হুন্ডি ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ী বন্ধু তরিকের গাড়ি চালিয়ে বিপাকে আজহারি !

প্রকাশিত: ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

হুন্ডি ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ী বন্ধু তরিকের গাড়ি চালিয়ে বিপাকে আজহারি !

সিলনিউজবিডি ডেস্কঃ  সিঙ্গাপুরে হুন্ডি ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ী বন্ধু তরিকের দামী গাড়ি চালিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিতর্কিত বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি।সরকারের বিভিন্ন মহলের কাছে সরকার ও দেশ বিরোধী আজহারির কর্মকাণ্ড দৃষ্টি গোচর হওয়ায় তিনি চাপে পড়ে দেশ ছেড়ে চলে যান ।               বিতর্কিত বাংলাদেশে ইসলামী বক্তা হিসাবে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার পাঁয়তারা করার অপরাধে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী। ইতিমধ্যে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিয়েছেন।

এরিমধ্যে একটি বিলাসবহুল গাড়ি ইস্যুতে আজহারীকে নিয়ে আবারো সমালোচনা শুরু হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামায়াতের এজেন্ট হিসাবে ইসলামী মাহফিলের নামে ড. মিজানুর রহমান আজহারীকে এই গাড়িটির যোগানদাতা সিঙ্গাপুরে হুন্ডি ও ক্যাসিনো  ব্যবসায়ী  সহিদুজ্জামান তরিক।

সূত্র জানিয়েছে, সহিদুজ্জামান তরিক হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচার করেন। বাংলাদেশের ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জামাদিও এই তরিকের মাধ্যমে এসেছিল। সিঙ্গাপুরের ম্যারিনা বে ক্যাসিনোতে নিয়মিত বসে হুন্ডির ব্যবসায়ী করে যাচ্ছেন সহিদুজ্জামান তরিক। সহিদুজ্জামান তরিকের বড় ভাই শরিফ চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ছিলো গত জাতীয় নির্বাচনে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের মুদ্রাপাচারের অন্যতম ব্যক্তি এবং ক্যাসিনো ব্যবসা ও  ব্যাংক লুটেরাদের টাকাও তার মাধ্যমে পাচার হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে আজহারীর গাড়ি চালানোর কিছু দৃশ্য ভাইরাল হলে আলোচনায় আসেন তরিক।ছবিতে দেখা গেছে, মিজানুর রহমান আজহারী একটি ‘বেন্টলি’ গাড়ি চালাচ্ছেন যার বাজারমূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা।এই দামী গাড়ির মালিক হচ্ছেন আলোচিত তরিক।

ছবিগুলো বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ থেকে পোস্ট করে প্রশ্ন ছোড়া হচ্ছে, ইসলামের একজন দাঈ হয়ে মালয়েশিয়ায় কি করে এতো দামি গাড়ি কেনেন আজহারী? মাহফিলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা:) ও সাহাবাদের ত্যাগি, সাদাসিধে জীবনের কথা বলে সেখানে কি তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন?

সমালোচনাকারীরা বলছেন, দেশে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেই মালয়েশিয়ায় চলে গেছেন আজহারী।এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আজহারীভক্তদের সঙ্গে তার বিরোধীরা তুমুল বাকবিতণ্ডায় মেতেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বিলাশবহুল গাড়ি আজহারীর নয় এবং তিনি মালয়েশিয়ায় গিয়ে এ গাড়ি চালাননি। ছবিগুলো তার সম্প্রতি তোলা নয়ও বলে জানা গেছে।মূলত এ গাড়িটি আজহারী চালিয়েছেন সিঙ্গাপুরে। আর গাড়ির মালিক জামায়াত নেতা সাহিদুজ্জামান তরিক।

সাহিদুজ্জামান তরিকের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সাহিদুজ্জামান তরিক সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্সের সাবেক সভাপতি। তার দেশের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। ছয়-সাত মাস আগে তরিকের নিমন্ত্রণে এক মাহফিলে যোগ দিতে সিঙ্গাপুরে যান মিজানুর রহমান আজহারী। সে সময় সেখানে টরিকের এই গাড়িতে চড়ে সিঙ্গাপুর ঘুড়েন। তিনি নিজেও অল্প কিছু সময় গাড়ি চালান। সে সময় তোলা সেসব ছবিই আজহারী বিরোধীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে অপপ্রচারে নেমেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, গাড়ির নেমপ্লেট দেখলেই বোঝা যায় এট মালয়েশিয়ার কোনো গাড়ি নয়। এখানে SJZ888IR লেখা। আর এমন নেমপ্লেট সিঙ্গাপুরের গাড়িগুলোর হয়ে থাকে।অনেকেই এই টেমপ্লেটকে  SJZ888IR শিবির বলে আখ্যায়িত করেন ।

উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান আজহারীর সঙ্গে জামায়াত নেতা সাহিদুজ্জামান তরিকের বন্ধুত্ব রয়েছে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া কওমি মাদ্রাসায় তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে আজহারী যোগ দিয়েছিলেন। ওই মাদ্রাসার পরিচালকই সাহিদুজ্জামান তরিক।

আজহারীর বক্তব্যের সময় সাহিদুজ্জামান তরিককে তার পাশেই দেখা গেছে।

আলোচনার শুরুতে আজহারী বলেন, এ মাহফিলের আয়োজক সাহিদুজ্জামান তরিক আমার বড়ভাই। তিনি একজন শিল্পপতি ও সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্সের সাবেক সভাপতি। সিঙ্গাপুর গেলে আমি তার কাছেই থাকি। গত কোরবানি ঈদে সেখানে তার তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকটি ইসলামি প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি।

এদিকে, মিজানুর রহমান আজহারী মাহফিল স্থগিত করে গবেষণার কাজে মালয়েশিয়া চলে গেছেন। সেখানে গিয়েই পুরনো দোসর সহিদুজ্জামান তরিকের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে শুরু করেছেন।

এদিকে সহিদুজ্জামান তরিকের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সাহিদুজ্জামান তরিক দীর্ঘদিনথেকে এসব অবৈধ ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন।জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে তিনি জামায়াতের টাকা আজহারির পিছনে খরছ করে আসছেন।

(সূত্রঃ ভোরের পাতা /আওয়াজ বিডি/জুম বাংলা )

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ