সুনামগঞ্জে হাজার হাজার পর্যটকদের ভীড়ে মুখরিত শিমূল বাগান

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

সুনামগঞ্জে হাজার হাজার পর্যটকদের ভীড়ে মুখরিত শিমূল বাগান

সলমান চৌধুরী,অতিথি প্রতিবেদক :
প্রকৃতির নিয়মে শীত শেষে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। চারিদিকে শিমুল-পলাশের রক্তিম বর্ণের ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য। দেশের সবচেয়ে বড় শিমুল বাগান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাগান। বসন্তকালে এই শিমুল বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রিয়জনদের নিয়ে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। ষড় ঋতুর বাংলাদেশে বসন্তকাল যেন স্বার্থক হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীর তীরে। প্রতি বছরের মতো এবারো ঋতুরাজ বসন্তে এই শিমুল বাগানের তিন হাজার গাছ ছেয়ে গেছে লাল রঙের ফুলে ফুলে। প্রকৃতির এই অনন্য সুন্দর দৃশ্য প্রাণ ভরে উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসছেন সৌন্দর্য্য পিপাসু মানুষ।

প্রতি দিনই উৎসবের আমেজে লাল ফুলের রংয়েই সাজছে তরুণীরা। বাসন্তী রঙ্গের শাড়ি পড়ে খোঁপায় গুঁজেছে টকটকে লাল শিমুল ফুল, মাথায় টায়রা আর হাতে পড়েছে বিভিন্ন রং এর চুড়ি। বাসন্তী রং এর পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পরে এসেছে তরুণরাও শিমুল বাগানে। শিমুল ফুলের সৌন্দর্য্য আর পর্যটকদের পদভাড়ে মেতে উঠেছে বাগানের চারপাশ। ফাল্গুন মাস এসেছে কি না, তা বোঝার জন্য তাহিরপুরের প্রকৃতি রাজ্যে একটু দৃষ্টি ফেলতেই হবে। শীতের শীর্ণ পাতা ঝরা গাছের ডালে ডালে ফুলের এক অপূর্ব উন্মাদনা। বসন্তের আগমণে নিজ রূপে সেজে উঠেছে শিমুল ফুল। এবার গাছে গাছে এসেছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীর গতিময় বাতাস জানান দিচ্ছে নতুন লগ্নের বার্তা। তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রামে ২ হাজার ৪ শতক জমিতে গড়ে উঠা শিমুল বাগানের প্রতিটি গাছে এসেছে ফুল। দেশের অন্যতম সৌন্দর্য রূপের রানী যাদুকাটা নদীর তীরে ঘেঁষে গড়ে উঠা শিমুল বাগানে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে প্রথম সপ্তাহ থেকেই ফুল ফুটতে শুরু করে। লাল ফুলের কল্যাণে পুরো এলাকায় হয়ে উঠেছে রক্তিম আভা। ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে, মাঝে সৌন্দর্যে পরিপ‚র্ণ যাদুকাটা নদী আর এপারে শিমুল বাগান। সব মিলেমিশে গড়ে তুলেছে প্রকৃতির এক অনবদ্য কাব্য। লাল পাপড়ি মেলে থাকা রক্তিম আভায় যেন পর্যটকদের মনে আলাদা ভাবে স্থান করে নিয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তাহিরপুরে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। এতে বেড়েছে পেশাদার ফটোগ্রাফারদের ব্যস্ততা। পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে শিমুল ফুল দিয়ে মালা, ভালোবাসার প্রতীক তৈরি করার কারিগরদের মধ্যেও। বাগানের সবকটি গাছে পরিপূর্ণ ভাবে ফুল না ফুটলেও যেইটুকু ফুটেছে তাতেই পর্যটকদের আকর্ষিত করছে।

সিলেট থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা তানভীর চৌধুরী জানান, তাহিরপুরের শিমুল বাগান দেখতে বেশ কিছু দিন ধরে পরিকল্পনা ছিল। এখন সময় পেয়েছি পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এখানে পৌঁছে সব ক্লান্তি ভুলে গেছি। আর শিমুল বাগানের সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করবে যে কাউকে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় অনেকটাই ভুগিয়েছে এটুকু পথ আসতে গিয়ে।

শিমুল বাগানে ঘুরতে আসা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বিবদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, শিমুল বাগান দেখে আসলেই আমরা অভিভূত। সারি সারি রক্ত রাঙা শিমুল ফুল দেখে সত্যিই ভাল লাগছে। তবে বাগানের সব ফুল এখনও ফুটেনি। ৩-৪ দিন পরে আসলে আরো অনেক সৌন্দর্য্যরে দেখা মিলতো।

 

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা রাহিমুল ও পলাশ বলেন, আমরা ৫ জন বন্ধুবান্ধব শিমুল বাগানের সৌন্দর্য দেখতে গত বছর পরিকল্পনা করেছিলাম। আজ বাগানে আসতে পেরে এবং এর সৌন্দর্য দেখে সত্যিই মুগ্ধ। তবে সড়কের যে অবস্থা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে আমাদের। যোযোগ ব্যবস্থা দ্রুত উন্নয়ন করতে সরকারের কাছে তারা জোর দাবী জানান। বাগানে উপস্থিত পর্যটক দুলাল মিয়া, রায়হান, আফরোজা, দীপা বলেন, সুনামগঞ্জের পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে তাহিরপুরে। তবে পর্যটকদের মানসম্মত থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ