সেই সাদী ছিল বখাটে ও দুষ্কৃতিকারী : অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১:৫১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২১

সেই সাদী ছিল বখাটে ও দুষ্কৃতিকারী : অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে দ্বাদশ শ্রেণির আরিফুল ইসলাম রাহাত(১৮) নামে শিক্ষার্থী ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ কর্মীর দিকে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম সামসুদ্দোহা সাদী (২০)। সাদী ছিল বখাটে ও দুষ্কৃতিকারী ও তার বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষ মামলা করেছিল। সেই সাথে তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমা কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম।

 

বৃহস্পতিবার তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আমরা যার নাম শুনেছি বা জড়িত বলে দাবি করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে একবার মামলা করা হয়েছিল এবং কলেজ থেকে আমি তাকে বের করে দিয়েছি। সুতরাং সেই ছেলে এমনি বখাটে ও দুষ্কৃতিকারী। আমরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছি। যেকোনো সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তার বিরুদ্ধে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনদিনের ভিতরে রিপোর্ট দিবেন আমার শিক্ষকরা। যেকোনো ভাবে হত্যাকারীকে প্রশাসন গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতয়া আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে কি কারণে রাহাতকে হত্যা করা হয়েছে। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম বলেন, ‌‘ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির বা ছাত্রদল কে কোন গ্রুপ করলো তা আমার দেখার বিষয় না। আমারা কাছে সব সমান। এর আগেও ওই ছেলে ছাত্রলীগ করতো আমি তো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি’।

 

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, প্রাথমিকভাবে দুজনের নাম এসেছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে কাজ করছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

 

এরআগে বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থী রাহাত দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়নের সোলায়মান মিয়ার ছেলে। আর অভিযুক্ত সাদীএকই উপজেলার মোগলাবাজর থানাধীন সিলাম টিলাপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে এবং তার সঙ্গে থাকা তানভীর একই এলাকার জামাল মিয়ার ছেলে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , রাহাত প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়। এসময় চাচাতো ভাই রাফি তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলেন। যাবার পথে চাচাতো ভাইকে কলেজ গেটে রেখে এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে কলেজের ভেতর যায় রাহাত। কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কলেজের মূল গেট থেকে ২০-২৫ গজ ভেতরে সাদি ও তানভীর সিলভার রঙ্গের একটি পালসার মোটরসাইকেলযোগে পেছন থেকে এসে রাহাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। ছুরিকাঘাতের পর তারা পালিয়ে যায়। পরে রাহাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাহাতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ