সীমান্তে সংঘর্ষ নিয়ে চীন-ভারত যা বলছে

প্রকাশিত: ১১:৩৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

সীমান্তে সংঘর্ষ নিয়ে চীন-ভারত যা বলছে

অনলাইন ডেস্ক :; লাদাখের গালোয়ান উপত্যাকায় চীন-ভারতের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষ নিয়ে দুই দেশের কূটনৈকিতরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। এ সংঘর্ষের জন্য তারা একে অন্যকে দায়ী করছেন। সোমবার রাতে হওয়া সংঘর্ষে ভারতীয় ২০ সেনা নিহতের দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া অসমর্থিত সূত্রে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে, চীনের ৪০ সেনা নিহত হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়সংঙ্কর দাবি করেন, চীন ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেরত একটি কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছিল, অপরদিকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ভারতীয় সেনারা প্রথমে আক্রমণ করেছিল।

উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। এতে উভয় দেশ ফের সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

খবরে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর পর সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। কোনো রকম গুলি বিনিময় ছাড়া, কাঠে লাগানো কাটাতার ও লাঠি ব্যবহার করা হয়েছিল।

সংঘর্ষের পর চীন কোনো হতাহতের খবর প্রকাশ করেনি। তবে অসমর্থিত সূত্রে ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, চীনের ৪০ সেনা নিহত হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বাস করা হচ্ছে, ২০ সেনা নিহত ছাড়াও কিছু ভারতীয় সেনা নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে সোমবার গালোয়ানের ঘটনায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিভিশনে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে সংঘর্ষে আমাদের সেনারা নিহত হয়েছে বলে দেশ গর্ব করবে। আমি জাতিকে নিশ্চিত করতে চাই যে আমাদের জওয়ানদের বলিদান বৃথা যাবে না। আমাদের জন্য ঐক্য ও দেশের স্বার্বভৌত্ত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

দুই দেশের কূটনৈতিকরা কী বলছেন?

ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে টেলিফোনে আলোচনার সময় দাবি করা হয়েছে, কৌশলগত গালোয়ান উপত্যাকায় চীনা সেনবাহিনী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রকৃত সীমানার মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণে চেষ্টা করেছিল।
এটিকে পরিকল্পতি পদক্ষেপ হিসেবে ভারতের পক্ষ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে। যার ফলস্বরুপ সংঘর্ষ ও হতাহতে ঘটনা ঘটেছে। এর জন্য চীনকে দায়ী করে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে চীনা বিবৃতিতে ভারতের দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, চীন পুনরায় ভারতের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ভারতীয় পক্ষের কাছে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করার দাবি করছে। একই ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য সব রকমের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষেরই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করা উচিত এবং সীমান্ত নিরাপদ ও শান্ত রাখা উচিত।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ