হবিগঞ্জে ভাষাসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান আর নেই

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

হবিগঞ্জে ভাষাসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ :: ৫২’র ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ১১নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী আর নেই। (ইন্না…রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাধ্যর্কজনিত কারণে হবিগঞ্জ শহরের ইনাতাবাদ এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৮ ছেলে, ১ কন্যা ও নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তিনি হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি চ্যানেল আই ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী মোহাম্মদ ফরিয়াদের বাবা।

তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মরহুমের আত্মীয় স্বজন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, সাংবাদিকসহ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ শেষবারের তাকে দেখান জন্য বাস ভবনে ভীর করছেন।

তার মৃত্যুতে জেলাজুড়ে নামে আসে শোকের ছায়া। বাদ জোহর মরহুমে ১ম জানাজার নামাজ শহরের টাউন মসজিদ (চাঁন মিয়া) মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। ২য় জানাজার নামাজ মহরের গ্রামের বাড়ি আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সৌলরী গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরী ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচিগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। শুরুতে তিনি ভারতে ঢাল ক্যাম্পের ট্রেনিং ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১১নং সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি অভ্যন্তরীন সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে তার নেতৃত্বে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ, কিশোগঞ্জের অটগ্রাম, নিকলী, ইটনা, নেত্রকোনার কলমা কান্দ, সুনামগঞ্জের তাহেরপুর ময়মনসিংয়ে বালুকা ও ফুলপুর থানা হানাদার মুক্ত করা হয়। যুদ্ধ শেষে তিনি ১৯৭২ সালে আজমিরীগঞ্জ থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠা কমান্ডার নির্বাচিত হন। ৩২ বছর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ