সোবহানীঘাট মা ও শিশু হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

সোবহানীঘাট মা ও শিশু হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বিতর্ক পিছু ছাড়ছেনা সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের। এবার ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন এক সাংবাদিক পুত্র। আজ ৬ জুলাই, সোমবার সকালে ওই শিশু পুত্র মারা যায়। মারা যাওয়া শিশু সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের তেলিকোনা গ্রামের বাসিন্দা ও বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য নূর উদ্দিনের ছেলে রিফাত (৩ মাস)।

জানা যায়, রিফাতের জন্মের পর পায়খানার রাস্তায় একটি সমস্যা দেখা দেয়। নূর উদ্দিন ছেলে রিফাতকে নিয়ে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের ভর্তি হন। হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শিশু সার্জন ডা. শামসুর রহমান ময়নার শরণাপন্ন হলে তিনি অপারেশন প্রয়োজন বলে সোবহানীঘাটস্থ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।

ডাক্তারের পরামর্শক্রমে গতকাল রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে রিফাত মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোববার দিবাগত রাত ৯টার দিকে রিফাতের অপারেশন করবেন বলে জানান ডা. শামসুর রহমান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত করার জন্যও বলেন। রাত ৯টার সময় অপারেশন করার কথা থাকলেও ডাক্তার আসেন রাত সাড়ে ১০টার দিকে। এর আগে ডাক্তার ছাড়াই দেড় ঘণ্টাব্যাপী অপারেশন চালান হাসপাতালের নার্স ও আয়ারা। ডাক্তার এসে আয়ার মাধ্যমে নূর উদ্দিনকে লম্বা রগের মতো একটি জিনিস দেখিয়ে বলেন, রিফাতের পেট থেকে তা বের করা হয়েছে। এতে সন্দেহ হয় নুর উদ্দিনের। কারণ- তার আরেক মেয়ের এই সমস্যা ছিল, অপারেশন হয়েছে। কিন্তু এসমন কিছু দেখা যায়নি।

অপারেশনের পর রিফাতকে পোস্ট অপারেটিভ রুমে রাখা হয়। হঠাৎ করে রাত দেড়টার দিকে কাউকে না জানিয়ে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) নিয়ে যাওয়া হয় রিফাতকে। বিষয়টি জানতে পেরে ছুটে যান নূর উদ্দিন। ওই সময় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে বলেন, আপনার ছেলের অবস্থা খারাপ হওয়ায় আমরা আপনাকে না জানিয়েই আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তাকে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

এ ব্যাপারে রিফাতের পিতা নূর উদ্দিন বলেন, ভুল চিকিৎসার কারনেই আমার একমাত্র ছেলের মৃত্যু হয়েছে। রাতে আমার ছেলেকে যখন আইসিইউ-তে দেখি- তখনই কেমন যেন দেখা যাচ্ছিলো। আমার মনে হয়- তখনই রিফাত আমাদের ছেড়ে চলে যায় ।

নূর উদ্দিন আরও বলেন, ডা. শামসুর রহমানের কথাতেই আমরা মা ও শিশু হাসাপাতালে রিফাতকে নিয়ে এসেছিলাম। তা না হলে আমরা তাকে অন্যত্র ভর্তি করাতাম। এখানে ডাক্তার-নার্স এমনকি মাসির সঙ্গেও ঠিকমতো কথা বলা যায় না। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খুব বাজে আচরণ করেন তারা।

এ বিষয়ে মা ও শিশু হাসাপাতালের অ্যাডমিন ম্যানেজার মুরশেদুর রহমান বলেন, শিশুটির খাদ্যনালী ও পায়খানার রাস্তায় সমস্যা ছিলো। তাছাড়া অপারেশনের পরে নিউমোনিয়া বেড়ে যায়। তখন শিশুর চাচার সাথে কথা বলে আইসিইউতে ভর্তি নেওয়া হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

মুরশেদুর রহমান বলেন, প্রয়োজনে যে কোনো মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে আমাদের চিকিৎসায় কোনো ভুল নেই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ