অপরুপ সৌন্দর্যের জলের গ্রাম ‘অন্তেহরি’ পর্যটকদের অপেক্ষায়

প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২০

অপরুপ সৌন্দর্যের জলের গ্রাম ‘অন্তেহরি’ পর্যটকদের অপেক্ষায়

 ডেস্ক:
চারিদিকে অথৈই পানি মাঝে একটি ছোট্ট দ্বীপের মতো সাজানো গোছানো সুন্দর একটি গ্রাম নাম তার অন্তেহরি। মৌলভীবাজারের এ নৈসর্গিক জনপদটি যুগের পর যুগ সৌন্দর্য় পিপাসী লোকজনের কাছে অদেখাই রয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জহুরীর চোখ যেমন শ’শ’ অপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে মূল্যবান রত্নটিকে তুলে আনে তেমনি জেলা প্রশাসনের দক্ষ জহুরী জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিণ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মল্লিকা দে’র প্রকৃতি প্রেমি চোখ ঠিকই খোঁজে বের করলেন অন্তেহরির মতো পর্যটন সমৃদ্ধ দ্বীপকন্যা এ অবহেলিত গ্রামটিকে। এ গ্রামটি বছরের প্রায় আট মাসই অথৈ পানিতে বেষ্টিত থাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও তেমনটা উন্নত নয়। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মৎসজীবি ও শ্রমজীবি।

হাওর বেষ্টিত এ গ্রামের চারদিকে শুধু পানি আর পানি, তার মাঝে ছোট ছোট ঘরবাড়ি ছবির মতো ভেসে আছে। গ্রামটিকে ঘিরে রেখেছে বেশকিছু হিজল আর করচ গাছের বেষ্টনী। সেখানে শীতকালে আসে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। পাখিদের কলকাকলীতে মুখরিত হাওর জলপদের অপরূপ সৌন্দর্য্যরে জলের গ্রাম অন্তেহরি। জেলার রাজনগর ও মৌলভীবাজার উপজেলার সংযোগ স্থল কাওয়া দীঘি হাওর পারে এ গ্রামটির অবস্থান। রাজনগর উপজেলার উত্তর পশ্চিমের শেষ সীমান্তের গ্রামটিতে বর্ষাকালে চলাচলের জন্য প্রধান বাহন একমাত্র নৌকা।

বর্ষায় গ্রামের দৃশ্য দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে সাগরের মধ্যে যেন একটি সুন্দর দ্বীপ ভেসে আছে। নৌকাযোগে বিশাল জলরাশিতে ভ্রমণের জন্য জেলা সদরের কাছাকাছি এমনই একটি আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন গ্রাম অন্তেহরি। তার পাশের গ্রাম কাদিপুর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উত্তর পূর্বের শেষ সীমান্ত। গত মঙ্গলবার সোয়াম্প ভিলেজ হিসেবে অন্তেহরি পর্যটন স্পটে ‘পর্যটন ঘাটলা’ নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মল্লিকা দে, রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেগম ফেরদৌসী আক্তার, রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাসেম, ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাস, জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি দৈনিক বাংলার দিন পত্রিকার সম্পাদক বকসি ইকবাল আহমদ, চ্যানেল এস এর পরিচালক খালেদ চৌধুরী । প্রধান অতিথি বলেন, হাওর পারের পর্যটন সমৃদ্ধ এ গ্রামটি পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের আরোও একটি অপুর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দ্বীপে পরিনত হতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশব্যাপি উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে, দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমনে এ এলাকায় নতুন নতুন কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হবে। অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর এই গ্রামটিকে পর্যটন এলাকায় ঘোষণা দিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করায় জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিণকে ধন্যবাদ জানান তিনি। জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, নৌকা যোগে বিশালজলরাশিতে ভ্রমণের জন্য এই এলাকাটিকে আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। ভ্রমণ পিয়াসী দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নৌকায় উঠানামার জন্য একটি ঘাট তৈরি কাজের শুরুর আরও দশটি ছোট ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন এলাকায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে।

দুটি গ্রামে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আদিকাল থেকে এখানে বসবাস করে আসছেন। দরিদ্রতার মধ্যে বসবাসকারী অন্তেহরি ও কাদিপুরের বাসিন্দাদের আয়ের প্রধান উৎস হাওর থেকে মাছ ধরা ও কৃষি কাজ করা। অন্তেহরি গ্রামে যেমন কোটিপতি আছেন তেমনি রয়েছেন হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী। অন্তেহরি গ্রামের অধিকাংশ লোক এখন শিক্ষায় আলোকিত হয়ে চাকুরির ও ব্যবসাবানিজ্যের সুবাদে গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাস করছেন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ