১৪ বছর পর সিলেট জেলা আ’লীগের সম্মেলন : শীর্ষ পদ পেতে লড়ছেন ১৪ জন পদপ্রত্যাশী

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০১৯

১৪ বছর পর সিলেট জেলা আ’লীগের সম্মেলন : শীর্ষ পদ পেতে লড়ছেন ১৪ জন পদপ্রত্যাশী

সুলতান সুমন ,অতিথি প্রতিবেদক :: দীর্ঘ ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আগামীকাল বৃস্পতিবার হচ্ছে সম্মেলন। এ উপলক্ষে আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রস্তুত করা হয়েছে মঞ্চ।
সিলট জুড়ে শোভাপাচ্ছে হরেক রঙের ব্যানার ফেস্টুন, তুরণ, বিল বোর্ড ও পোস্টার। আর নগরজুড়ে করা হয়েছে আলোক সজ্জা। দলের শীর্ষ পদ পেতে লড়ছেন ১৪জন পদপ্রত্যাশী নেতা।এর মধ্যে সভাপতি পদে ৯ জন ও সম্পাদক পদে ৫জন প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী রয়েছেন।
দীর্ঘ দিনপর সম্মেলন হওয়ায় কতটুকু পরিবর্তন আসছে কমিটিতে এমন অপেক্ষায় তৃণমূলের নেতাকর্মিরা। সম্মেলনে কাউন্সিল না সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি হবে, বিষয়টি এখনও খোলাসা হয়নি। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি হওয়ার পাল্লাই ভারী বলে জানা গেছে। সম্মেলনের পর ঢাকা থেকেই নাম ঘোষণা করা হতে পারে, এমন আভাসও দিয়েছেন পদপ্রত্যাশীদের অনেকে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্টিত হচ্ছে ২০-২১ ডিসেম্বর। এর অংশ হিসাবে তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলার পাশাপাশি সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটির সম্মেলন চায় দলটি। মূলত অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মধ্যদিয়ে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, বিতর্কিত ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা আদায়ের জন্য বিএনপি-জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারী নেতাদের ছেঁটে ফেলবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
দলীয় নেতাকর্মীসহ অনেকেই ধারণা করছেন , জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া যে পদ্ধতিতেই হোক, নতুন নেতৃত্ব আরও গতিশীল করার প্রত্যয় রেখে আলোচনায় আছেন অনেকেই। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এসব নেতার অনেকেই বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন।
নেতাকর্মীরা জানান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৪ আসনের এমপি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের উঠে এসেছে। কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী। রয়েছেন কমিটির সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি, সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সহ-সভাপতি ও সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, জেলা বারের সাবেক সভাপতি রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু। এছাড়া যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পূবালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবিরের নামও শোনা যাচ্ছে।
মন্ত্রী ইমরান আহমদ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় পাল্টে গেছে পুরো হিসেব-নিকেশ। গ্রুপিং রাজনীতির উর্ধ্বে একজন ক্লিন ইমেজধারী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত মন্ত্রী ইমরান আহমদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এ পর্যন্ত সভাপতি পদে যারা প্রার্থী হওয়ার মতপ্রকাশ করেছেন তাদের মধ্যে ইমরান আহমদ অনেকটা এগিয়ে।
অপরদিকে, সভাপতি প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী স্বাধীনতা-উত্তর ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। ৭৫-পরবর্তী সময়ে সিলেটে যে ক’জন নেতা রাজপথে ছিলেন এর মধ্যে তিনি অন্যতম। একসময় শফিক চৌধুরী যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও সেখানে দলকে সুসংগঠিত করার কাজ করেন। ২৪ ঘন্টার রাজনীতিবীদ উপাধীতে খ্যাত এ নেতা দলীয় নেত্রীর কথায় দু’দুইবার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। অনেকেই মনে করেন তাঁর এ ছাড়ের কারণে দলীয় নেত্রী পুরুষ্কার হিসেবে হয়তো তাকে সভাপতির দায়িত্ব দেবেন।
জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ছাত্রলীগ ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে, সম্মেলনকে ঘিরে তিনি বেশ সক্রিয়। কেন্দ্রিয় নেতাদের পছন্দের তালিকায়ও রয়েছেন এ নেতা। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাধেই উঠতে পারে জেলা আওয়ামী লীগ।
সভাপতি প্রার্থীর তালিকায় বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ ও মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিত্ব করেন। মাসুক উদ্দিন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ক্লিন ইমেজ হিসেবে তার সুনামও রয়েছে। তবে তাঁর ভাই মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শক্তিশালী প্রার্থী আসাদ উদ্দিন হওয়ায় হয়তো যেকোন একজন শীর্ষ পদের দায়িত্ব পাবেন। এবার মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আসাদ উদ্দিন আসীন থাকলেও ভাগ্য সহায় নাও হতে পারে মাসুকের। পূর্বের পদেই তিনি আসীন থাকতে পারেন। মহানগরে আসাদের ক্ষমতা খর্ব হলে মাসুক উদ্দিন আহমদের প্রতি সহানুভূতি থাকতে পারে কেন্দ্রের।
অপর সহসভাপতি আশফাক একাধিকবার সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনিও দলের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ। আরেক প্রার্থী রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু জেলা বারের একাধিকবারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
আর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান সভাপতি না হলে সাধারণ সম্পাদক পদেই বহাল থাকবেন এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। শফিক চৌধুরী যদি সভাপতি হন তাহলে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা জাগবে।
সাধারণ সম্পাদক পদে শক্তিশালী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন- বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু জাহিদ ও বর্তমান কমিটির উপ দপ্তর সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জগলু চৌধুরী। এদের অনেকেই ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে এ পর্যায়ে এসেছেন।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ। এ পদে প্রার্থী হওয়ায় তাকে ঘিরে উৎফুল্ল দলের নেতাকর্মীর। অনেকেই তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমগুলোতে দাবি তুলছেন। এ
সাধারণ সম্পাদক পদে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।
আর অপর প্রার্থী জগলু চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন জানিয়েছে। আশা করি সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরাই এবার নেতৃত্বে আসবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর কমিটি ঘোষণা করার কথা থাকলেও ২০১১ সালে সম্মেলন ছাড়াই আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সভাপতি ও শফিকুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালে সুফিয়ান মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। সূত্রমতে, ৫ ডিসেম্বরের সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সিলেটের দায়িত্বপাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা আসছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ