সুরমা মার্কেটের দুই পতিতালয় বন্ধে লাইসেন্স বাতিলের দাবি

প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২১

সুরমা মার্কেটের দুই পতিতালয় বন্ধে লাইসেন্স বাতিলের দাবি

এনামুল কবীর

এনামুল কবীর :: থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বসে থাকে একাধিক গুন্ডা প্রকৃতির লোক। আশপাশের ব্যবাসায়ীরা জানালেন, তারা কেউ কেউ হোটেলটির কর্মচারী আর কেউ কেউ দালাল। রাজন নামক এক গু-ার নেতৃত্বে তাদের দায়িত্ব, পুলিশ সাংবাদিক ঠেকানো। আর অন্যান্যরা দালাল। সারা মার্কেটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লোকজনকে ইশারায় ডেকে নিয়ে অসামাজিক কাজের জন্য হোটেলে তোলা, বিনিময়ে টাকার ভাগবাটোয়ারা পাওয়া- এই হচ্ছে সিলেট মহানগরীর নরককুণ্ড হিসাবে পরিচিত সুরমা মার্কেটের হোটেল নিউ সুরমার ব্যবসা। গত সপ্তাহেও হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন নারী পুরুষকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু বুধবার দিনে রাতে এই ব্যবসা সেখানে চলেছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র।

আর হোটেল বদরুল বা কুখ্যাত বদরুল রেস্ট হাউসের অবস্থা আরও খারাপ। নামে রেস্ট হাউস হলেও সেখানে আবাসিক হোটেলের কোন সুযোগ সুবিধাই নেই। সামনের দিকে পুরানো জীর্নশীর্ণ একটা সাইনবোর্ড থাকলেও মার্কেটের ভেতরের সাইনবোর্ডটা চকচকে।

বুধবার সন্ধ্যায় বদরুল রেস্ট হাউস নামক এই নরক ও তার আশপাশের অবস্থা ছিল অনেকটা মৃতপ্রায়। কারণ আগের দিন অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। আটক করেছে ২ খদ্দেরসহ ৪ যুবতিকে।

তবে এই মৃতপ্রায় অবস্থা সাময়িক। ২/১ দিনের মধ্যেই আবার এখানে জমজমাট পতিতা ব্যবসা চলবে। দালাল খদ্দেরে মুখরিত হয়ে উঠবে- আসবে কাঁচা টাকা। সুরমা মার্কেটের বদরুল হোটেল আর নিউ সুরমায় এমনটাই চলছে বছরের পর বছর। গত সপ্তাহেও নিউ সুরমা হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৬ তরুণীসহ ৯ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু শনিবার থেকেই আবার শুরু হয়েছে কাঁচা টাকা কামাইয়ের জঘন্য রাস্তায় পথচলা।

সিলেটের মধুচক্র হিসাবে অনেক আগে থেকেই কুখ্যাত এ দুটি হোটেল। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবতি ও তরুণীদের এনে রাখা হয় এসব হোটেলে। নিউ সুরমায় কিছু কক্ষ থাকলেও বদরুল রেস্ট হাউস বাইরে থেকে অনেকটা গুদামের মত মনে হয়। সেখানে যে বোর্ডার থাকতে পারে তা বুঝার কোন উপায়ই নেই। অনেকে- এ কেমন রেস্ট হাউস বলে- বোকাও বনেন।

বারবার পুলিশ অভিযান চালালেও হোটেলটির মালিক সুন্দর আলী ও ম্যানেজার বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। কোন অভিযানেই তাদের গ্রেফতার বা আটক করা সম্ভব হয়না। সপ্তাহখানেক আগে পাশের হোটেল নিউ সুরমাতেও অভিযান চালিয়ে ৯ জন নারী পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যথারীতি সেক্ষেত্রেও হোটেলটির মালিক ও ম্যানেজার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এই দুটি আবাসিক হোটেলের কারণে গোটা সুরমা মার্কেট এলাকায় মারাত্মক অস্বস্তিতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও তাদের কাস্টমাররা। অহরহ নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

হোটেল দুটির সাথে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, বদরুল রেস্ট হাউসের মালিক সুন্দর আলী আর নিউ সুরমা হোটেলের মালিক আরজত আলী মূলতঃ আবাসিক হোটেলের নামে পতিতালয় চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দালালদের মাধ্যমে সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে আসেন। তারপর বড়লোক খদ্দেরদের কল দিয়ে ওসব যুবতিকে ব্যবহার করতে শুরু করেন। কখনো কাষ্টমারদের বাসা বা বাড়িতে, কখনোবা নিয়ে আসেন হোটেলে। তারপর অসামাজিক কাজ এবং কাড়ি কাড়ি কাঁচা টাকা। এমনটাই চলছে বহু বছর ধরে।

সুরমা মার্কেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, এদের কারণে এখানে ব্যবসার কোন পরিবেশই নেই। আরজত আর সুন্দর আলীকে গ্রেফতার এবং এ দুটি হোটেলের লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমেই কেবল এই ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব। তারা সিলেটের প্রশাসনের কাছে নিউ সুরমা ও বদরুলের লাইসেন্স বাতিলের অনুরোধ জানান।

বুধবারও সুরমা মার্কেটের কমিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে নানা দাবি দাওয়া নিয়ে গেলেও পাত্তা পাননি। মেয়র সিলেটের পবিত্র মাটিতে এমন অসামাজিক কাজ বন্ধ না করলে সহযোগীতা করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

বারবার হোটেল নামক দুটি পতিতালয় থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত নারী-পুরুষ আটক হয়, তার সংবাদও প্রকাশ হয়, কিন্তু তবু এগুলোর লাইসেন্স বহাল থাকছে। কারণ জানতে চাইলে, সিলেট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন কেউ একটা আবেদন করলে আমরা সেটি বিবেচনা করতে পারি। সেই সুযোগ আছে।

আর গণমাধ্যমে খবর দেখে স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজটি করা যায় কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ সেক্ষেত্রেও করা যায়। এতদিন হয়নি। আগামীতে হবে।

সিলেট প্রতিদিন

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ