হাওরে নেই ধান-বন্ধ পাথর কোয়ারি : গোয়াইনঘাটে লাখো শ্রমিকের আহাজারি

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০

হাওরে নেই ধান-বন্ধ পাথর কোয়ারি : গোয়াইনঘাটে লাখো শ্রমিকের আহাজারি

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট :: সিলেটের সংসদীয়(৪) আসনে ভৌগলিক অবস্থান ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা অন্যতম । যেখানে রয়েছে প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের গর্ভধারিনী বিছনাকান্দি ও জাফলং অন্যতম দুটি পাথর কোয়ারি। শুধু তাই নয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নয়নাভিরাম উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পর্যটন স্পটও রয়েছে, যার মধ্যে জাফলং বিছানাকান্দি পানতুমাই উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনর্ত্তোর আজ অবধি এই সুবিশাল উপজেলাতে মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, শিক্ষা দীক্ষায় সরকারি সুযোগ-সুবিধায় বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে বিশ্ব গ্লোবালাইজেশনের যুগে অনেক পিছিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা । তবুও এই সীমান্তিক উপজেলার শ্রমজীবী কর্মজীবী নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের ছিলনা কোন অভিযোগ। মোটামুটি সচ্ছলতার মধ্যে দিয়েই এ উপজেলা জনপদের মানুষের জীবনযাপন চলছিল। দীর্ঘ করোনা, ৬ বারের বন্যা, বন্ধ পাথর কোয়ারি চতুর্মুখী সংকটে নিম্নমধ্যবিত্ত কর্মজীবী মানুষের আর্তনাদে হয়ে উঠছে আকাশভারী। উপজেলার প্রায় সিংহভাগ মানুষের কর্মসংস্থান হারিয়ে অসহায়ত্বের করুণ চিত্র, প্রকৃতির বিভীষিকাময় ধ্বংসলীলায় কৃষক আর দিনমজুর মানুষ অজানা আতঙ্কে অস্থির দিশেহারা চোখে দেখছেন জোনাক পোকা। সাংবাদিকতার পরিভাষার শব্দ ভান্ডার দিয়ে বর্তমান সময়ে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের করুণ চিত্র নীরব কান্না আঁকুতি আর্তনাদ হৃদপিন্ডে লুকিয়ে থাকা জমাটবাঁধা কষ্ট হাহাকার নিত্য রোগে শোকে ভোগা মানুষের জীর্ন কুটিরের অভাবের তাড়না ফুটিয়ে তোলা সম্ভব না।কোভিড-১৯–এর কারণে মানুষের আয় কমে গেছে, বেড়েছে বেকারত্ব। যাদের আয় কম, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যাঁদের আয়ের উৎস একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি শিল্প-কারখানা গার্মেন্টস প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ব্যয় কমাতে ছাঁটাই করা হয়েছে লোক সংখ্যা, বন্ধ প্রাইভেট কোচিং সেন্টার, বেড়েছে শিক্ষিত বেকারের হার। বিধায় দরিদ্রতা হু হু করে বাড়ছে, বেকারত্ব বেড়ে চলেছে সীমাহীন, বৈষম্যের ব্যবধান আকাশছোঁয়া। গরিব মানুষের হাহাকার দেখার কেউ নেই। ডাক্তারেরা নিজেদের সেবায় ব্যস্ত, রোগীদের সেবায় নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যথাযথ বেতন-ভাতা দেয়া হয় না। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে দিনের পর দিন। পরিবারের স্বপ্ন যে ছেলে বিসিএস ক্যাডার হবে সেই ছেলে এখন ইউটিউবে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ ফান ভিডিও করছে অবলীলায়। সম্ভাবনাময়ী ছেলের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ হুমকির সম্মুখীন। ৬ বারের বন্যা যেন একেবারে নয় ধুকে ধুকে মারছে কৃষককে। সেপ্টেম্বর মাসের সর্বশেষ বন্যায় পুরো গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলের আগাম সবজি ফসলের, বোনা ও রোপায়িত আমনের প্রাণহানি ঘটিয়েছে নিঃশ্বেষ করে দিয়েছে সোনালী ফসল। নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি বিরাণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আবাদ করা জমিতে যেখানে সোনালী ফসল হালকা বাতাসে দোল খাওয়ার কথা, সেখানে ফসলশুণ্য জমি পালন করছে পীনপতন নীরবতা। এ যেন ধানের চারা গাছের রীতিমতো শালীনতাহীনতা। অভিমানে গোঁমরা মুখে আছে ক্ষেতের মাঠ। কোলের অবুঝ শিশুটির মতো ঠোঁট ভেংগে নীরবে-নিভৃতে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে কৃষকেরা, আনমনে বুলাচ্ছে মাথায় হাত। ক্ষুদ্র ঋৃণে জর্জরিত কৃষকেরা পথে বসেছে। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না।আবার মরার উপর খরার ঘা গবাদি পশুর গো খাদ্য সংকট। প্রতি কেজি খড়ের মূল্য ২৫ টাকা, হাজার টাকা মন এ যেন গুপ্তধন।

পাথর খেকোদের কবলে পড়ে বন্ধ পাথর কোয়ারী। সিলেটের প্রান্তিক জনপদ হিসেবে পরিচিত গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি জাফলং পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা নির্বাহকারী লক্ষাদিক শ্রমিক ব্যবসায়ি রোজগার বঞ্চিত হয়ে পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অফুরন্ত পাথরের ভান্ডার থেকে পাথর আহরন করে নৌকা এবং ট্রলি দিয়ে তা পরিবহন করে যে মানুষগুলো যুগ যুগ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল, আজ তারা তীব্র খাদ্য সংকটে নিপতিত।

কাজ নেই, রোজগার নেই এ অবস্থায় বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত লক্ষাধীক মানুষের জীবন আজ চরম দুর্বিষহ। বিকল্প কোন রোজগার না থাকায় উপজেলায় শোনা যাচ্ছে দুর্ভিক্ষের পদ ধ্বনি।উঠতি বয়সী বেকার কিশোরেরা জড়াচ্ছে চোরা কারবারে।

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের অবোকাটামোগত উন্নয়নের অন্যতম নিয়ামক পাথর সিলেটের পাথর যোগান দিয়ে আসছিল। শ্রমিক কর্তৃক আহরিত এ পাথর বিপনন এবং প্রক্রিয়া করণে এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় হাজারো স্টোন ক্রাশার। এসব স্টোন ক্রাশারে আরও লক্ষাধিক শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ে এক সময়ের অবহেলিত অঞ্চল ক্রমশঃ সমৃদ্ধ জনপদে রুপান্তরিত হয়। স্থানীয়ভাবে আহরিত পাথরের গুনগত মান ভালো হওয়ায় প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়। পাথরের আর্শীবাদে সিলেটের এ প্রান্তিক জনপদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিপুলাংশে বৃদ্ধি পায়। বৃহৎ কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান না থাকায় একমাত্র পাথরকে কেন্দ্র করেই সৃষ্ট জীবিকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষেত্র সিলেটের অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

ধ্বংসের সূচনা যে ভাবে

যুগ যুগ ধরে লাখো শ্রমিক বেলচা কোদাল দিয়ে বালি সরিয়ে পরিবেশের ক্ষতি না করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর আহরন করলেও কয়েক বছর পূর্বে শ্রমিকদের এ স্বাভাবিক রোজগারের উপর দৃষ্কৃত কারিদের নজর পড়ে। শ্রমজীবি মানুষকে বঞ্চিত করে এ চক্র পাথর কোয়ারী এলাকায় নামিয়ে দেয় ড্রেজার বা বোমা মেশিন। পরিবেশ বিধ্বংসী এ ড্রেজার মিশিন ব্যবহার করে এরা পাথর আহরনের নামে কোয়ারী এলাকার পরিবেশ এবং প্রতিবেশ বিনষ্টের উৎসবে মেতে উঠে। এ বোমা মিশিনের বিরুদ্ধে শ্রমজীবি লোকগুলো প্রথম দিকে প্রতিবাদী অবস্থান গ্রহণ করলেও দৃষ্কৃতকারীদের শক্তির কাছে এরা অসহায় হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং অপ্রতিরোধ্য শক্তির কাছে অসহায় শ্রমজীবি মানুষগুলো এক পর্যায়ে নতি শিকারে বাধ্য হয়। বোমা মিশিনের ধ্বংসযজ্ঞকে পাশ কাটিয়ে তবুও শ্রমজীবি লোকগুলো পাথর কোয়ারীর একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাথর আহরনে নিয়োজিত থেকে তাদের জীবিকার চাকা সচল রাখে। এক পর্যায়ে বোমা তথা ড্রেজার মিশিনের ধ্বংসযজ্ঞ চরম আকার ধারন করলে সক্রিয় হয়ে উঠে প্রশাসন।

পাথর খোঁকোদের অপতৎপরতা

হাজারো লাখো শ্রমজীবি মানুষের স্থায়ী রোজগারের এ বিশাল ক্ষেত্রে এক সময় সক্রিয় হয়ে উঠে প্রভাবশালী পাথর খেঁকোচক্র।
হাজার হাজার কোটি টাকার পাথর আত্মসাত সহ এ অঞ্চলের পরিবেশ এবং প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধনে লিপ্ত হয়। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুকূল্য থাকায় পাথর খেঁকো চক্র এক সময় দানবীয় আকার ধারন করে। এভাবে শ্রমজীবি মানুষের রোজগারের ক্ষতি সাধন করে পাথর খেঁকো চক্র হয়ে উঠে কোয়ারী এলাকার মুর্তিমান আতংঙ্ক।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ

বোমা (ড্রেজার) মিশিনের ধ্বংসযজ্ঞ, টিলা ভূমির ক্ষতিসাধন, পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি ইত্যাদি অপকর্ম চরম আকার ধারণ করলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। স্থানীয় ও জাতীয় গমাধ্যমে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশিত প্রচারিত হলে সাড়া পড়ে যায় সর্বত্র। নড়ে চড়ে উঠে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গঠন করা হয় টাস্কফোর্স। ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হয় পাথর কোয়ারী এলাকায়। অনমনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারনে নির্মূল হয় বোমা মিশিন, তথা পাথর খেঁকোচক্র। শ্রমজীবি মানুষগুলোও তাই চেয়েছিল। বংশ পরস্পরায় তারা যে পেশায় নিয়োজিত থেকে জীবিকার নির্বাহ করছিলো তাদের জীবিকার প্রধান অন্তরায় পাথর খেঁকো চক্র উৎখাত হওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল।

এ যেনো আাগছা ছাঁটতে বৃক্ষ নিধন

বোমা মিশিন এবং পরিবেশ প্রতিবেশ বিধ্বংসীদের দমন করতে যেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোয়ারী এলাকায় সকল প্রকার পাথর আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একসময় পাথর কোয়ারী থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো যা সরকারি কোষাঘারে জমা হয়ে দেশের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতো। তা ছাড়া শতশত কোটি টাকার পাথর নিজস্ব ক্ষেত্র থেকে আহরিত হওয়ায় সাশ্রয় হতো মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা। কোয়ারী লীজ না হওয়া এবং পাথর আহরনে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার কারনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষগুলোকে পড়তে হয়েছে আকুল পাথারে। এ অবস্থাকে আগাছা ছাঁটতে বৃক্ষনিধন বলে মন্তব্য করেছেন পাথর শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

পরিবেশ ধ্বংসকারি নিপাত যাক শ্রমিকেরা অধিকার ফিরে পাক

খরস্রোতা নদী দিয়ে ঢলে নেমে আসা পাথর শ্রমিক কর্তৃক বেলচা-কোদাল দিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে আহরন করলে পরিবেশ বা প্রতিবেশের কোন প্রকার ক্ষতি সাধিত হয়না। বর্ষার তীব্র পাহাড়ী ঢলে উজান থেকে বিস্তীর্ণ ভূমিতে নেমে আসে বিপুল পরিমান পাথর। শুস্ক মৌশুমে এ পাথর আহরনে নিয়োজিত থাকে হাজারো শ্রমিক। আহরনকৃত পাথরের শূণ্যস্থান পুনরায় বর্ষায় পরিপূর্ণ হয় পাথরে। এ ধারাবাহিকতা চলে আসছে যুগযুগ ধরে। শ্রমিকরাও স্বাচ্ছন্ধে তাদের রোজগার চালিয়ে আসছিলো। কিন্তু পাথর কোয়ারী এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক বোম মিশিন তথা পরিবেশ ধ্বংস কারিদের দমন করতে যেয়ে স্বাভাবিক পাথর আহরন বন্ধ করে দেয়ায় শ্রমজীবি মানুষগুলো চোঁখে শর্ষে ফুল দেখছে। তাইতো সম্প্রতি তারা পরিবেশ ধ্বংসকারী মুক্ত নিরাপদ পাথর কোয়ারীতে স্বাভাবিক নিয়মে পাথর আহরনের দাবীতে সোচ্ছার হয়েছে। পাথর সংশ্লিষ্ঠ শ্রমিক ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় মানববন্ধন, সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন সহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের স্লোগান হলো “পরিবেশ ধ্বংসকারি নিপাত যাক, শ্রমিকেরা অধিকার ফিরে পাক” “পাথর খেঁকো আর পাথর শ্রমিক এক নয়” ইত্যাদি।

খুলে দেয়া হোক শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মক্ষেত্র

পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় পাথর আহরন থেকে বঞ্চিত দিন মজুর অভাবী মানুষগুলো চরম দুর্দশায় নিপতিত হয়েছে। এদের পাশাপাশি পাথর বিপননের জড়িত হাজারো ব্যবসায়ি- শ্রমিক রোজগার ও কর্মহীন হয়ে গভীর সংকটের ঘেরাটোপে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় সম্পৃক্ত হয়ে দেনা শোধ করতে না পেরে ঋণ খেলাপীর কারণে মামলায় জেবরার হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া পাথর পরিবহনে নিয়োজিত পরিবহন শ্রমিক ও মালিকেরা তাদের ক্রয় করা ট্রাক ও ট্রাকটরের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে এক কঠিন অবস্থার মুখো মুখি এসে দাড়িয়েছেন। এ গভীর সংকট থেকে উত্তরনের জন্য পাথর কোয়ারী হতে পরিবেশ সম্মত সনাতন পদ্ধতিতে পাথর আহরনের দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত লোকগুলো। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা সচলের জোরালো দাবী উত্থাপন করা হয়।

পরিবেশ রক্ষা এবং মানুষের জীবিকা দুটোই জরুরী

গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দী পাথর ব্যবসায়ি সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, উপজেলার সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ পাথর নির্ভরশীল দীর্ঘদিন ধরে পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় এর প্রভাব শুধু গোয়াইনঘাট উপজেলায় নয়, কোম্পানীগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষের উপর এর প্রভাব পড়েছে। পাথর খেঁকো পরিবেশ বিধ্বংসীরা দুর্বৃত্ত, এদের দমন করে কঠোর প্রশাসনিক মনিটরিং ব্যবস্থার অধীনে পাথর কোয়ারী খোলে দেয়া হোক।শ্রমজীবি পাথুরে শ্রমিকদের দ্বারা কখনোই পরিবেশের ক্ষতি সাধিত হয় না। তারা বেলচা-কোদাল দিয়ে অতিসাধারণ ভাবে পাথর আহরন করে। পরিবেশের শত্রু হলো বোমা মেশিন তথা পাথর খেঁকোরা।অনতিবিলম্বে পাথর কোয়ারী খোলে না দিলে সংকটে নিপতিত লাখো মানুষের জীবনে চরম মানবেতর অবস্থা নেমে আসবে।
রুস্তমপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন সিহাব বলেন বন্যায় শুধু ফসল নষ্ট করে নাই, নষ্ট করেছে হাজার ঘরবাড়ি, শত শত মানুষ ছিল নীড়হারা তিনি বলেন আমি যদিও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিন্তু আমাদের নির্দিষ্ট একটা নীতিমালা ও সীমারেখার মধ্যে চলতে হয়। অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও সহায়ওতার হাতকে প্রসারিত করা যায় না। তবুও জনগণের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে নানামুখী সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সাবেক দুইবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, উপজেলার কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের মুখের দিকে তাকালেই ভেসে উঠে বীভৎস অসহায়ত্বের করোন চিত্র।গোটা উপজেলায় নিরব দুর্ভিক্ষ চলছে। সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ গুলা লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খুলে কিছু বলছে না। তাদের চিহ্নিত করে সহায়তা প্রদান করা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের নৈতিক দায়িত্ব এবং দরিদ্রতা, বেকারত্ব ও বৈষম্যের অবসান দরকার। বেকারত্বের অবসান ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। গণমানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে হবে। সরকার যাদের নানা প্রকার ভাতা প্রদান করে তাদের ভাতা দ্বিগুণের বেশি করা উচিত, বাড়ানো উচিত ভাতাভোগীদের সংখ্যা। গরিব অসহায় শ্রমজীবী মানুষেরা দেশের টাকা দেশেই খরচ করে। তিনি বলেন বর্তমান চতুর্মুখী সংকটের প্রেক্ষাপটে কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থান দিতে সরকার ও উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে দারী ও অনুরোধ জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী মুঠোফোনে জানান সর্বশেষ বন্যায় উপজেলার প্রায় ১১০০শত সেক্টর জমির বোনা ও রোপা আমনের ফসল পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। আবাদকৃত জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় ফের উপজেলার কিছু কৃষকদের মাঝে সরিষার বীজ বিতরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, যাতে ফসলি জমি পতিত না থাকে এবং বলেন আগত বোরো মৌসুমে বর্তমান ফসলের ঘাটতি পূরণে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে ভর্তুকি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করছি। বোরো মৌসুমে যাতে কৃষকরা দুর্যোগ কাটিয়ে স্বাচ্ছন্দে ফসল বুনতে পারে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ