৬০ বছরে যেভাবে আরব দেশগুলোর কাছে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ১১:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

৬০ বছরে যেভাবে আরব দেশগুলোর কাছে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক :
চলতি বছর প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক।

দীর্ঘ এই ছয় দশকে আমূল পরিবর্তন এসেছে বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদক আরব দেশগুলোর নীতি ও আচরণে। এক সময় যে যুক্তরাষ্ট্র ছিল তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু, সময়ের পরিবর্তনে সেই দেশটিই এখন হয়ে উঠেছে পরম বন্ধু।

এখন থেকে সাতচল্লিশ বছর আগে (১৯৭৩ সালে) তেল অবরোধের মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতি প্রায় ধসিয়ে দিয়েছিল আরবরা। আর এখন ওয়াশিংটন যা চাইছে তারা তাই করছে।

বর্তমানে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১৩। অপরিশোধিত জ্বালানির বৈশ্বিক উত্তোলনের ৪৪ শতাংশের জোগান দেয় ওপেক সদস্য দেশগুলো।

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের প্রভাবশালী ৭টি তেল কোম্পানির ক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ১৯৬০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত ওপেক। কিন্তু ২০১৭ সালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনের কাছে একপ্রকার নতি স্বীকার করেছে এই জোট।

ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশ মতোই তেল উৎপাদন করছে। সেই সঙ্গে মার্কিনদের স্বার্থে তেলের দাম কম রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করতো সংগঠনটি। কিন্তু দৃশ্যপট পাল্টেছে। ইসরাইলকে সমর্থন করার কারণে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া যুক্তরাষ্ট্র এখন ওপেকের বন্ধুরাষ্ট্র।

কারণ যুক্তরাষ্ট্রও এখন জ্বালানি তেল সমৃদ্ধ। পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় আছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা।

ইরাক, কুয়েত আর সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে ওপেক প্রতিষ্ঠা করা ইরান ও ভেনিজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তেলের দাম কমানোর বিরোধিতা করে আসছে। যদিও দিন দিন তাদের প্রভাব কমতে থাকায় ওই বিরোধিতা শেষ পর্যন্ত কোনো কাজেই আসেনি।

আরব-ইসরাইল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সমর্থন দেয়ায় সৌদি আরব এবং অর্গানাইজেশন অব পেট্রলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) আরব সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

বিশ্ব রাজনীতির ওলট-পালট আর আমেরিকায় তেল উৎপাদন বাড়ায় রফতানিকারক দেশগুলোর এ জোটটির আওয়াজ এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

ওপেকের সাবেক-বর্তমান বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে তেল উৎপাদক ও সরবরাহকারী জোটটির এখনকার মার্কিন তোষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন।

তাদের মতে, ওপেক সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ইরান ও ভেনিজুয়েলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সুবিধা করে উঠতে পারছে না। অন্যদিকে জোটের মূল খেলোয়াড় সৌদি আরব এখন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারানোর চেয়ে তাদের খুশি করার তালেই বেশি ব্যস্ত।

দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম কমানোর চাপ উপেক্ষা করে এলেও গত তিন বছরে ওপেক ওয়াশিংটনের কাছে অনেকটা আত্মসমর্পণই করেছে, বলছেন তারা।

ওপেকের সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তা, বিশ্লেষক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ইরান ও ভেনিজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা নিজেদের পছন্দমাফিক তেল উৎপাদন করতে পারছে না।

অন্যদিকে সৌদি আরব কয়েক দশক ধরে ওপেকের শীর্ষ তেল উৎপাদক দেশ হওয়ায় জোটে রিয়াদের প্রভাব অনেকখানি বেড়ে গেছে।

২০১০ সালের পর থেকে ইরান উৎপাদন কমাতে কমাতে ওপেকে তাদের শেয়ার এখন সাড়ে ৭ শতাংশ হয়েছে; অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার শেয়ারও ১০ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে বলে ওপেকের দেয়া তথ্য থেকে হিসাব করে বলছে রয়টার্স।

ওই একই সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের শেয়ার ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ