হাসি ফিরল টাইগারদের মুখে

প্রকাশিত: ১:২৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২১

হাসি ফিরল টাইগারদের মুখে

ওমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কী হালই না হয়েছিল! সব কিছুই ছিল এলোমেলো! মাঠে বাংলাদেশের এগারো ক্রিকেটারকে দেখে যেন মনে হচ্ছিল তারা যেন এগারোটি ভিন্ন ভিন্ন দলের খেলোয়াড়। কারও মুখে হাসি নেই। কথা তো হয়ই না। কেবল ইশারা-ইঙ্গিতে মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন ক্যাপ্টেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কখনো কখনো বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের দেখে মনে হচ্ছিল যেন একে অপরের চরম শত্রু! স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে হারার পর টাইগাররা এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, একদিন আগে সংবাদ সম্মেলনের জন্য কাউকে রাজিই করানো যাচ্ছিল না। অগত্যা দুই ঘণ্টা পড়ে এসেছিলেন ব্যাটিং অ্যাশওয়েল প্রিন্স।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অবস্থা বুঝতে পেরে পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) মতো দলও অঘটনের স্বপ্ন দেখছিল। সেই স্বপ্ন দেখাই যেন তাদের কাল হলো। বাংলাদেশ রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিল পিএনজিকে।
৮৪ রানের বিশাল জয়ে সুপার টুয়েলভ তো নিশ্চিত হলোই, সেই সঙ্গে হাসি ফিরল টাইগারদের মুখে। কালকের বাংলাদেশ দারুণ উজ্জীবিত। দারুণ উচ্ছ্বসিত। একটি বড় জয়ই আমূল বদলে দিল বাংলাদেশকে।

কাল সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। টাইগার দলপতি মাত্র ২৭ বলে খেলেছেন ৫০ রানের এক সাইক্লোন ইনিংস। তার ইনিংসে ছক্কা তিনটি ছিল দেখার মতো। পিএনজির বোলার চাদ সোবারের ওভারে হাঁকানো শেষের ছক্কায় তো বল গ্যালারির বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ক্যারিশম্যাটিক ইনিংস খেলেছেন সাকিব আল হাসান। ৩৭ বলে খেলেছেন ৪৬ রানের ইনিংস। কাল বল হাতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ছিলেন আরও বেশি ভয়ংকর। চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। গতকাল যৌথভাবে টি-২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ শিকারি বোলার হয়েছেন সাকিব। এত দিন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি ৩৪ ম্যাচে ৩৯ উইকেট নিয়ে ছিলেন শীর্ষে। গতকাল ২৮ ম্যাচেই তাকে স্পর্শ করেছেন সাকিব। এখন সামনে পাকিস্তানি অলরাউন্ডারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশন। দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফর্ম করে গতকাল টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হলেন সাকিব। ম্যাচ শেষে হাসতে হাসতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে হারার পর আমরা যে মহা চাপে পড়েছিলাম তা থেকে মুক্ত হলাম। তবে প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের একটু একটু করে উন্নতি হয়েছে। এখন আর কোনো চাপ নেই।’ গতকাল আরেক স্পিনার মেহেদী হাসানও দারুণ বোলিং করেছেন। তিনি চার ওভারে ২০ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। কাল দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফর্ম করেছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনও। ব্যাট হাতে শেষ ওভারে তার দুই দুটি ছক্কায় বাংলাদেশের স্কোরটা অনেক বেড়ে যায়। সাইফ মাত্র ৬ বলে খেলেছেন ১৯ রানের ইনিংস। বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। গতকাল পাপুয়া নিউগিনির ধস নামানো শুরু করেছিলেন সাইফুদ্দিন। সাকিব এসে তার প্রথম ওভারে দুই উইকেট নিয়ে যেন ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন প্রতিপক্ষকে। ১৮২ রানের পাহাড় টপকাতে নেমে ১৪ রানেই ৪ উইকেট হারায় তারা। ২৪ রানে তাদের পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে। তারপর উইকেটরক্ষক কিপলিন ডরিগার ৪৬ রানের ক্যারিশম্যাটিক ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় পিএনজির ইনিংস। এখানে প্রতিপক্ষ কে সেটা বড় বিষয় নয়! বাংলাদেশ দল কেমন খেলেছে সেটাই আসল। বাংলাদেশ দল যখন ব্যাট করছিল তখন প্রেসবক্সে আলোচনা হচ্ছিল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোর নিয়ে। আর যখন পাপুয়া নিউগিনির ব্যাটিংয়ের সময় সর্বনিম্ন স্কোরের বিষয়টি উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোর করতে পারেনি, পিএনজিও লজ্জার সর্বনিম্ন স্কোরে অলআউট হয়নি। তবে এমন আলোচনা থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, কাল মাস্কাটে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং -তিন বিভাগেই কতটা ভয়ংকর ছিল বাংলাদেশ দল! টাইগাররা যেন ঠিক সময়েই ফিরে পেল হারানো আত্মবিশ্বাস। ওমান থেকে এখন খুশি মনেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানে উঠতে পারবে বাংলাদেশ। সেখানেই যে টাইগারদের আসল চ্যালেঞ্জ।

সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ