এবারও আলোচনায় সৈয়দ শামীম

প্রকাশিত: 9:59 PM, November 17, 2019

এবারও আলোচনায় সৈয়দ শামীম

উজ্জ্বল চৌধুরী

মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা, বাংলা তোমায় ডাকছে এসো। এই সেøাগান দিয়েই ৮০’র দশকে স্কুলছাত্র থাকা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া সৈয়দ শামীম আহমদ ১৯৮৫সালে নির্বাচিত হন ৭নং সাহারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। সাংগঠনিক দক্ষতা আর প্রখর মেধা শক্তির অধিকারী সৈয়দ শামীম ১৯৮৬ সালে দায়িত্ব পান সিলেট সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতির। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা তেজস্বী বক্তব্য আর কর্মী বান্ধব আচরণে মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন নেতৃত্ব তাকে বেছে নেন শহর ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে। ৮৭ থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত একজন দক্ষ সংগঠকের ভূমিকায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে সৈয়দ শামীম সাহসিকতার সাথে অংশগ্রহণ করেন গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা আন্দোলনে, সেমিটার বিরোধী আন্দোলনে, অক্সিরেন্টাল বিরোধী আন্দোলনে।
শুধু কি তাই? ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে সিলেট ল’ কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। ছাত্র সংসদে ল’ কলেজের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মন জয় করে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে সৈয়দ শামীম পুনরায় সিলেট ল’ কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। অসম্ভব মেধাবী আর অমায়িক ব্যবহার দিয়ে আওয়ামী পরিবারের মন জয় করে পরবর্তীতে সিলেট মহানগর যুবলীগের কাউন্সিলে তিনি নির্বাচিত হন সিলেট মহানগর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এখানেও চমক দেখান শামীম।
যুবলীগ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজমের নির্দেশনায় সিলেট মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে যুবলীগেকে গড়ে তুলেন এক অপ্রতিরোধ্য সংগঠন হিসেবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় খালেদা-নিজামীর দু:শাসন বিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে মারাত্মক পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন সৈয়দ শামীম আহমদ। হাসপাতালের বিছানায় মুমূর্ষু সৈয়দ শামীমের অসহনীয় যন্ত্রণায় সেদিন অঝোরে কেঁদেছিলো সিলেটের যুবসমাজ। তবুও থেমে থাকেননি সৈয়দ শামীম আহমদ। সুস্থ হয়েই রাজনীতির মাঠে আবারো দাপিয়ে বেড়ান তিনি।
পরবর্তীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর সিলেটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে নেত্রীর নির্দেশনা নিয়ে ১/১১ সরকার বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ১/১১ কালীন সময়ে সিলেটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৬ ধারায় তাকেও আটক করা হয়। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ৫ মাস ২৩ দিনের নিষ্ঠুর নির্যাতন সহ্য করা সৈয়দ শামীমকে প্রভাবিত করতে পারেননি শত প্রলোভন আর রক্তচক্ষু। সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনাটি হলো কারাগারের অন্ধকার সেল থেকে তিনি খবর পান দূর্ধর্ষ ডাকাতির শিকার হয়েছেন অভিবাবকশূন্য তার স্ত্রী-সন্তানেরা। তবুও তিনি হারার পাত্র নন। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে পরিবার-পরিজনের মায়াকে বিসর্জন দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্নে থেকে যান আপোষহীন।
তার এই ত্যাগ, দলের প্রতি আনুগত্য দেখেই মূলত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে সৈয়দ শামীম আহমদকে নির্বাচিত করা হয় সিলেট মহনগর আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে। রাজনীতি সচেতন, বিনয়ী এই মানুষ কেবল একজন সফল সংগঠক নন পেশাগত জীবনে একজন সফল আইনজীবীও। রাজনীতির পাশা-পাশি সিলেট কোর্টের এডিশনাল পিপির দায়িত্ব পালন করা সৈয়দ শামীম আহমদ সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ছিলেন সরব। দায়িত্ব পালন করেছেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক ও এক সময়ের জনপ্রিয় দর্পণ থিয়েটারের সভাপতির।
৭০ দশকের কঠিন সময়ে তৎকালীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মরহুম সৈয়দ আছকর আলী আর মা সৈয়দা রিজিয়া বেগমের দোয়া এবং মূলত তাদের ইচ্ছাতেই বঙ্গবন্ধুর দল ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া সৈয়দ শামীম আহমদ সিলেট মহানগর আসন্ন সম্মেলনে রয়েছেন আলোচনায়। একজন তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে নবীন প্রবীণের সমন্বয়ে আসন্ন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাকে দেখতে চায় তৃণমূলের অনেকেই।
সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী হচ্ছেন কি না এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুদর্শন সৈয়দ শামীম আহমদ জানান – ‘আমার রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবস্থান এবং ত্যাগ পর্যালোচনা পূর্বক বাংলার মানুষের আশা ভরসার শেষ ঠিকানা জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ যে পদেই আমাকে দায়িত্ব দিবেন সেখানেই অতীতের মতো বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সন্তান হিসেবে নিজেকে শতভাগ ঢেলে দিতে কখনই পিছপা হবো না। ইনশাল্লাহ।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ