২৭শে সেপ্টেম্বরের পর খোলা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১

২৭শে সেপ্টেম্বরের পর খোলা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘ ১৮ মাস অপেক্ষার পর খুলেছে স্কুল-কলেজ। রোববার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়েছে শিক্ষালয়। অপেক্ষায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। তাদেরও অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে চলতি মাসেই। তবে তার আগে যারা করোনার টিকার রেজিস্ট্রেশন করেননি তা ২৭শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। এরপর কর্তৃপক্ষ চাইলে বিশ^বিদ্যালয় খুলে দিতে পারবেন।

গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্তে বলা হয়, টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন। চাইলে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়ে ২৭শে সেপ্টেম্বরের পর যেকোনো দিন বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরুর লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের সিদ্ধান্তে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকেই টিকার নিবন্ধন আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) আছে অথচ টিকার নিবন্ধন এখনো করেননি তারা সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করে টিকা নেবেন। আর যেসব শিক্ষার্থীর এনআইডি নেই তারা জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবলিংকে প্রবেশ করে শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। ইউজিসি আগামী বৃহস্পতিবার এ লিংকটি প্রকাশ করবে। শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আর যাদের জন্ম সনদও নেই তারা আগে জন্ম সনদ করে নিয়ে তারপর শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। শিক্ষার্থী নিবন্ধনের পর সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন করে টিকা নিতে হবে।

ভাইস চ্যান্সেলরদের সঙ্গে এই বৈঠকে আরও যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মো. মহীবুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রতিনিধি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যানেন্সলরগণ তাদের মতামত তুলে ধরেন। কতো দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া যায় সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়।

দেশে বর্তমানে উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ৩৯ লাখ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসিক শিক্ষার্থী ১ লাখ ৩০ হাজার। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ১৪ লাখ নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মাঝে টিকা পেয়েছেন তিন লাখ ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী। আবাসিক শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার।

জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, সভায় টিকার রেজিস্ট্রেশনের পরই বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যাবে বলে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ইউজিসি’র কাছে যাবে তারা টিকার ব্যবস্থা করবে শিক্ষার্থীদের। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন কোনো বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়নি যে, প্রথম ডোজ নেয়ার পরই খোলা যাবে তার আগে নয়। তবে রেজিস্ট্রেশন পুরোপুরিভাবে পালন করা এবং একাডেমিক ও সিন্ডিকেট সভা করে সিদ্ধান্ত নেবে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নœ করেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা যাবে। আমরা এই তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। তারা বিশেষ ব্যবস্থায় টিকার আওতায় আনবে তাদের। তিনি আরও বলেন, এর আওতায় দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ পাবলিক, প্রাইভেট এমনকি কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরাও এর আওতায় আসবে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ