বেলজিয়ামে মাহে রমজান উপলক্ষে সড়কে প্রথম আলোকসজ্জা
নিহার মামদুহ
বেলজিয়ামের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘেন্ট শহরের ব্যস্ততম দুটি সড়কে রমজান উপলক্ষে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এতে মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস রমজানের পবিত্র আবহ সৃষ্টি হয়েছে এবং তা বেলজিয়াম সমাজে ধর্মীয় সংহতির প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে। উদ্যোগটি ঘেন্টের মসজিদ সমিতির (VGM) নেতৃত্বে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে রমজান উপলক্ষে সড়কে আলোকসজ্জার রীতি থাকলেও ইউরোপে তা খুবই বিরল।
সাধারণত রমজানের প্রথম দিন থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত এসব আলোকসজ্জা স্থায়ী হয়। ঘেন্ট মসজিদ সমিতির চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব ওমর বলেন, ‘এটি সমগ্র বেলজিয়ামে প্রথম উদ্যোগ। দেশের অন্য কোথাও আগে এভাবে কখনো আলোকসজ্জা করা হয়নি। চার বছর আগে লন্ডনে অনুরূপ রমজান সজ্জা দেখার পর আমাদের ভেতর এই ধারণা আসে।
পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বেলজিয়ামে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াগত ও কার্যক্রমসংক্রান্ত দায়িত্ব—যেমন অনুমতি সংগ্রহ সমিতির ওপর অর্পণ করে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই শতভাগ অর্থায়ন করেছেন।’
ঘেন্ট মসজিদ সমিতির অধীনে ২৩টি মসজিদ পরিচালিত হয়। সমিতিটি তুর্কি, মরক্কান, আফগান ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বিভিন্ন মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক মুসলিম সমাজকে সহায়তা করে।
ওমর বলেন, ‘আমরা এমন বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনের চেষ্টা করি, যা মসজিদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের পাশাপাশি ঘেন্টের সাধারণ জনগণকেও একত্র করে।’ তিনি সমিতির বার্ষিক বৃহৎ ইফতার অনুষ্ঠানের কথা জানান, যেখানে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের বাসিন্দারা একসঙ্গে ইফতার করে।
আলোকসজ্জায় সজ্জিত সড়কগুলো তাদের প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য পরিচিত। ওমরের মতে, রমজানের সন্ধ্যাগুলোতে এসব এলাকা বিশেষভাবে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি ইতিবাচক সাড়া আমরা পেয়েছি।
এই আলোকসজ্জা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ওমর আশা প্রকাশ করেন, বেলজিয়ামের অন্যান্য শহরেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তাঁর ভাষায়, এটি বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আরও সহযোগিতামূলক সহাবস্থান গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
সূত্র : আনাদুলু এজেন্সি
বিডি-প্রতিদিন/