সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করা হোক-সংসদে পীর মিসবাহ্ (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৫:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২১

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করা হোক-সংসদে পীর মিসবাহ্ (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক

‘আমার নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ সদর-বিশ^ম্ভরপুর একটি হাওর ও পশ্চাৎপদ এলাকা। আমার নির্বাচনী এলাকার সুরমার উত্তর পাড়ে সদরের তিনটি ইউনিয়ন সহ ৬টি ইউনিয়ন সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন। আমি আশা করি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হালুয়ারগাঁও-ধারারগাঁও ব্রিজটি নির্মাণ করে দিবেন।’
বুধবার জাতীয় সংসদে নতুন (২০২১-২২) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের ছাতকে রেল সংযোগ রয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলাম ছাতক থেকে দোয়ারাবাজার হয়ে সুনামগঞ্জ সদরে রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য। ২০১৫ সালে রেল যোগাযোগের জন্য একটি সমিক্ষা রিপোর্ট হয়। সেই সমিক্ষা রিপোর্টের আলোকে ছাতক থেকে দোয়ারাবাজার হয়ে সুনামগঞ্জ সদরে রেল যোগাযোগের প্রস্তব করা হয়। এটিতে সরকারের অর্থও কম ব্যয় হবে এবং দূরত্বও কম হবে। টেকসই হবে রেল লাইন। সেই রেল লাইনের কার্যক্রমটি চালু না রেখে এবছর আবার শুনছি আরেকটি এলাইনমেন্ট হচ্ছে। আমরা বিনীতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং রেলপথ মন্ত্রীকে বলবো ২০১৫ সালের সমিক্ষা শেষে যে প্রস্তাব রয়েছে, ছাতক থেকে দোয়ারাবাজার হয়ে সুনামগঞ্জ সদরে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ করার সেটি বাস্তবায়ন করা হোক।
পীর মিসবাহ বলেন, ঢাকা-সিলেট পর্যন্ত ৬ লেনে সড়ক প্রশস্ত হবে। সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ মাত্র ৬৬ কিলোমিটার। আমরা দাবি জানাই সিলেট-সুনামগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক অন্তত চার লেনে উন্নীত করা হোক। আমাদের সুনামগঞ্জে নদী ভাঙন হচ্ছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আমি বলবো দ্রুততম সময়ে নদী ভাঙন রোধ করার জন্য। তিনি বলেন, এবার কৃষিতে ভতুর্কি ও প্রণোদনা বৃদ্ধি করা হয় নাই, কিন্তু এটি জরুরী ছিল। সুনামগঞ্জ জেলায় এবার ৯ লাখ মেট্রিক টনের উপর ধান উৎপাদন হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সিলেট অঞ্চলে ঘন ঘন ভুমিকম্প হচ্ছে কিছুদিন থেকে, মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
সংসদ সদস্য পীর মিসবাহ বলেন, আমাদের সুনামগঞ্জে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৪৯ জন ডাক্তার থাকার কথা. কিন্তু আছেন মাত্র ১৪ জন। রেডিওলজিস্ট, ল্যাব টেকনিশিয়ান নাই। বছরের পর বছর এক্সরে মেশিন অবহেলায় থাকায় মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে বাজেট আলোচনার সময় সংসদে অর্থমন্ত্রীর উপস্থিত না থাকার সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেছেন, আমরা বাজেট বক্তৃতা দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের অর্থমন্ত্রীকে গতকালকেও সংসদে পাইনি, আজকেও নাই। তিনি বলেন, দেশের প্রথম এ বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকার। অর্থমন্ত্রী বাজেট দেওয়ার দিন বলেছেন, ৭১৯ কোটি টাকার। যদি এটা ভুল হয়ে থাকে তাহলে সংশোধন করা উচিত।
তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন- দেশ থেকে কারা টাকা পাচার করছে সে তালিকা চান সংসদ সদস্যদের কাছে। সংসদ সদস্যরা কীভাবে তালিকা দেবেন। তিনি অর্থ মন্ত্রণালের দায়িত্বে। তিনি তালিকা নেবেন কারা অর্থপাচার করে। পিকে হালদার টাকা নিয়ে বিদেশে গিয়ে ঘুমায়, আর তার বান্ধবীদের এখানে ঘুম পাড়ান।
এ সংসদ সদস্য বলেন, এটা তো আমরা চাই নাই। আমরা চেয়েছিলাম পিকে হালদারদের মতো লোকেরা যেন অর্থ নিয়ে বাইরে যেতে না পারে। অর্থমন্ত্রী অর্থখাতের একজন মেধাবী লোক। তিনি তো ভালো জানেন কারা অর্থপাচার করে। ওনার প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
পীর ফজলুর রহমান বলেন, প্রত্যেকটা অডিট রিপোর্টে আছে কীভাবে আথিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। কারা টাকা পাচার করে সেখান থেকে তিনি তথ্য নিতে পারেন।
সরকারি হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সিএজির গত চার বছরের অডিট প্রতিবেদন বলছে, ৩১ হাজার কোটি টাকা লুট। চার বছরে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকে জালিয়াতি, সরকারি অর্থের মোট অনিয়মের ৫২ শতাংশই ব্যাংকিং খাতে। নয় বছরে অনিয়ম বেড়েছে ১৬ গুণ। এটি অডিটর জেনারেলের চার বছরের অডিট থেকেই এসেছে। এখান থেকে উনি তথ্য পান না কেন?
অর্থমন্ত্রী তথ্য পান না কেন?
পীর ফজলুর রহমান বলেন, এই টাকা বিদেশে যায়। অর্থমন্ত্রী ঠেকাতে পারেন না। শেয়ারবাজার লুটপাট হয়, তিনি খুঁজে পান না। বাংলাদেশ ফিনেন্সিয়াল ইন্টলিজেন্স ইউনিট বলছে, পাঁচ বছরে এক হাজার ২৪ টি অর্থপাচারের প্রমাণ মিলছে। ২০১৫-১৬তে ৫৮টি, ২০১৬-১৭তে ১২১টি, ২০১৭-১৮ সালে ৬৭৭টি, ২০১৮-১৯ এ ৫৮টি, ২০১৯-২০ এ ১১৬টি অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে। এটা তো সরকারি প্রতিষ্ঠানেরই তথ্য। তাহলে অর্থমন্ত্রী পান না কেন?
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, স্বাস্থ্যের নয় অন্য খাতের টাকা গেছে কানাডায়। রোজিনা ইসলামের রিপোর্টগুলো যদি আমরা বাদও দেই, দুদক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১১ টি দুর্নীতির খাত চিহ্নিত করেছে। গণমাধ্যমের সূত্র দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে স্বাস্থ্যখাতের যন্ত্রপাতি কেনায়।’
সাফাই না গেয়ে দুর্নীতিবাজদের ধরেন
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাফাই না গেয়ে যারা দুর্নীতি করছে তাদের ধরেন। এই করোনাকালে এসে অন্তত বিবেক জাগ্রত হোক। এই দুর্নীতিবাজদের ধরেন। মানুষের চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেন। টিকা নিয়ে আমরা কোনো কথা শুনতে চাই না। টিকা নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি শিক্ষায় কর ও মোবাইলে অর্থ লেনদেনে করারোপের সমালোচনা করেন। এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানান। অবৈধ টাকাকে কখনই সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ