হজ ভ্রাতৃত্ববোধে অবদান রাখে

প্রকাশিত: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

হজ ভ্রাতৃত্ববোধে অবদান রাখে

মুহম্মাদ ওমর ফারুক :;

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর হজ পালিত হবে সীমিত আকারে। স্বাভাবিক সময়ে গড়ে ২৫ লাখ লোক হজ করলেও এ বছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হবে বড় জোর ১০ হাজার। এর ৭০ শতাংশ হবে বিদেশি আর ৩০ ভাগ সৌদি নাগরিক। এটি অবশ্য একটি ব্যতিক্রম ঘটনা। শরিয়তের বিধান মোতাবেক নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক অবস্থাপন্ন মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ পালন ফরজ। হজ ফরজ হওয়ার শর্ত সাতটি- ১. সুস্থ মস্তিষ্ক হওয়া ২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ৩. স্বাধীন হওয়া ৪. সুস্থ হওয়া ৫. যাতায়াত ও মক্কায় অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ থাকা ৬. রাস্তা নিরাপদ হওয়া ৭. ফিরে আসা পর্যন্ত স্ত্রী লোকদের জন্য স্বামী অথবা এমন কোনো আত্মীয় সফরসঙ্গী থাকা আবশ্যক যার সঙ্গে বিয়ে হারাম। হজ এমন একটি ইবাদত যা বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্তিশালী করে। প্রতি বছর হজের সময় সারা দুনিয়া থেকে মুসলমান সমবেত হয় আরাফাতের ময়দানে। একে অন্যের সঙ্গে মেশার সুযোগ পায় তারা। মুসলমানের মধ্যে ঐক্য ও পরস্পরের প্রতি মহব্বত সৃষ্টিতে হজের অবদান অনস্বীকার্য। আল কোরআনে ঘোষণা করা হচ্ছে, ‘আল্লাহ মানুষের জন্য বায়তুল্লাহর হজ ফরজ করেছেন, যে সেথায় যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।’ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৯৭। কোরআনের অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর লোকদের মধ্যে হজের ঘোষণা করে দাও, তারা তোমার কাছে সব দূরবর্তী স্থান থেকে পায়ে হেঁটে ও উটের ওপর সওয়ার হয়ে আসবে। যাতে তারা তাদের কল্যাণ ও নির্দিষ্ট দিনগুলোয় আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেওয়া জীবিকা হিসেবে চতুষ্পদ জন্তু জবাই করার সময়। এরপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।’ সুরা হজ, আয়াত ২৭-২৮।

হজ শুধু সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য অবশ্যপালনীয়, গরিব মুসলমানের জন্য এটি বাধ্য করা হয়নি। সমর্থ থাকা সত্ত্বেও কোনো ধনী মুসলমান যদি হজ না করে তবে তা ধর্মীয় দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। হাদিসের দিকে দৃষ্টি দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে হজ সম্পাদনের প্রয়োজনীয় সওয়ার (পরিবহন খরচ) ও পাথেয় (অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ) যার আছে, সে যদি হজ আদায় না করে, তবে সে ইহুদি কিংবা খ্রিস্টান হয়ে মরে মরুক, তাতে আল্লাহর কিছু যায় আসে না। কেননা আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন- “আল্লাহ মানুষের জন্য বায়তুল্লাহর হজ ফরজ করেছেন, যদি সে তথায় যাওয়ার সামর্থ্য রাখে”।’
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘সমর্থ হয়েও যে ব্যক্তি জাকাত ও হজ আদায় করে না, মৃত্যুর সময় সে তার হায়াত বৃদ্ধির জন্য আক্ষেপ করবে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এ ধরনের আক্ষেপ তো অবিশ্বাসীদের করার কথা। তিনি জবাব দিলেন, না, বিশ্বাসীদের জন্যও এটা প্রযোজ্য। কোরআনই এর প্রমাণ। কোরআনে বলা হচ্ছে, “আমি তোমাদের যে সম্পদ দিয়েছি, মৃত্যু আসার আগেই তা থেকে দান কর। অন্যথায় অন্তিম মুহূর্তে মৃত্যুপথযাত্রী বলবে হে প্রভু! আমাকে আরও কিছু সময় অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি দান-সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের দলভুক্ত হতাম”।’ সুরা আল মুনাফিকুন, আয়াত ১০। হজ পালন যেহেতু প্রত্যেক সম্পন্ন মুসলমানের জন্য ফরজ, সেহেতু এ ইবাদতের তৌফিক যাতে আল্লাহ আমাদের দেন তেমনটিই কাম্য।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ