১১ বছরের সুখের সংসার ছিলো সাংবাদিক নাজিম-রাবিয়ার (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২১

১১ বছরের সুখের সংসার ছিলো সাংবাদিক নাজিম-রাবিয়ার (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক :: দীর্ঘ ১১ বছরের সুখের দাম্পত্যজীবন ছিলো রাবিদ আহমদ নাজিম ও রাবিয়া খাতুন তানির। বিবাহিত জীবনে তারা ছিলেন ৩ সন্তানের মা-বাবা। সুখেই কাটছিলো বিবাহিত জীবনের দিনগুলো। কিন্তু ‘শাহনিয়া’ নামক এক ঝড় উল্টে-পাল্টে ডুবিয়ে দিলো তাদের জীবনডিঙি। নাজিমকে চিরতরে কেড়ে নিলো রাবিয়ার জীবন থেকে। ৩টি অবুঝ সন্তানকে সারা জীবনের জন্য করে দিলো পিতৃহারা।

সিলেট নগরীর কাজিটুলার ঊঁচাসড়কে ৫ তলা ভবন থেকে পড়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে রাবিদ আহমদ নাজিমের (২৭)। নাজিম সিলেটের শাহপরাণ থানার পিরেরবাজার এলাকার আটগাও কেউয়া গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে।

নাজিমের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। দুই বছর আগে তিনি ঊঁচাসড়কস্থ চৌধুরী ভিলা নামক ৫ তলা বাসার পঞ্চম তলার বি/৫ ফ্ল্যাটটি শাহনিয়া বেগম (৩০) নামরে এক নারীর সঙ্গে খালাতো বোন পরিচয়ে সাবলেট ভাড়া নেন। সেই ফ্ল্যাটে শাহনিয়া ও তার ভাই আকবর থাকতেন। সেই ফ্ল্যাটের ভাড়া দেয়া হতো ১২ হাজার টাকা।

নাজিম পরিবারের অজান্তে সেই ফ্ল্যাটে প্রায়ই রাত কাঁটাতেন। মৃত্যুর পর নাজিমের থাকার কক্ষ থেকে নানা রকমের মাদকদ্রব্য ও সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাজিম যাদের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন সেই ছেলে ও মেয়ে তার খালাতো ভাই-বোনও নন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

নাজিমের মৃত্যুর একদিন পর মঙ্গলবার (৮ জুন) দুপুরে কথা হয় তার স্ত্রী রাবিয়া খাতুন তানির সঙ্গে। অশ্রুভেজা নয়নে রাবিয়া জানান, বিবাহিত জীবনে নাজিমের সঙ্গে তিনি সুখি ছিলেন। তাদের ছিলো না কোনো আর্থিক সংকট। এক ছেলেও ফুটফুটে দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে তাদের।

রাবিয়ার বাবার বাড়ি সিলেট নগরীর টিলাগড়ে। ১১ বছর আগে নাজিমের সঙ্গে বিয়ে হয় জানিয়ে রাবিয়া বলেন, আমার স্বামী আমার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করতেন। আমার জানামতে- তিনি সিগারেট পর্যন্ত খেতেন না। আমার স্বামীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। শাহনিয়া নামের ওই মেয়েই আমার জীবনের সর্বনাশ করেছে। আমার স্বামীকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে, সন্তানদের করেছে পিতৃহারা। শাহিনয়াকে রিমান্ডে নিলেই সবকিছু বেরিয়ে আসবে।

২ বছর ধরে কাজিটুলার সেই বাসায় নাজিমের রাত কাটানোর বিষয়ে রাবিয়া বলেন, এ বিষয়টি আমি কোনোমতেই জানতাম না। এমনকি আমার শ্বশশুর-শাশুড়িও জানতেন না। বাইরে রাত কাটানোর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন- পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মাঝে-মধ্যে বাইরে রাত কাটাতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সোমবার (৭ জুন) সকালে নগরীর কাজিটুলার ঊঁচাসড়কস্থ চৌধুরী ভিলা নামক ৫ তলা বাসার ছাদ থেকে নিচে পড়ে রাবিদ আহমদ নাজিম গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

নাজিমের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সকালে নাজিমের বাবাকে কাজিটুলা থেকে কে বা কারা ফোন করে বলেন- নাজিম পাঁচতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে সিলেট এম জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে নাজিমের পরিবারের সদস্যরা ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে তাকে মৃত দেখতে পান।

এদিকে, নাজিমের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন শাহনিয়া নামের বিবাহিত এক নারী। যার সঙ্গে নাজিম এক ফ্ল্যাটে খালাতো ভাই-বোন পরিচয়ে থাকতেন। যদিও নাজিমের বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার বিষয়টি জানতেন না তার পরিবার।

নাজিমের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার দিবাগত (৮ জুন) রাত সোয়া ১২টার দিকে ওই নারী ও তার দুই ভাইকে আটক করেছে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানাপুলিশ। আটকৃতরা হচ্ছে- নিজামের সঙ্গে এক ফ্ল্যাটে থাকা নারী শাহনিয়া বেগম (৩০), তার ভাই আকবর (২৬) ও ইয়ামিন (২৪)। তাদের বাবার নাম আলাউদ্দিন আনোয়ার। তাদের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ থানার গহরপুর এলাকায়। এর আগে সোমবার রাতে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে নাজিমের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-২৪।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাজিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে। এজন্য পুলিশ শাহনিয়া নামের ওই নারীকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তিনি মুখ খুলছেন না। সেই সাথে মুখ খুলছেন না শাহনিয়ার দুই ভাই আকবর এবং ইয়ামিনও। তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য না পাওয়ায় পুলিশ মঙ্গলবার (৮ জুন) দুপুরে তাদেরকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। তবে এ আদালত সিদ্ধান্ত দেননি। পরবর্তী তারিখে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শাহনিয়া বেগম নামের ওই নারী মাদকদ্রব্য কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার (৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে নাজিমের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে বাদ মাগরিব পারিবারিক কবরস্থানে নাজিমের দাফন সম্পন্ন হয়।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ