নগরীতে সহস্রাধিক চামড়া ফেললেন জগন্নাথপুরের ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২০

নগরীতে সহস্রাধিক চামড়া ফেললেন জগন্নাথপুরের ইউপি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় সহস্রাধিক চামড়া ফেলেছেন জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল হক শিরিন। শনিবার দিবাগত রাতে জগন্নাথপুর থেকে কয়েক-হাজার চামড়া এনে তিনি আম্বরখানা এলাকায় ফেলে রাখেন।

এরপর সকাল থেকেই চামড়া পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে স্থানীয় এক শিক্ষক বিষয়টি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে জানান। পরে আরিফুল হক চৌধুরী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে চামড়াগুলো সরিয়ে ফেলেন। তবে চামড়া সরিয়ে ফেলার এক কাজকে ‘সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর একটি নাটক’ বলছেন মাহবুবুল হক শিরিন।

আর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলছেন, আমরা ঈদের আগের দিন বলেছিলাম, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানি বর্জ্য অপসারণ করবো। সেই ঘোষণা মোতাবেক আমরা ২৪ ঘণ্টার আগেই সিলেট নগরীর সকল কোরবানি বর্জ্য অপসারণ করি। এরপরও কোথাও বর্জ্য আছে কি-না দেখতে সকালে আমি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনে যাই। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে একজন শিক্ষক নগরীর আম্বরখানা এলাকায় বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে আমাকে জানান।

পরে আমি আমার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি জগন্নাথপুরের এক ইউপি চেয়ারম্যান এগুলো রাতে রেখে গেছেন। তখন আমি সেই চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, তিনি কেন এভাবে চামড়াগুলো রেখে গেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ কাজটি কিভাবে করলেন?

তখন তিনি আমাকে বলেছেন, চামড়া নদীতে ভাসিয়ে দিতে বা পুঁতে ফেলতে নির্দেশনা রয়েছে। এজন্য তিনি আম্বরখানা এলাকায় নিজের জমিতে চামড়াগুলো রেখেছেন। এরপর আমি তাকে আবারও কাজটি ঠিক হলো কি-না জানতে চাই। এর প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে বলেন, তাহলে চামড়াগুলো কি আমি নদীতে ভাসিয়ে দিতাম? আমার জায়গায় আমি চামড়া রেখেছি। এখান আপনি যা করার করতে পারেন।

মেয়র আরিফ আরও বলেন, আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এবং ঘটনাস্থলে থাকা বিমানবন্দর থানার ওসিও জানেন। আমরা বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জানাবো। কারণ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের বারবার বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে এ সময় বর্জ্য যেন যথাস্থানে ডাম্পিং করা হয়। সেই মোতাবেক আমরা কাজ করেছি। অথচ তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এ কাজটি করেছেন।

তবে জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল হক শিরিন বলছেন, আমার ইউনিয়নের কোরবানির পশুর চামড়া ও পাশের একটি ইউনিয়নের চামড়া একত্রিত করে আমরা বিক্রির জন্য রাখি। দিনভর কোন ক্রেতা না আসায় আমরা চামড়াগুলো সিলেট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেই।

এরপ্রেক্ষিতে রাতে গাড়ি রিজার্ভ করে চামড়াগুলো আমার আম্বরখানাস্থ নিজ জায়গায় রাখি। এরপর বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। একই সাথে ভোর রাত থেকে চামড়াগুলোতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। তবে সকালে আমাদের কাছে লবণ কম থাকায় আর দোকানপাট খোলা না থাকায় আমরা সবগুলো চামড়ায় লবণ দিতে পারিনি।

পরবর্তীতে দোকানপাট খোলার সাথে সাথেই আমরা ৫০০ টা বস্তা ধরে ৩৫ বস্তা লবণ কেনা হয়। আমরা লবণ কিনে আসার আগেই সিলেট সিটি কর্পোরেশন সেখানে গিয়ে বর্জ্য অপসারণ শুরু করে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমি কোন ব্যবসায়ী না, তবুও নিজের প্রায় লাখ টাকা খরচে আমি চামড়াগুলো বিক্রির করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চিন্তা করেছি লবণ দিয়ে চামড়াগুলো আপাতত সংরক্ষণ করে রাখবো। এরমধ্যে যদি ক্রেতা পাওয়া যায় তাহলে বিক্রি করলাম। আর বিক্রি করতে না পারলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ করে ডাম্পিঙয়ের ব্যবস্থা করলাম। কারণ চামড়াগুলো তো আর এভাবে রাখা যাবে না।