সিলেটে অন্ধকারে আশার আলো ডা.মাহের করিম চৌধুরী

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০

সিলেটে অন্ধকারে আশার আলো ডা.মাহের করিম চৌধুরী

সুয়েবুর রহমান :: ডাক্তার” শব্দটি শোনামাত্রই চোখের সামনে সাদা এপ্রোন পরিহিত হাস্যজ্বল একজন মানুষের ছবি ভেসে উঠে, যিনি আমাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নিজেকে উজাড় করে দেন।
কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতিতে অনেকের কাছেই ডাক্তার শব্দটি একটি বিরক্তিকর অভিজ্ঞতার নাম !!!

২০২০ সালে সারা বিশ্ব করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় জর্জরিত,বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয় । দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রের মানুষ যখন ভয়ে নিজেদের গৃহবন্দী করছে,সেখানে সবাই আশাকরে ডাক্তাররা ভীত না হয়ে দেশের স্বাস্থ্য ও স্বার্থ রক্ষায় আরো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে । কারণ বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডাক্তারদের বিকল্প নেই ।

কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন !!!
সাধারণ মানুষ যতটা না ভীত হচ্ছেন,সরজমিনে দেখা যায় ডাক্তারদের ভীত হচ্ছেন তার চেয়েও বেশী। আর তাদের এই ভীতিই প্রভাব ফেলেছে বর্তমান স্বাস্থ্যসেবায়, সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না তাদের প্রাপ্য সেবা !!!

কিন্তু মাঝেমধ্যে কিছু ডাক্তার ও প্রতিষ্ঠানের সেবামূলক কার্যকলাপে জাতি অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো দেখতে পাচ্ছে। যাদের নিরলস পরিশ্রমে টিকে আছে স্বাস্থ্যসেবা ।
এমনই একটি নাম হলো #ডাঃ_মাহের_করিম_চৌধুরী ।

খবর নিয়ে জানা যায়,,পেট্রোবাংলার কৈলাশটিলার মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহের করিম চৌধুরী করোনা পরিস্থিতির প্রথম থেকেই রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে। এমনকি রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজের যেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে না হয় সেজন্য নিজ খরচে PPE (পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকিউপমেন্ট) কিনে ব্যবহার করার পাশাপাশি নিজের চেম্বারে জীবাণুনাশক ব্যবহারেও কার্পণ্য করছেন না । এতে একদিনে তিনি যেমন নিজেকে জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করছেন, অন্যদিকে চেম্বারে আসা রোগীদের আক্রান্তের ঝুঁকিও কমে আসছে অনেকাংশে।
তাছাড়া মানুষের সেবায় তিনি নিজের চেম্বারগুলোকে করেছেন উন্মুক্ত। প্রথমদিকে তিনি শুধু তার গোলাপগঞ্জ চেম্বারেই রোগীদের সেবা দিয়ে গেলেও,বর্তমানে উনার সিলেট চেম্বারও খুলে দিয়েছেন রোগীদের স্বার্থে ।

নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন রোগীদের সেবা দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ডাঃ মাহের বলেন,, “ডাক্তারদের কাজই মানবসেবা। মেডিকেলে ভর্তির প্রথমদিন থেকেই একজন ডাক্তার সে লক্ষ্যেই নিজেকে তৈরী করেন। বর্তমান দেশের পরিস্থিতিতে ডাক্তাররাই দেশের যোদ্ধা, আর যোদ্ধা যদি যুদ্ধ না করে তাহলে জনগণ শান্তিতে থাকবে কিভাবে ? তাই মানুষের সেবার কথা চিন্তা করেই নিজের ও নিজের পরিবারের জীবন ঝুঁকিতে রেখেই সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছি। আর এভাবে সেবা দিতে পেরে আমি গর্বিত। ”

আমরাও আশাকরি যতদিন এমন ডাক্তাররা আমাদের পাশে আছেন ও থাকবেন, জনগণ তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ