১৫ মার্চ এটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

আগামী ২৮ জুলাই মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর আসনে ইভিএম পদ্ধতিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ও ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি।

সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচনে ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া।

তবে ফাহমিদা হোসেন লুমা এবং শেখ জাহেদুর রহমান মাসুম নামে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও মনোনয়নে ভোটারদের তথ্য যথাযথ না পাওয়ায় ফাহমিদা ও মাসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

বহাল থাকা ৪ প্রার্থীর প্রার্থীর মধ্যে গত শুক্রবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।

প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব নৌকা, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক লাঙ্গল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক বিএনপি নেতা শফি আহমদ চৌধুরী মোটরগাড়ি (কার) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ডাব প্রতীক পেয়েছেন। এর মধ্যে শফি আহমদ চৌধুরী ছাড়া বাকি ৩ জন পেয়েছেন দলীয় প্রতীক।

প্রতীক পেয়েই আসনজুড়ে চষে বেড়াচ্ছেন সকল প্রার্থী। করোনাকালীন পরিস্থিতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েত করে প্রার্থীদের সমর্থক-কর্মীরা করছেন মিছিল-সমাবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউন। এতে সিলেটে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
27282930   
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ