হজরত আদম (আ.) থেকে নামাজের সূচনা

প্রকাশিত: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

হজরত আদম (আ.) থেকে নামাজের সূচনা

মুফতি আবদুল কাদির তমিযী :;

বর্ণিত আছে, হজরত আদম (আ.) যখন দুনিয়ায় পতিত হলেন তখন আসরের ওয়াক্ত ছিল। দেখতে দেখতে সূর্য লাল বর্ণ ধারণ করল এবং ধীরে ধীরে ডুবে গেল। সমগ্র পৃথিবী অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো। হজরত আদম (আ.) ছিলেন জান্নাতে। সেখানে অন্ধকারের নামগন্ধও ছিল না। সুতরাং তিনি জীবনেও কোনো দিন অন্ধকার দেখেননি। এবার তিনি অন্ধকারে ভয়ঙ্কর রকমের ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেলেন। আর এ অন্ধকারের মধ্যে ভয়ানক জীবজন্তুর ভীষণ তর্জনগর্জন শুনতে পেলেন। ভয়াবহ অন্ধকারে সারা রাত কাটালেন। ভোরে সূর্যোদয় হলো। তা দেখে আদম (আ.)-এর মনে আশার সঞ্চার হলো। হজরত জিবরাইল (আ.) এসে আদম (আ.)-কে জাগ্রত করে সুবহে সাদিকের সুসংবাদ দিলেন। বললেন হে আদম! উঠুন, আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। দেখুন অন্ধকার গত হয়ে সূর্য উদয় হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে হজরত আদম (আ.) দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। এক রাকাত সেই ভীষণ অন্ধকার দূরীভূত হওয়ার কারণে আর এক রাকাত দিনের আলো প্রকাশ হওয়ার কারণে। এটি মানবজাতির প্রথম নামাজ ছিল; যা আদম (আ.) একসঙ্গে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছিলেন। জনৈক আনসারি সাহাবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! ফজরের নামাজ সর্বপ্রথম কোন নবী পড়েছিলেন? প্রতিউত্তরে তিনি বললেন, ফজরের নামাজ সর্বপ্রথম হজরত আদম (আ.) পড়েছিলেন। জোহরের নামাজ সর্বপ্রথম হজরত ইবরাহিম (আ.) পড়েছিলেন। যখন আল্লাহ তাঁকে নমরুদের অগ্নিকু- থেকে রেহাই দিয়েছিলেন। আসরের নামাজ সর্বপ্রথম হজরত ইয়াকুব (আ.) পড়েছিলেন। যখন জিবরাইল (আ.) তাঁকে স্বীয়পুত্র ইউসুফ (আ.)-এর সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন। মাগরিবের নামাজ সর্বপ্রথম হজরত দাউদ (আ.) পড়েছিলেন। যখন আল্লাহর দরবারে তাঁর তওবা কবুল হয়েছিল। ইশার নামাজ সর্বপ্রথম হজরত ইউনুস (আ.) পড়েছিলেন যখন তিনি মাছের পেট থেকে মুক্তিলাভ করেন। গুনিয়াতুত তালেবিন।

সুনানে নাসায়ির একটি হাদিসে এসেছে, যদি কেউ এ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, তাহলে তার আমলনামায় ৫০ ওয়াক্ত নামাজের সওয়াব দেওয়া হবে। কোরআন-হাদিসে তাওহিদ, রিসালত ও আখিরাতের আলোচনার পর নামাজের কথা সর্বাধিক গুরুত্বসহকারে বর্ণিত হয়েছে। ইমানের পরই নামাজের স্থান। সব জিনিসের শিকড় থাকে। ইমানের শিকড় হচ্ছে নামাজ। আর নামাজের শিকড় হচ্ছে তাকবিরে উলা। বান্দা যখন নামাজে দাঁড়িয়ে যায় তখন তার ওপর নেকির বৃষ্টি ঝরে পড়ে। আকাশের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। আল্লাহ ও তাঁর বান্দার মাঝে রয়েছে ৭০ হাজার রহস্যময় রুহানি পর্দা, সব একে একে খুলে দেয়। আল কোরআনে ১১৩ স্থানে নামাজের কথা বলা হয়েছে; তার মধ্যে ৮২ স্থানে প্রত্যক্ষভাবে আর ৩১ স্থানে পরোক্ষভাবে নামাজের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের ফরজসমূহের মধ্যে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম নামাজ ফরজ হয়েছে। অন্য ফরজসমূহের আদেশ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুনিয়ায় থাকা অবস্থায় দেওয়া হয়েছে। আর আল্লাহ তাঁকে মিরাজে ঊর্ধ্বজগতে নিয়ে গিয়ে সেখানে নামাজের ব্যাপারে আদেশ দান করেন। কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। ১০ জন বিশেষভাবে শাস্তি পাবে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেনামাজি। তার হাত-পা বাঁধা থাকবে। মুখে ও পিঠে আঘাত করবে ফেরেশতা। জান্নাত বলবে, তোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তোমার নই; তুমিও আমার নও। জাহান্নাম বলবে, এসো আমার কাছে এসো। তুমি আমার, আমিও তোমার। জাহান্নামে ‘লম্লম’ নামক একটা মাঠ রয়েছে। তাতে সাপ আছে উটের ঘাড়ের মতো মোটা। আর লম্বায় তারা এক মাসের পথ। তা ছাড়া ‘জুব্বুল হুজুন’ নামক একটা ময়দান আছে। এটা বিচ্ছুদের আবাস। একেকটা বিচ্ছু খচ্চরের মতো বড়। এদের তৈরি করা হয়েছে বেনামাজিকে ছোবল মারার জন্য। পক্ষান্তরে যে নামাজকে সুরক্ষা করবে তাকে পাঁচ ভাগে সম্মানিত করবেন আল্লাহ। ১. তার রুজির টানাটানি থাকবে না। ২. কবরের শাস্তি সরিয়ে দেওয়া হবে। ৩. পুলসিরাত বিজলির মতো পার হয়ে যাবে। ৪. ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে। ৫. বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
লেখক : খতিব, বাইতুন নূর জামে মসজিদ ভাটারা, ঢাকা।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ