হাওরাঞ্চলের অসহায় জনগোষ্টির চিকিৎসা সেবায় তাহিরপুর হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবি

প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

হাওরাঞ্চলের অসহায় জনগোষ্টির চিকিৎসা সেবায় তাহিরপুর হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাওরাঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ অসহায় জনগোষ্টির চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সেবা আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে সরকারিভাবে এ হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। গত বছরের ২৫ জানুয়ারী নতুন নান্দনিক ভবন আনুষ্টানিক উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। এতে করে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিপুল আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্ত দীর্ঘ প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও ডাক্তার, নার্স, আসবাবসহ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় উন্নিতকরনের সুফল পাচ্ছেনা এলাকাবাসী।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২০ এপ্রিল ২০১৭ ইং তারিখে এ হাসপাতালে যোগদান করেন ইউএইচএফপিও ডা. ইকবাল হোসেন। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা স্যালাইন, এন্ট্রিবায়োটিক ইনজেকশনসহ বিনামুল্যে সরকারী প্রায় ৫০ ধরনের ঔষধ পাচ্ছেন। পুরাতন ভবনে শুন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য আই সি সি আই, বহি: বিভাগে পৃথক ভাবে পুরষ-মহিলা, ৫ থেকে ১২ বছরের শিশু ও দ্বিতীয় তলায় দুটি ওয়ার্ডে পুরুষ-মহিলা রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বীর মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য রয়েছে বিশেষ বেড ব্যবস্থা। নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে প্রসূতি মায়েদের প্রাকৃতিক নিয়মে ডেলিভারী ও ২৪ ঘন্টা জরুরী বিভাগে জরুরী চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। ডা. ইকবাল হোসেন যোগদানের পর হাসপাতালের সার্বিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও রোগীদের উপচে পড়া ভিড় ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি যোগদানের পর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তার সহযোগীতায় হাসপাতালের সামনে খালি জায়গায় গড়ে তুলেন বিভিন্ন ধরনে ফুলগাছ সমৃদ্ধ নান্দনিক বাগান। সময়-সুযোগে তিনি নিজেও বাগানের পরিচর্চা করে থাকেন। তবে তিনি হাসপাতালে না থেকে সপ্তাহের বেশীরভাগ সময়-ই সিলেটে অবস্থান করেন ও হাসপাতালের সংস্কার কাজের মালামাল নিজ বসতবাড়ীতে ব্যবহার করছেন তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে এ হাসপাতালে ইউএইচএফপিওসহ ডা. রয়েছেন ৬জন। ইতোমধ্যে মধ্যে ৩৯তম বিসিএস এর ৬জন যোগদান করার পর এক মাসের মধ্যে ৩ জন বদলী হয়ে যান। এদিকে ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী ১২ জনের মধ্যে ডেপুটেশনে রয়েছেন ৪জন। কিন্ত ফার্মাসিষ্ট, রেডিও লজিষ্ট ও আউট সোর্সিং টোকেন পদগুলো শুন্য রয়েছে। এদিকে ল্যাব ইকুইপমেন্ট থাকলেও ল্যাব টেকনেশিয়ান পদ শুন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালের জন্য একটি নৌ-এ্যাম্বোল্যান্স থাকলেও কারিগরী ত্রুটির জন্য এটি ব্যবহার করা হচ্ছেনা। নৌ-এ্যাম্বোল্যান্স (দেখতে অনেকটা স্পিড বোটের মত) ইঞ্জিন উঠানোর পর পিছনের অংশ পানিতে তলিয়ে যাবার ঘটনাও কয়েকবার ঘটেছে। বর্তমানে এটি পরিত্যাক্ত পড়ে আছে। ইতোমধ্যে সরকারি একটি এ্যাম্বোল্যান্স বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারী এ্যাম্বোল্যান্সটি হস্থান্তর করা হবে। তবে হাসপাতালে দুদিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় মানুষের অবাধ বিচরনে নিরাপত্বা বিঘ্নিত হচ্ছে।

সরেজমিনে গত ৬ জানুয়ারী সোমবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। সাড়ি বদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে অনেকেই বিনামুল্যে সরকারি ঔষধ নিচ্ছেন। রিসিপশনের সামনে একটি মনিটরের স্ক্রিনে চলছে পুষ্টি বিষয়ক সচেতনামুলক প্রচারনা। আবদুর রব নামে এক প্রতিবন্ধি রোগী জানান, তিনি কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করে ডা. দেখানোর পর বিনামুল্যে সরকারী ঔষধ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। ২য় তলায় ১২ নং বেডে বীর মুক্তিযুদ্ধা মো. মশ্রব আলী, ৫ নং বেডে আমির হামজা, মহিলা ওয়ার্ডে ১৯ নং বেডে সফিকুন নাহারসহ অনেকেই জানান, ইনজেকশন, স্যালাইনসহ বিনামুল্যে সরকারী বিভিন্ন ঔষধ পেয়েছেন তারা। নার্সরা রয়েছেন ও ডা. সময়মত ভিজিট করছেন। তবে এক্সরেসহ বেশ কিছু পরিক্ষা নিরীক্ষা এখানে করা হচ্ছেনা বলে জানান তারা। অনিতা বর্মন নামে এক মহিলা ডেলিভালী রোগীর স্বজন জানান, সকালে রোগী নিয়ে এসেছিলাম হাসপাতালে। নরমাল ডেলিভারীতে এক ছেলে হয়েছে। ডা. বলেছেন মা ও বাচ্চা দুজনেই সুস্থ্য রয়েছেন। তাই বাড়িতে চলে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে ইউএইচএফপিও ডা. ইকবাল হোসেন সরকারি একটি এ্যাম্বোল্যান্স বরাদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় অফিসিয়াল কাজে যোগদান করতে হয়। আমি এই এলাকার সন্তান। হাসপাতালের নিকটে আমার গ্রামের বাড়ি। একটি মহল হিংসা পরায়ন হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫০শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। সীমানা প্রাচীরের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও একচেঞ্জ স্যারকে বলা হয়েছে।

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন সাব সেন্টারগুলোতে প্রান্তিক জনগোষ্টী চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন। এটা আমাদের প্রত্যাশার জায়গা। হাসপাতালে কর্মরত সবাই আগত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দিতে চেষ্টা করছি। হাওর পাড়ের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করতে ইকুইপমেন্ট, জনবল নিয়োগ, অবাধ যাতায়াত বন্ধে সীমানা প্রাচীর নির্মানসহ নবনির্মিত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভবনে কার্যক্রম দ্রুত চালুর প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লি¬ষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ