হাওর খেকো জিয়াউল হক : সুদখোর পিতার সন্তান এখন সুনামগঞ্জের মূর্তিমান আতঙ্ক

প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০১৯

হাওর খেকো জিয়াউল হক : সুদখোর পিতার সন্তান এখন সুনামগঞ্জের মূর্তিমান আতঙ্ক

দেবব্রত রায় দিপন : সুনামগঞ্জে ধরাছোঁয়ার বাহিরে বিতর্কিত ব্যবসায়ী জিয়াউল হক। এক যুগ আগে গোটা সুনামগঞ্জে নামটি ছিল অখ্যাত। বিতর্কিত একাধিক কর্মকাণ্ডে সেই নামটি এখন সবার মুখে মুখে। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সুনামগঞ্জের স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের অন্যতম সহযোগী তিনি। এই সংসদ সদস্যের সাথে রয়েছে জিয়াউল হকের একাধিক পার্টনারশিপ ব্যবসা। কেউ কেউ জিয়াউল হককে হাওরের রাজা বলেন। কারো কাছে তিনি ‘ডন’ হিসেবেও পরিচিত। জিয়াউল হকের ইশারা ব্যতিত হাওরের একটি মাছও নাকি দেখা যায়না-এমনটিও বলেছেন অনেকেই। হাওর,বিল, বালুমহাল, পাথর কোয়ারি, নৌকাঘাট সবই জিয়াউল হকের দখলে। দখলে রয়েছে বাড়ি,দোকানকোটা এবং মার্কেটও। স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে প্রশাসনের সবার সমীহ আদায় করে চলেন জিয়াউল। ফলে একসময়ে সুদখোর পিতার সন্তান জিয়াউল হকের এখন রয়েছে একাধিক বাড়ি, নারী এবং বিলাসবহুল গাড়িও। খোদ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মন্নানও খোঁজ নেন এই জিয়াউল হকের। পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে জিয়াউল হকের এমন কদর থাকায়, পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি জিয়াউল হককে। এখন জিয়াউল হক কারো ফোন রিসিভ করেননা। খোদ জেলা প্রশাসকেরও প্রয়োজন হলে তিনি বাসায় যেতে হয় জিয়াউল হকের। পরিকল্পনামন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং অপকর্মের দুই হোতা তোফাজ্জল এবং বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন ছাড়া কেউ কথা বলতে পারেনা জিয়াউল হকের সাথে-এমনটি বলেছেন স্থানীয়রা।
জিয়াউল হকের বয়স এখনও পেরোয়নি চল্লিশের কোটা। একযুগ আগের অখ্যাত সেই জিয়াউল হক এখন দাপিয়ে বেড়ান সুনামগঞ্জ। এই নামেই শহরে বাঘে-মহিষে জল খায় এক ঘাটে। এক সময় কোনোরকম আশ্রয় গ্রহণ করার জায়গা থাকলেও এখন তিনি বাস করেন রাজকীয় প্রাসাদে। এতোসব ঘটনা দিনের আলোতে ঘটে গেলেও লোকজন থাকেন নির্বিকার। প্রশাসন এমনকি রাজনৈতিক নেতারাও টু-শব্দটি করতে পারেননা। পেছনে কারণ তো একটাই-জিয়াউল হকের কাঁচা টাকার খেলায় বন্দি সবাই। আওয়ামী সরকারের টানা এক যুগের শাসনামলেও বিএনপি নেতার এমন দাপট নিয়ে শহরজোড়ে আলোচনা শুরু হলেও উত্তর আসে একটাই। সেই উত্তরটি হলো-সরকার দলীয় নেতাদের সাথে জিয়াউল হকের গভীর সখ্যতা। সংসদ সদস্য থেকে স্থানীয় নেতারাও জিয়াউল হকের পকেটে। একদিকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের রতনের সহযোগীতা, পরিকল্পনামন্ত্রীর আশির্বাদ এবং সাথে অপকর্মের দুই হোতা তোফাজ্জল এবং চেয়ারম্যান আমিন নিয়েই জিয়াউল হকের দুর্নীতির রাজত্ব।
৯৬’ এর নির্বাচনে জোট সরকারের আমলে উত্থান ঘটে জিয়াউল হকের। সুনামগঞ্জ-সদর আসনের সংসদ্য সদস্য ও হুইফ ফজলুল হক আসফিয়ার হাত ধরেই যার শুরু হয় উত্থানপর্ব। এ ব্যাপারে সহযোগীতা করেন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা নুরুল হক, জুয়েল মিয়া, মুর্শেদ আলম ও লিলু মিয়া। হুইপের ব্যক্তিগত সহকারি ছিলেন সজ্জন হিসেবে পরিচিত নাদের আহমদ। জিয়াউল হক চক্রকে যিনি হুইপের ধারে কাছেও ভিড়তে দেননি। এক পর্যায়ে জিয়াউল হকের অপকর্মের মূল হোতা তোফাজ্জল মিয়া এবং নুরুল গংদের কুটচালে ব্যাক্তিগত সহকারীর পদ থেকে অপসারণ করা হয় নাদের আহমদকে। নাদেরের স্থলাভিষক্ত করা হয় জিয়াউল হকদের আস্থাভাজন আতাউর রহমান। সেই থেকে শুরু হয় জিয়াউল গংদের অপকর্ম। হাওর থেকে তাজা তাজা মাছ ঢাকায় পৌছে দিতেন জিয়াউল হক। তাজা মাছে সন্তোস্টী লাভ করেন হুইপপত্নীর। এরপরেই জিয়াউল হকের হাতে আসে আলাদীনের চেরাগ। যে কাজে হাত দেন, তাতেই তিনি সফল। হুইপ সাহেবের প্রিয়লোক হিসেবে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেন সর্বত্র।
এখন হুইপ নেই। ক্ষমতায় নেই বিএনপি সরকারও। তবুও দমে নেই বর্ণচোরা জিয়াউল হক। এবার ভিড়েন আওয়ামী লীগে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের নেক নজড়ে আসতে চালিয়ে যান প্রানান্ত প্রচেষ্টা । প্রচেষ্টার সুবর্ণ সুযোগও পেয়ে বসেন তিনি। সদর আসন থেকে মতিউর রহমান আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলে, সকল নির্বাচনী পোস্টার বিনামূল্যে সরবরাহ করেন তিনি। এভাবেই মতিউর বশ করতে সমর্থ হন তিনি। অবশ্য সেই সম্পর্ক বর্তমানে ফাটল ধরলেও এরই মধ্যে অসীম ক্ষমতাধর হয়ে উঠেন জিয়াউল হক। শুধু মতিউর রহমান নয়, সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান ব্যতিত সুনামগঞ্জের ৪ সংসদ সদস্যের সকল নির্বাচনী পোস্টারও সরবরাহ করা হয় জিয়াউল হকের প্রেস থেকে। অভিযোগ রয়েছে ওই চার সংসদ সদস্যের নির্বাচনী তহবিলেরও বিরাট একটি যোগান আসে জিয়াউল হকের পকেট থেকে। পোস্টার প্রাপ্তির তালিকায় রয়েছেন খায়রুল হুদা চপলের নামও। গেলো উপজেলা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলে জিয়াউল হকের প্রেস থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় এই পোস্টার। কিন্তু তাতেও মন গলেনি চপলের। অভিযোগ রয়েছে তিনি জিয়াউল হককে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। একইভাবে এড়িয়ে চলেন, সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ। শুধু তাই নয়, একটি দাওয়াত অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হিসেবে যোগদানের পর সেখানে জিয়াউল হককে দেখে ফেলায়, দাওয়াত অনুষ্ঠান বর্জন করেন তিনি।
এদিকে, সুনামগঞ্জের জিয়াউল হকের দখল বাণিজ্যে একাধিক লোকজন সুনামগঞ্জ নিজ বাসা বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও কারো পক্ষে সুবিচার পাওয়া সম্ভব হয়না। এমনি এক অভিযোগ নিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে পালিয়ে এসে সিলেট দুর্নীতি দমন কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন শাহীন চৌধুরী নামের জনৈক ব্যক্তি। দুদকে দায়ের করা অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে এই জিয়াউল হক। যৌবনে জিয়াউল হকের পিতা নুরুল হক পান বিক্রী করে জীবিকা চালাতেন। একসময় পেশা বদল করে চলে যান ফল বিক্রীতে। পাশাপাশি শুরু করেন সুদ ব্যবসা। এই বিষয়গুলো জানিয়েছেন, তেঘরিয়া এলাকার লোকজন। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস না পেয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্ত জোড়ে দেন সকলেই। সেই জিয়াউল হকের পরিবারে একটা সময় তেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও তিনি এখন প্রায় হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগে শাহীন চৌধুরী উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, ওয়েজখালী নদী থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে জিয়াউল হক অবৈধ বালু পাথর উত্তোলন করেন। সাথে রয়েছে টেন্ডারবাজী ও চাঁদাবাজীসহ নানা অপকর্ম। জিয়াউল হকের বাহিনীতে নিযুক্ত রয়েছেন শহরের দাগি একাধিক অপরাধী। এই বাহিনীর মধ্য দিয়েই সকল অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালাতে সমর্থ হন তিনি। শহরতলীর সার্কিট হাউজের সামনে জিয়াউল হকের সুইমিংপুল বিশিষ্ট বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। ওয়েজখালিতে একটি বাগানবাড়ি রয়েছে-যার মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি টাকা। ওয়েজখালিতে রয়েছে হক সুপার মার্কেট, হক অটো রাইস মিল, শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন দাস ব্রাদার্স, দেশবন্ধুসহ নামে-বেনামে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এখানেই শেষ নয়, সদর থানার গৌরারং ইউনিয়নের শনির হাওর,খরচার হাওর ও লাইয়ার হাওরে আছে অনেকগুলো অবৈধ বিল। সেখানে রয়েছে জমির মালিকানাও। সেখানে নিজের নামে একটি ইটখলাও রয়েছে জিয়াউল হকের।
জিয়াউল হকের পিতা নুরুল হক, বড় ভাই রেজাউল হক, মামা সামছুল হক বিএনপির রাজনীতিতে এখনও জড়িত। জিয়াউল হক নিজে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আওয়ামী পরিবারের সাথে বাড়িয়ে দেন ঘণিষ্টতা। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ থেকে সংসদ সদস্য সবার কাছেই জিয়াউল হক অগ্রগণ্য। নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় যে কোনো নির্বাচনে বিরাট একটি যোগান আসে জিয়াউল হকের পকেট থেকে। মোট কথা- এখন সুনামগঞ্জের আওয়ামী পরিবারের বড় আত্মীয় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন নুরুল হক।
জিয়াউল হকের এক সময়কার ঘনিষ্ট সুনামগঞ্জের স্থানীয় এক নেতা বলেন, এক সময় সুনামগঞ্জ থেকে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো। পত্রিকার নাম ছিল সুনামকণ্ঠ । জিয়াউল হকের বদৌলতে সেই সাপ্তাহিক পত্রিকা এখন দৈনিক হিসেবে প্রকাশ হচ্ছে। পত্রিকার সম্পাদক বিজন সেন রায়। তবে, ক্ষমতা নেই সম্পাদকের । কারণ-পত্রিকার পুরো দায়িত্ব জিয়াউল হকের। পত্রিকা প্রকাশ হয় শহরের মুক্তারপাড়া এলাকায় নিজ মালিকানাধিন হক অপসেট প্রিন্টিং প্রেস থেকে। পত্রিকার মালিকানা পরবর্তী ঢাকা পড়ে যায় জিয়াউল হকের সকল অপকর্ম। এই প্রেস দিয়েই তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন সকল অনিয়ম। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, স্থানীয় নেতাদের নির্বাচনী পোস্টার, গোপন নথিপত্র সব কিছুই করা হয় জিয়াউল হকের প্রেস থেকে। সরকারি ছাপার কাজে কোনোরকম দরপত্র আহবান না করেও কাজ চলে যায় এই প্রেসে। পরে সুযোগ বোঝে চাহিদামতো বিল তুলে নেন জিয়াউল হক। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রেস থেকেই গেলো সংসদ নির্বাচনে পরিকল্পনামন্ত্রীর দেড় লক্ষ্য পোস্টার সৌজন্যে ছাপা করে দেন জিয়াউল হক।অবশ্য এই পোস্টার ছাপাতে গিয়ে তিনি সহযোগীতা নেন স্থানীয় আরো কয়েকটি প্রেসের। একইভাবে এই প্রেস থেকে সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নির্বাচনী সকল পোস্টার বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। গেলো উপজেলা নির্বাচনে জেলা যুবলীগ সভাপতি খায়রুল হুদা চপলের পোস্টারও জিয়াউল হকের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয় এই প্রেস থেকে। সুনামগঞ্জের স্থানীয় সকল সংসদ সদস্যের আশির্বাদ রয়েছে জিয়াউল হকের উপর-এমন গুঞ্জন রয়েছে সুনামগঞ্জে।
চাঞ্চল্যকর আরো এক তথ্য জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া নিবাসী শামীম হোসেন। তিনি বলেন, সাংসদ এমপি রতনের বরখাস্তকৃত ২য় স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা ঝুমুরকে চোখে পড়ে জিয়াউল হকের। তারপর ঝুমুরকে তুলে নেন গডফাদার রতনের হাতে। তারপর তাদের বিয়ের ব্যবস্থাও করে দেন জিয়াউল হক। নারী ঘটিত আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে জিয়াউল হকের উপর। হাওরপাড়ের নিজ বিলের দায়িত্বে থাকা অসহায় পরিবারের কন্যাসন্তানদের সহায়তার নামে পৌছে দেন সচিবালয়ে। সেখানে সচিব, সংসদ সদস্য, মন্ত্রীদের মনোরঞ্জন করিয়ে তাদের কাছ থেকে নিজের ফায়দা লুঠে নেন তিনি। এমন একটি অভিযোগ করেছেন জামালগঞ্জের শিবচরণ দাস। সুনামগঞ্জের সাবেক জেলাপ্রশাসক ইয়ামীন চৌধুরীকে এভাবেই নারী সরবরাহ করার মধ্য দিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকার সার্থ হাসিল করে নেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের প্রিয়লোক হয়ে উঠায় সকলের সমীহ আদায়ে সমর্থ হন জিয়াউল হক।
জিয়াউল হকের উপর অভিযোগ গুলোর অন্যতম হলো সাবেক জেলা প্রশাসক ইয়ামীন চৌধুরীর আমলে ধোপাজান নদীর বালু মহাল দখল। এলাকার হাওর, বিল সমিতির নাম দেখিয়ে নামমাত্র মূল্য দিয়ে লিজ গ্রহণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন। যেমন, শনির হাওর, জাওয়ার হাওর, খরছার হাওর, খরছার গাঙ ও জোয়াল ডাঙ্গা। হাজিপাড়া রাস্তার মুখে নিরীহ আলী রাজার জায়গা দখল করে বিলাসবহুল প্রাসাদ নির্মান। বালু উত্তোলনের জন্য নিজের ১০/১২ টি ভলগেট নৌকা দ্বারা বালু উত্তোলন করে সুরমানদীর পাড় ও সিএন্ডবির জায়গা দখল। সুনামগঞ্জ জেলার দৃশ্যমান হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, হক প্রিন্টিং প্রেস, পানামা হোটেল, মধুমিতা হোটেল, সিটি ফার্মেসীর পাশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মার্কেট দখল এবং দাস ব্রাদার্সের দোকান কোঠা দখল।
এ ব্যাপারে জিয়াউল হকের অন্যতম সহযোগী অভিযুক্ত পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জিয়াউল হক আমার আত্মীয়,কিন্তু উনার দখল বাণিজ্যের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য থাকাকালীন জিয়াউল হককে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট। মুকুট সাহেবের ভাতিজা হিসেবে জিয়াউল হক আমাকে দাদা বলে সম্বোধন করতেন। এরই মধ্যে জিয়াউল হকের হাওর এবং দখল বাণিজ্যের একাধিক খবর আমার কানে এসে পৌছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন স্থানে আমার পরিচয় দিয়ে সে সূবিধা ভোগ করতো। এই রিপোর্ট আমার কাছে পৌছার সাথে সাথে আমি তাকে আমার সামনে না আসার নির্দেশ প্রদান করি। আর এখন যেহেতু আমি ক্ষমতায় নেই, সে হিসেবে জিয়াউল হক এমনিতেই আমার কাছে আসার কথাও নয়। তবে, বিএনপির রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা থাকলেও খোদ পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্তজন হিসেবে পরিচিত পেয়েছে জিয়াউল হক। তাছাড়া, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত স্থানীয় সংসদ সদস্য রতনের সাথেও জিয়াউল হকের বেশ সখ্যতা রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ