হাবের স্মরণ ও দোয়া অনুষ্ঠান : শেখ আব্দুল্লাহ সত্যিকার কাজের মানুষ ছিলেন

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

হাবের স্মরণ ও দোয়া অনুষ্ঠান : শেখ আব্দুল্লাহ সত্যিকার কাজের মানুষ ছিলেন

অনলাইন ডেস্ক :;

সদ্যপ্রয়াত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ শুধু একজন ভালো মানুষই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থে একজন কাজের মানুষ। তিনি যেখানেই হাত দিতেন বিফল হতেন না।

হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে মাত্র একবছরের মধ্যেই তিনি অসাধারণ সাফল্যেও স্বাক্ষর রেখেছেন। তার শূন্যতা পুরণ হবার নয়।

হজ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সোমবার বক্তারা এসব কথা বলেন। ভার্চূয়াল এই অনুষ্ঠানটি বেলা তিনটা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে।

হাবের সভাপতি এম শাহদাত হোসাইন তসলিমের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রনালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিকরা অংশ নেন।

সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, ভালো মানুষ অনেক আছেন। শেখ আব্দুল্লাহ শুধু একজন ভালো মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন কাজের মানুষ। তার মতো মানুষ আর আসবেনা।

ধর্মসচিব নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি মন্ত্রনালয়ে এসেই ঘোষনা দিয়েছিলেন-নিজে দুর্নীতি করবোনা, কাউকে দুর্নীতি করতে দেবনা। সে অনুযায়ীই কাজ করেছেন।

অতিরিক্ত সচিব এবি এম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, তিনি হজ ব্যবস্থার ব্যাপারে বলেছিলেন, কেউ হাজীদের চোখে পানি আনলে আমি তার চোখে পানি এনে ছাড়বো। তিনি হজ ব্যবস্থাপনায় শৃংখলা আনার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

বেগম শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, শেখ আব্দুল্লাহ মরহুম শামসুল হক ফরিদপুরির ছাত্র ছিলেন। তিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে গেছেন। তিনি আগে ধর্মকে ধারণ করতেন কিন্তু তা বাস্তবায়নের সুযোগ পাননি। আওয়ামীলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হওয়ার পর থেকে ধর্মীয় বিশ্বাসকে বাস্তবায়ন শুরু করেন সর্বশেষ ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হন। এভাবেই তিনি সফল হন।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, ধর্ম মন্ত্রনালয়ে প্রথমবারের মতো একজন আলেম ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব যান যিনি একাধারে কোরআনে হাফেজও ছিল। তিনি অনর্গল ইংরেজীতেও কথা বলতে পারতেন। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম বছরেই হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন। হজ ব্যবস্থাপনায় শৃংখলা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন।

বক্তারা আরো বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর তাবলিগ জামাতের মধ্যে বিভক্তি নিরসনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি সরকারের সঙ্গে আলেম-ওলামাদের দূরত্ব কমাতে এবং কওমি শিক্ষায় দাওরায়ে হাদীসের সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন। তিনি ব্যবহারে যেমন অতি কোমল ছিলেন তেমনি কাজের ক্ষেত্রে, সততার প্রশ্নে কঠোর ছিলেন।

হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বক্তারা মরহুম এই প্রতিমন্ত্রীর পরিকল্পনা ও চিন্তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানান বক্তারা। অনুষ্ঠানের শেষে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। তার আগে হাবের উদ্যোগে কোরআন খতম করা হয়।

আলোচনায় আংশ নেন সৌদি আরবের নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ, সৌদি আরবে দক্ষিণ এশীয় হাজী সংস্থা মোয়াস্সাসা অফিসের ডিজি ওমর সিরাজ আকবর, ধর্মসচিব মো. নুরুল ইসলাম, সৌদি আরবে নিযুক্ত কাউন্সিলর হজ মাকসুদুর রহমান, বেগম শেখ আব্দুল্লাহ, ধর্ম মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবি এম আমিন উল্লাহ নূরী, মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ জমাদ্দার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ার শীর্ষ নেতা মাওলানা মাহফুজুল হক, গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মুফতী মাওলানা রূহুল আমিন, ফরিদাবাদ মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা নুরুল আমিন, সিনিয়র সংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম, রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরামের (আরআরএফ) সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক সামসুল আলম লিটন, হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান, হাবের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুশ শকুর, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, হাবের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী, মহাসচিব সচিব ফরিদ আহমেদ সরদার, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা ফজলুর রহমান, আটাবের মহাসচিব মাজাহারুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ