মাদক কারবারীদের অপকর্মের কথা পুলিশকে জানাবে বলায় প্রাণ দিতে হলো শেরপুরে মাছ ব্যবসায়ি নূরুলকে ঃ হত্যায় জড়িত ৩ আসামি আটক

প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

মাদক কারবারীদের অপকর্মের কথা পুলিশকে জানাবে বলায় প্রাণ দিতে হলো শেরপুরে মাছ ব্যবসায়ি নূরুলকে ঃ হত্যায় জড়িত ৩ আসামি আটক

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার সনকাপন গ্রামের খুচরা মাছ ব্যবসায়ী নুরুল হক (৫৩) হত্যায় জড়িত ৩ মাদক কারবারী গ্রেফতার করেছে মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত হলো সাকিন (২৫), পিতা-মৃত আঃ হালিম, গ্রাম-শেরপুর নতুন বস্তি, জুবেল মিয়া (২৩), পিতা-মৃত আব্দুল মালিক, সাং- ব্রাক্ষণগ্রাম, শেরপুর, ইকবাল হোসনে (৪৪), পিতা-মৃত শামসুল হুদা,সাং- শেরপুর, মৌলভীবাজার।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন মৌলভীবাজারের শেরপুরে সারাদিন মাছ বিক্রি শেষে রাত হয়ে গেলে হতভাগ্য মাছ ব্যবসায়ী নুরুল হক রাত ৯ টায় তার স্ত্রীকে ফোন করে জানান যে, আজকে আর তিনি বাড়িতে আসবেন না। শেরপুরের পার্শ্বে কুশিয়ারা নদীর ফেরির জেটিতে ছোট একটি কামরার মতো জায়গাতেই রাত কাটিয়ে দেবেন। প্রয়োজন হলে,এরকম আগেও মাঝে মধ্যে তিনি করতেন।

কিন্তু মৃত্যু সেদিন তার পিছু নিয়েছিল। সেদিন রাত অনুমান সাড়ে ১০টার দিকে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলো আসামী সাকিন, জুবেল, ইকবাল ও টিপু। এই চারজন মাদক সেবনসহ মাদকদ্রব্যের ভাগ বাটোয়ারা করছিলো সেখানে। এরই এক পর্যায়ে নুরুল হক জেটিতে গিয়ে দেখেন ভিতর থেকে প্রবেশ পথ বন্ধ। তখন ডাকাডাকি করতে শুরু করলে ভিতর থেকে আসামী সাকিন তাকে বলে যে, ভিতরে লোকজন আছে সেখানে যাওয়া যাবে না।
তারপরেও নুরুল হক পীড়াপীড়ি করতে থাকেন। এরপর আসামী সাকিন কপাট খুলে দিলে ভিতরে প্রবেশ করেন নুরুল। কিন্তু সাদাসিধে নুরুল ভিতরে ঢুকেই মাদকের কারবারি দেখে ঘাবড়ে যান এবং প্রতিবাদ করে বলেন তোমরা এগুলো কি করছো। এখানে এগুলো করতে পারবা না। আমি পুলিশকে এখনই সব বলে দিবো। তখন আসামীরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পলটুনের পাশে রাখা কাঠের টুকরা দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। আঘাতে নুরুল হক জেটির পলটুনে পড়ে যান। তখন আসামীরা তার দেহ ধরে নদীতে ফেলে দেয়।

সেদিন ছিল বর্ষার রাত নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নুরুল হকের লাশ ভাসতে ভাসতে চলে যায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের দিকে। গত ২৫জুন বিকেলে নুরুল হকের স্বজনরা এসে মডেল থানায় নিখোঁজ জিডি করেন। চারদিকে খোঁজাখুজি চলতে থাকে। পুলিশও সন্ধান করতে থাকে। গত ২৬জুন ’২০ তারিখে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থেকে খবর আসে একটা লাশ নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে সনাক্ত করতে পারেন যে, এটা তাদের বাবার লাশ। পরবর্তীতে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে পোস্ট মর্টেমের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতারের কাজে নেমে পড়ে। পুলিশ সুপার, ফারুক আহমেদের দিক নির্দেশনায় ও জিয়াউর রহমান, অতিঃ পুলিশ সুপার, সদর সার্কেলের নেতৃত্বে অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন, মডেল থানা, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পরিমল চন্দ্র দেব, এসআই, গিয়াস এর সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত টীম ব্যাপক অনুসন্ধানে নামে।

ঘটনার ০৬ দিন পর ৩০জুন মডেল ানার পুলিশ আসামী সাকিনকে গ্রেফতার করে এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামী জুবেল মিয়া, ইকবাল হোসেনকেও পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের মধ্যে ২জন বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে। ঘটনার সাে জড়িত অপর আসামী টিপু (৩০) পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান বলেন, হত্যাকারীদের যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেলক্ষ্যে পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করছে। সেই সাথে সামাজিক অবক্ষয় রোধেও জেলা পুলিশ মৌলভীবাজার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ