১০ টাকার লোভ দেখিয়ে শাহপরাণে শিশু ধর্ষণ, থানা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা

প্রকাশিত: 8:47 PM, November 20, 2019

১০ টাকার লোভ দেখিয়ে শাহপরাণে শিশু ধর্ষণ, থানা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট শহরতলীর শাহপরাণ এলাকায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক সবজি বিক্রেতার বিরুদ্ধে। গত রবিবার (১৭ নভেম্বর) শাহপরাণ থানাধীন মোহাম্মদপুর গ্রামে সবজি বিক্রেতা ময়না মিয়া (৩৫) ১০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৯ বছরের শিশু মাদ্রাসাছাত্রী মাদ্রাসার ছাত্রী (৯)-কে তার বসতঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ঝুমা’র মা মিলন বেগম (৪৫) অভিযোগে উল্লেখ করে বলেন, ৪ মেয়ে ২ ছেলেসন্তান রেখে প্রায় আড়াই বছরপূর্বে আমার স্বামী মারা যান। আর্থিক অনটন থাকায় নিরুপায় হয়ে পরের বাসা-বড়িতে কাজ করে ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে জীবিকানির্বাহ করে আসছি। ফাতেমা আক্তার ঝুমা (৯) আমার ৩য় মেয়ে সে মাদ্রাসায় ২য় শেণীতে পড়ে। ময়না মিয়া আমাদের পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা এবং সম্পর্কে আমার দেবর। আমার মেয়ে প্রতিদিনের মতো কোচিংয়ে যাওয়ার পথে ময়না মিয়া আমার অবুঝ মেয়েকে ১০ টাকার লোভ দেখিয়ে তার ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমার মেয়ে কান্নাকাটি করলে ময়না মিয়া আমার মেয়েকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমার মেয়ে কান্না করে রাস্তা দিয়ে আসার সময় আমার কাছে সে ঘটনার বিস্তারিত বলে তখন স্থানীয় সেলিম মিয়া ও পান্না বেগম পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কান্নারতবস্থায় দেখলে তারাও ঘটনা সম্পর্কে জানেন। আমি নিরুপায় হয়ে বিচারপ্রার্থী হইলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ বিষয়টি সমাধান করে দেবেন বললে আমি রাজী না হয়ে আইনের আশ্রয় নিই। আমার আত্মীয় স্বজনের পরামর্শে আইনের আশ্রয় গ্রহনের জন্য মেয়েকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসলে জরুরী বিভাগের মাধ্যমে ওসিসিতে ভর্তি করি।

মিলন বেগম বাদী হয়ে শাহপরাণ এলাকায় মামলা দায়েরের জন্য অভিযোগপত্র দিলেও এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি। শিশুর বড় ভাই আলামিন জানায়, আমরা মামলা দায়েরের জন্য গেলে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদেরকে নারী ও শিশু নির্যাতন বিভিন্ন আইন দেখিয়ে বলেন মামলা করা যাবেনা। আগে আসামী ধরবো তার পর মামলা করবো। কিন্তু দুদিন পার হলেও আসামী ধরা হচ্ছে না। শাহপরাণ থানার পুলিশ খুরশেদ আলম আমাদের সাথে এই ব্যবহার করেন। তিনি বললেন ওসি সাহেব না আসলে মামলা দায়ের করা যাবেনা। এভাবে অনেক বিলম্বে পড়তে হয়েছে। যতবারই গেলাম একবারও ওসি সাহেবকে থানায় পেলাম না। প্রথমে বলা হলো ওসমানী থেকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)’র রিপোর্ট লাগবে। সেটাও নিয়ে গেলাম তবুও মামলা দায়ের করা হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ