সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুলে অতিথি পাখি শামুকক্কুরের বিচরণে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২১

সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুলে অতিথি পাখি শামুকক্কুরের বিচরণে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ
 গোয়াইনঘাট প্রতিনিধিঃ রাতারগুল বিশেষ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকার গাছে গাছে এখন অতিথি পাখি শামুক্কুর। পর্যটকদের আনাগোনায় একসময় শামুকক্কুর নিরাপত্তাহীন হয়ে রাতারগুল ছেড়েছিল। পর্যটকদের চলাচল কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় রাতারগুলে ফিরছে তারা। জলাবন রাতারগুলের অবস্থান সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে। রাতারগুল জলাবন বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। বনের আয়তন ৩,৩২৫.৬১ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।এছাড়াও ২০৪.২৫ হেক্টর বনভুমিকে ৩১ মে ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশের বন অধিদপ্তর বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করে। এটি পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি জলাবনের মধ্যে অন্যতম একটি জলাবন রাতারগুল। এই বনকে বাংলাদেশ সরকারের বনবিভাগের অধীনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বর্তমানে রাতারগুল জলাবনে শামুকক্কুর পাখির মিলনমেলা চলছে। ২০১৩ সালের দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালে রাতারগুলে দেখা মিলে এ পাখির।বর্তমান বছরে শামুকক্কুর পাখির আনাগোনা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান স্হানীয় এলাকাবাসী। বন বিভাগের সহব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে পর্যটকদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় কয়েক দিন আগ থেকে রাতারগুলে ফিরছে শামুকক্কুরপাখি। এবারই প্রথম ঝাঁকে ঝাঁকে শামুকক্কুর পাখির দেখা মিলছে। দিনভর ওড়াউড়ি, দল বেঁধে খাবারের সন্ধানে দূরে ছুটাছুটি দিনের শেষে আবার শামুকক্কুর ফিরছে রাতারগুলে। বনে ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদের সঙ্গে ২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৭৫ প্রজাতির পাখি ও ৯ প্রজাতির উভচর প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছ। এর মধ্যে শামুকক্কুর ছিল রাতারগুলের বাসিন্দা স্থায়ী একটি পাখি। নিচে অবারিত জলরাশি আর গাছে গাছে শামুকক্কুরের বিচরণ এখন পর্যটক প্রেমীদের কাছে অপূর্ব অনুভূতির আর অনাবিল আনন্দের।স্হানীয় বাসিন্দা শরীফসালেহীন বলেন, বিরতি দিয়ে শামুকক্কুর আবার ফেরায় বনের আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা রাতারগুলের প্রাণ ফিরছে বলে মন্তব্য করছেন। গত বছর হাতে গোনা কয়েকটি দেখা গিয়েছিল। এবার হাজারো পাখি এসেছে। একসঙ্গে এত পাখি আগে দেখা যায়নি। শামুকক্কুর বাংলাদেশের আবাসিক পাখি এবং বন বিভাগের প্রাণী সংরক্ষণ দফতর থেকে ‘বিপদগ্রস্ত’ বলে ঘোষিত। শামুকক্কুর শামুক ভেঙে খেতে ওস্তাদ, তাই পাখিটির এ নাম। মাছ, কাঁকড়া, ছোট ছোট প্রাণী, ব্যাঙ ইত্যাদিও আছে খাদ্যের তালিকায়। বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক এই পাখি বর্তমানে বন্য প্রাণী আইনে সংরক্ষিত পাখির তালিকায় আছে। এটি দেখতে বকের মতো, তবে ঠোঁট লম্বা ও ভারী। গায়ের রং ধূসর-সাদা। জলাভূমিগুলোতে এখন প্রায়ই এদের দলে দলে শামুক খুঁজতে দেখা যায়। সারী রেঞ্জের বিট অফিসার সাদ উদ্দিন বলেন, শামুকক্কুর আর রাতারগুল ছেড়ে যাবে না এমন মনে হচ্ছে । প্রতিটা গাছে-গাছে তারা বাসা বাঁধছে। তিনি বলেন অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছরে শামুকক্কুর পাখির আগমন খুব বেশি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন, শামুকক্কুর পাখির বর্তমান অবস্থান, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের খুব আনন্দ দিচ্ছে বলেও তিনি জানান। এবং বলেন অতীতে পাখিদের অভয়ারণ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল বর্তমানে তা নেই। সাদ উদ্দিন বলেন শামুকক্কুরের নিরাপদ আবাস স্থায়ী করণে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ‘রাতারগুলে কয়েকটি জলাশয় ছিল। এগুলো মাছ ধরার মৌসুমে বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রথা ছিল। শুষ্ক মৌসুমে জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরা হতো। তিনি ( বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) জলাশয় বন্দোবস্ত বাতিল করেছেন। জলাশয় সংরক্ষিত থাকায় জলাভূমির জীববৈচিত্র্য দৃশ্যমান হচ্ছে। যার ফলস্বরূপ নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে শামুকক্কুর পাখি ফিরছে রাতারগুলে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ