হৃদয়স্পর্শ করে নুরিন মোহামেদ সিদ্দিকের কোরআন তিলাওয়াত

প্রকাশিত: ২:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১

হৃদয়স্পর্শ করে নুরিন মোহামেদ সিদ্দিকের কোরআন তিলাওয়াত

অনলাইন ডেস্ক

মুসলিম বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক স্টাইলে কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। তার মধ্যে আফ্রিকান স্টাইল অনন্য।

একসময় মধ্যপ্রাচ্যের স্টাইল প্রাধান্য বিস্তার করলেও সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বর্তমানে আফ্রিকার স্টাইলও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। খবর বিবিসির।

সুদানের এ রকম এক কারি নুরিন মোহামেদ সিদ্দিক। প্রয়াত এ কারি যখন কোরআন তিলাওয়াত করতেন, সারা বিশ্বের মানুষ তার কণ্ঠে খুঁজে পেত বিষাদ, হৃদয়স্পর্শ করা আবেগ এবং ব্লু সংগীতের অপূর্ব মূর্ছনা।

তার অনন্য কণ্ঠস্বর তাকে মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় সব কারিদের একজনে পরিণত করেছিল।

২০২০ সালের নভেম্বরে সুদানে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মাত্র ৩৮ বছর বয়সে নুরিন মোহামেদ সিদ্দিক যখন নিহত হন, তখন পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সেই শোক ছড়িয়ে পড়েছিল।

টেক্সাসের ইমাম ওমর সোলেইমান টুইট করেন, বিশ্ব আমাদের সময়ের সবচেয়ে সুন্দর কণ্ঠগুলোর একটিকে হারালো।

বিভিন্ন ধর্মের বিষয়ে পড়ান এ রকম এক সুদানি-আমেরিকান শিক্ষক হিন্ড মাক্কি বলেন, তার গুণ ব্যাখ্যা করা খুবই কঠিন। তিনি বলেন, লোকজন বলে যে তার কণ্ঠে আফ্রিকার আসল পরিচয় পাওয়া যায়।

কোরআন তিলাওয়াতকে ব্লুজ সংগীতের সঙ্গে তুলনা করা হয় এবং সেটি কোনো আকস্মিক বিষয় নয়।

ইতিহাসবিদ সিলভেইন দিওফের মতে পশ্চিম আফ্রিকার দাস মুসলিমদের প্রার্থনা এবং তিলাওয়াতের সঙ্গে সাহেল অঞ্চল থেকে শুরু করে সুদান এবং সোমালিয়ার মুসলিমদের তিলাওয়াতের মিল রয়েছে। সেখান থেকেই হয়তো বিশেষ এই আফ্রিকান আমেরিকান সংগীতের জন্ম হয়েছে, যা পরে ব্লুজ সংগীতে রূপ নিয়েছে।

ঐতিহ্যগতভাবে কোরআন তিলাওয়াত করা হয় সুর করে। বলা হয় ইসলামের নবী এভাবে কোরআন পাঠ করার জন্য উৎসাহিত করতেন। তিনি বলেছিলেন, মানুষের কণ্ঠে কোরআনের সৌন্দর্য ফুটে উঠবে।

কারি সিদ্দিক গত শতাব্দীতে নব্বইয়ের দশকে রাজধানী খার্তুমের পশ্চিমে আল-ফারাজাব গ্রামের একটি মাদ্রাসায় কোরআন তিলাওয়াত শুরু করেন।

পরে যখন খার্তুমে চলে আসেন, শহরের কয়েকটি বড় মসজিদের নামাজে তিনি ইমামতি করেছেন এবং সেই সময় তিনি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ইউটিউবে তার একটি ভিডিও আপলোড করার পর তার নাম দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সাত নোটের স্কেল, যা হেপ্টাটনিক নামে পরিচিত, সেটি জনপ্রিয় হলেও কারি সিদ্দিকের তিলাওয়াতে ছিল পাঁচ নোটের স্কেল যাকে বলা হয় পেন্টাটনিক।

সাহেল ও হর্ন অফ আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রচলিত ছিল এই পেন্টাটনিক স্কেল। আল-জাইন মোহাম্মদ আহমাদ নামে সুদানের আরেকজন জনপ্রিয় কারি বলেন, মরুভূমিতে এ ধরনের সুরেলা পরিবেশেই আমি বেড়ে উঠেছি। এটি সুদানের ডুবেইত লোক সংগীতের মতো।

লেভান্ত অঞ্চলের (লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন ও জর্ডান) তিলাওয়াতকারীরা তাদের জানা সুরে কোরআন তিলাওয়াত করে, যেমন মিসর, হিজাজ, উত্তর আফ্রিকা এবং অন্য স্থানের তিলাওয়াতকারীরাও করে থাকেন।

কানাডায় আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীতবিষয়ক অধ্যাপক মাইকেল ফ্রিশকফের মতো আরও অনেক বিশেষজ্ঞ এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।

তিনি বলেন, মিসরে কিন্তু পেন্টাটনিক কিম্বা ছয় নোটের হেক্সাটনিক সুরে কোরআন তিলাওয়াত খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু সেটি আপনি পাবেন সুদান, ঘানা ও গাম্বিয়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইসলামিক সেন্টার অলিম্পিয়ার ইমাম ওমর জাব্বি সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তার জন্ম সিয়েরা লিওনে। সেনেগাল ও গাম্বিয়াতে শিক্ষকদের কাছে তিনি কোরআনের তিলাওয়াত শিখেছেন।

তিনি বলেন, সেখানে আমি বিভিন্ন স্টাইলে কোরআন তিলাওয়াত করতে শিখেছি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের স্টাইলে কোরআনের তিলাওয়াত আফ্রিকাসহ সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ