সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সমাধান চান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২১

সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সমাধান চান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও সমস্যার বাস্তব সমাধানে কাজ করার কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা একমত হয়েছি, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই দুঃখজনক। কিন্তু আমরা নিজেদের প্রশ্ন করেছি, সমস্যার মূল কারণ কি? এবং এটি হচ্ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। আমাদের দুইপক্ষের লক্ষ্য হওয়া উচিত অপরাধবিহীন সীমান্ত, যাতে করে হত্যাকাণ্ড না হয়। আমার ধারণা, আমরা দুইপক্ষ এই সমস্যার সমাধান করতে পারব।

ঢাকায় পৌঁছানোর পর আজ বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) সকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, কানেক্টিভিটি হচ্ছে উৎপাদনশীলতা। যদি আমরা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কানেক্টিভিটি ঠিক রাখতে পারি, তবে এই অঞ্চলের সামগ্রিক ভূ-অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসবে। এক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগর খুব কার্যকর। আমরা দুইপক্ষই বিশ্বাস করি এটি করা সম্ভব।’

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পানি নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই পানি সচিব পর্যায়ের বৈঠক হবে।

জয়শঙ্কর আরও বলেন, সফরের অনেকগুলো উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর উপলক্ষ্যে আমি এসেছি। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এটি হবে তার (মোদি) প্রথম বিদেশ সফর।

তিনি বলেন, আমরা জানি যে এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি বছর। কারণ উভয় দেশ মুজিববর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পালন করছে। উল্লিখিত তিনটি বার্ষিকীর প্রতি আমরা যে গুরুত্ব আরোপ করেছি এবং সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের প্রতি আমাদের যে অপরিসীম সম্মান তা এতে প্রতিফলিত হয়। আমাদের সম্পর্ক গৎবাঁধা অংশীদারিত্বের ঊর্ধ্বে এবং আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের বন্ধন শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং প্রগতিশীল দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দু। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উভয়পক্ষই এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে, বিশেষত ২০১৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাথে আমাদের সম্পর্কের তাত্পর্য আমাদের ‘প্রতিবেশী প্রথমে’ এবং ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির জন্য ক্রমবর্ধমান প্রাসঙ্গিকতার মধ্যে নিহিত রয়েছে। আমরা বাংলাদেশকে কেবল দক্ষিণ এশিয়াতেই নয়, বিস্তৃত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও একটি মূল প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করি। আমাদের সম্পর্কের প্রতিটি অর্জন সমগ্র অঞ্চলকে প্রভাবিত করে। সবাই জানেন যে আমরা অন্যদের কাছে এই সম্পর্ককে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে উদ্ধৃত করি।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ