সুরমার তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ : অসম্ভবকে সম্ভব করলেন যারা…(ভিডিও)

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০১৯

সুরমার তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ : অসম্ভবকে সম্ভব করলেন যারা…(ভিডিও)

নাজমুল কবীর পাভেল :: নগরবাসী দেখল অসম্ভব কে সম্ভব করলেন মেয়র আরিফ , এসএমপির পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া ও জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। হাইকোর্ট র নির্দেশে রবিবার কাজীর বাজার এলাকায় নদীর তীর থেকে উচ্ছেদ অভিযানে নামেন জেলা প্রশাসন সিটি মেয়র এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড। উচ্ছেদ করা হয় কাজির বাজার মৎস্য আড়ত সহ শতাধিক দোকান।

২০০৫ সালের নভেম্বর মাস । রাত ৮ টা প্রথম আলোর তৎকালিন নিজস্ব প্রতিবেদক আহমেদ নুর কে ফোন দিলেন সাবেক কাউন্সিলর ও সিসিকের বতমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী । ফোন শেষে নুর ভাই পার্থ দা কে ও আমাকে বললেন চপাদনীঘাটে যাওয়ার জন্য আরিফ ভাই অপেক্ষো করছেন কি-নাকি চমক দেখাবেন । আমি ও পার্থ দা মটর সাইকেল নিয়ে তাড়াতাড়ি চাদনিঘাটে গেলাম। গিয়ে দেখি প্রচুর পুলিশ । আমাদের দেখে হাসিমুখে এগিয়ে এলেন আরিফ ভাই। তিনি বললেন মেয়র কমরান ভাই হজ্বে । উচ্চ-আদালতে রায় হয়েছে সুরমা নদীর দু-পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তাই অভিযান হবে । এর পর আরিফ ভাই নিদেশ দিলেন স্থাপনা ভাঙ্গার। রাতে প্রায় ৫০ টির মত দোকান ভাঙ্গা হল। আমাদের কে আরিফ ভাই বললেন সকালে আবার অভিযান হবে ।

কিন্ত বিধিবাম সকালে প্রভাবশালীরা উচ্চ-আদালতে প্রভাব কাটিয়ে আগের আদেশ স্থগিত করালেন । উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হল।

১০ বছর পর আবার পোনে দুই মাস আগে উচ্চ-আদালতের আদেশ আসলও সুরমা নদীর দু-পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের । এই আদেশের বাস্তবায়ন যাতে না হয় সেই জন্য প্রভাবশালীরা নানা তৎপরতা করেন। সিলেটের মানুষ মনে করেছিল প্রভাবশালীরা অতিতের মত এবার ও উচ্ছেদ অভিযান থামিয়ে দিবে । কিন্ত না এই তিন জন কোন টাকা ও প্রভাবের কাছে মাথা নত করেননি । তাই আজীবন সিলেট বাসী তাদের স্মরন রাখবেন।

সিলেট নগরীর মধ্যদিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদী। দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে নদির তীর দখল করে চলছিল ব্যবসা। সিলেটের মাছের আড়তটিও ছিল এই কাজির বাজার ব্রীজের নিচে। অবৈধ স্থান,আর নানা ধরনের সমস্যার কারনে এবং যানজট কমাতে ২০১৫ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের প্রচেষ্টায় মাছের আড়ত করা নগরীর টুকের বাজারে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যবসায়ী কাজির বাজারে রয়ে যান।ফলে টুকের বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা বিগত ৫ বছরে ক্ষতির সম্মুখীন হন প্রায় ১৫ কোটি টাকার।

অবশেষে হাইকোর্ট র নির্দেশে রবিবার কাজীর বাজার এলাকায় নদীর তীর থেকে উচ্ছেদ অভিযানে নামেন জেলা প্রশাসন সিটি মেয়র এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড। উচ্ছেদ করা হয় কাজির বাজার মৎস্য আড়ত সহ শতাধিক দোকাণ। সিলেট নগরীর কাজিরবাজারে সুরমা নদীর তীরে দ্বিতীয় দিনের মতো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। সোমবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খৃস্টফার হিমেল রিছিল।

সিলেট নগরীর ক্বিন ব্রিজ থেকে কাজিরবাজার সেতু পর্যন্ত সুরমা নদীর পাড়ে কয়েক শতাধিক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনাগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল প্রভাবশালী মহল। এর আগে রোববার (৭ জুলাই) কাজিরবাজার খেয়াঘাট এলাকায় ৩৩টি অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া মাছবাজার এলাকায় আরও অন্তত ৩০টিসহ সর্বমোট শতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে অবৈধ দখলদারদেরকে জায়গা খালি করতে নোটিশ প্রদানের পাশাপাশি তিনদিন আগে পুনরায় মাইকিংও করা হয়েছে। এতে দখলদাররা সাড়া না দেওয়ায় অবৈধ স্থাপনাগুলি গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা জানান, নদীর তীর দখল করে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকবে না।

উচ্ছেদ শুরু হয়েছে, নদীর তীর দখলমুক্ত করার আগ পর্যন্ত উচ্ছেদ চলবে।

সিলেটের আলোচিত জাহাঙ্গীরের অবৈধ জুয়ার আসর ও মৎস্য আড়ত উচ্ছেদ!

 

কাজিরবাজার এলাকায় তার বিশাল মাছের আড়ৎ। পাশাপাশি শিলং তীর জুয়ার জন্যও সিলেটে বিখ্যাত একটি নাম হাজী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এবার তার আস্তানার একাংশ গুড়িয়ে দিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বুলডোজার। সুরমার তীর দখল করে জাহাঙ্গীর নির্মিত ১০/১২টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবশ্য শুধু জাহাঙ্গীরই নয়, রবিবারের অভিযানে তোপখানা ও কাজিরবাজার এলাকায় সুরমার তীর দখল করে নির্মিত প্রায় ৭০/৮০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে কাজিরবাজার এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে উৎফুল্ল স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে অবৈধভাবে যত স্থাপনা আছে তা উচ্ছেদ করা হলে তারা নিজনিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করবেন। কাজিরবাজারের মাছ বাজারের অধিকাংশই ছিল অবৈধভাবে নদীর তীর দখল করে নির্মিত। নির্মাতারা সবাই প্রভাবশালী। এরমধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী হাজী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীর প্রচুর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে তিনি কোটি কোটি টাকা মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি চলছে শিলং তীর জুয়া। প্রতি বছর তার জুয়ার আসরে অভিযান চালায় পুলিশ তার পর ও সে জুয়ার আসর চালু রাখত । কয়েকদিন আগে তার জুয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২২ জুয়াড়িকে আটক করেছিল পুলিশ। সেই অভিযানের পরও তীর জুয়া বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন। শুধু তাই নয়, জাহাঙ্গীর কয়েকবছর আগে কৌশলে গণ-শৌচাগারের নামে সুরম্য বিশ্রামাগার তৈরি করেছিলেন। নিচে শৌচাগার, উপরে বিলাসবহুল বিশ্রামাগার। তবে তার উচ্চাভিলাষ শুরুতেই ধ্বংস করে দিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে রবিবারের উচ্ছেদ অভিযানেহ পর বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও স্বস্তি নেমে এসেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, অবৈধভাবে নদীর তীর দখল করে টাকা বানানোর মেশিনে পরিণত হয়েছে এই এলাকা।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ