সুইপার কলোনীতে ২৪ ঘণ্টাই বিক্রি হচ্ছে মাদক, ঘটছে খুন-খারাপি

প্রকাশিত: 10:56 PM, November 8, 2019

সুইপার কলোনীতে ২৪ ঘণ্টাই বিক্রি হচ্ছে মাদক, ঘটছে খুন-খারাপি

রেজওয়ান আহমদ :: সিলেট নগরীর কাষ্টঘর এলাকায় সুইপার কলোনীতে ২৪ ঘণ্টাই বিক্রি হচ্ছে মাদক। একদিকে মাদক ব্যবসা অন্যদিকে প্রকাশ্যে জুয়া খেলা ও মাদক সেবন হচ্ছে প্রতিদিন। জুয়া খেলা ও মাদক সেবন নিয়ে খুন-খারাপি ঘটছে সুইপার কলোনীতে। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা সুইপার কলোনীতে পাইকারি দামে মাদক ক্রয় করে মাদকসেবীদের কাছে খুচরা দামে বিক্রি করছে। আবার মাদকসেবীরা নিজেরাই এই স্থানটি থেকে মাদক কিনে নিরাপদে কলোনীর ভিতরে সেবন করছে।

মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের আনাঘোনায় নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। হাতের কাছে মাদক পেয়ে এলাকার যুবসমাজ আসক্ত হচ্ছে মাদকের প্রতি। প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে মাদক। এলাকার ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের আনাগোণায় ও মাদকসেবীরা রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করছে। যার কারণে অনেক সময় মাদক সেবন নিয়ে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটছে। ব্যবসায়ীরা মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভয়ে প্রতিবাদও করতে পারছেন না কেউ। সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকতে হয় কাষ্টঘর এলাকার ব্যবসায়ীদের।

কোতোয়ালী থানা থেকে মাত্র আধা কিলোমিটারের দূরত্ব হলেও পুলিশ প্রশাসনকে এই স্থানটিতে মাদক উদ্ধারে কোনো ধরনের জোরালো অভিযান করতে দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে মাদক কিনে নেওয়ার সময় দুই-একজনকে গ্রেফতার করা হয়। মূল ব্যবসায়ীরা থেকে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যার কারণে নিরাপদেই মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মাঝে মধ্যে র‌্যাব-৯ সুইপার কলোনীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করতে দেখা যায়।

অভিযোগ উঠেছে থানা-ফাঁড়ির কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই নিরাপদে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। যার বিনিময়ে প্রতিদিন বা মাসোহারা হিসেবে টাকা পাচ্ছেন তারা। প্রতিদিন কাষ্টঘর সুইপার কলোনীতে লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক বেচাকেনা হচ্ছে। সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান জোরালো হলেও এই স্থানটিতে তেমনভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না।

নগরীর মধ্যে যে কয়টি মাদক আস্তানা রয়েছে তার মধ্যে সবচাইতে বড় আস্তানা হচ্ছে কাষ্টঘর সুইপার কলোনী। অথচ এই স্থানটি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের কাছে হয়ে উঠেছে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে। এই মাদক আস্তানা ঘিরে রয়েছে কোতয়ালী থানা, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি। তারপরও ২৪ ঘণ্টা মাদকব্যবসা হলেও মূল হোতারা থেকে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় মাদক সেবন করতে গিয়ে খুন হন এক যুবক। তাকে ছুঁরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিঞা।

কাষ্টঘর এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের কারণে আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছি না। সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। কখন তাদের মধ্যে মারামারি লেগে যায়। এই এলাকায় প্রতিদিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলাও যায় না। প্রতিবাদ করলে দল-বল নিয়ে হামলা চালায়। এই এলাকায় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের আতঙ্কের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। চুরি-ছিনতাই-রাহাজানি বৃদ্ধি পেয়েছে এলাকার মধ্যে। প্রশাসনের জোরালো অভিযান না থাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে এসএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, সুইপার কলোনীতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। গত বৃহস্পতিবার যে যুবক নেশা করতে গিয়ে খুন হয়েছে তার তদন্ত চলছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর হয়ে কাজ করছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ