করোনা কাল : তিনটি জোনে ভাগ হলো সিলেট নগরী

প্রকাশিত: ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০

করোনা কাল : তিনটি জোনে ভাগ হলো সিলেট নগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক : আক্রান্তের পরিসংখ্যান অনুযায়ী তিনটি জোনে ভাগ করা হলো সিলেট নগরী। জোন তিনটি হলো রেড, ইয়োলো ও গ্রীন। এর মধ্যে ১৯ টি ওয়ার্ডকে রেড জোন, ২ টি ওয়ার্ডকে ইয়োলো জোন ও ৬টি ওয়ার্ডকে দেখানো হয়েছে গ্রীন জোন হিসেবে।

সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে- ১ থেকে ৯ নং ওয়ার্ড, ১২ থেকে ১৪ রেড জোন, ১৬ ও ১৭ ওয়ার্ড এবং ১৯ থেকে ২২ ওয়ার্ড ও ২৭নং ওয়ার্ডকে।ইয়েলো জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১০ ও ১৮নং ওয়ার্ডকে।আর গ্রীন জোনে আছে ১১, ১৫ এবং ২৩ থেকে ২৬নং ওয়ার্ড।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বিয়ষটি নিশ্চিত করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নগরীর করোনা শনাক্ত হওয়াদের তালিকা যাছাই-বাছাই করে আমরা এই জোনিং করেছি। রোববার এই তালিকা সিভিল সার্জনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা পেলে সেটি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে রবিবার (১৪ জুন) এই গাইডলাইন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গাইডলাইনটি এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

রেড জোন- উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন এলাকা
১। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বর্ধিত শিফটে কৃষিকাজ করা যাবে
২। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রামাঞ্চলে কলকারখানা ও কৃষিপণ্য উৎপাদন কারখানায় কাজ করা যাবে, তবে শহরাঞ্চলে সব বন্ধ থাকবে।
৩। বাসা থেকেই অফিসের কাজ করবে।
৪। কোন ধরনের জন সমাবেশ করা যাবে না। কেবল মাত্র অসুস্থ ব্যক্তি হাসপাতালে যেতে পারবে।
৫। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হতে পারবে, রিক্সা, ভ্যান, সি এন জি, ট্যাক্সিতে বা নিজস্ব গাড়ি চলাচল করবে না।

৬। সড়ক পথ, নদী পথ ও রেল পথে জোনের ভেতরে কোনও যান চলাচল করবে না।
৭। জোনের ভেতর ও বাহিরে মালবাহী জাহাজ কেবলমাত্র রাতে চলাচল করতে পারবে।
৮। এই জোনের অন্তর্গত মুদি দোকান, ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। রেস্টুরেন্ট ও খাবার দোকানে কেবল মাত্র হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু থাকবে এবং বাজারে শুধুমাত্র প্রয়োজনে যাওয়া যাবে। তবে শপিং মল সিনেমা হল, জিম/স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
৯। আর্থিক লেনদেন বিষয়ক কার্যক্রম যেমন টাকা জমাদান উত্তোলন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেবলমাত্র এটিএম এর মাধ্যমে করা যাবে
১০। উক্ত এলাকার রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণ নমুনা পরীক্ষার করতে হবে, শনাক্ত রোগীরা আইসোলেশনে (বাড়িতে। আইসোলেশন সেন্টারে) থাকবে।

১১। মসজিদ উপাসনালয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ইবাদত করা যাবে।
ইয়েলো জোন মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
১। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কৃষিকাজ করা যাবে
২। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলকারখানা ও কৃষি পণ্য উৎপাদন কারখানায় ৫০ শতাংশ কর্মী কাজ করবে এবং জনসংকীর্ণ কারখানাতে ৩৩ শতাংশ কর্মী বর্ধিত শিফটে কাজ করা যাবে
৩। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিসে ৫০ শতাংশ কর্মী কাজ করবে। বাকিরা বাসা থেকেই কাজ করবে।
৪। ৩০ জনের বেশি জন সমাবেশ করা যাবে না।
৫। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হতে পারবে, রিক্সা, ভ্যান, সি এন জি বা ট্যাক্সিতে একজন করে চলাচলা করবে ট্যাক্সি বা নিজস্ব গাড়ি চলাচল করা যাবে।
৬। সড়ক পথ, নদী পথ ও রেল পথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করা যাবে।

৭। জোনের ভিতরে ও বাহিরে মালবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
৮। এই জোনের অন্তর্গত মুদি দোকান, ওযুধের দোকান খোলা থাকবে, রেস্টুরেন্ট ও খাবার দোকানে কেবল মাত্র হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু থাকবে এবং বাজারে শুধুমাত্র নিত্য প্রয়োজনে যাওয়া যাবে। তবে শপিং মল, সিনেমা হল, জিম স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
৯। আর্থিক লেনদেন বিষয়ক কার্যক্রম যেমন টাকা জমাদান উত্তোলন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে করা যাবে।
১০। উক্ত এলাকার রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা করতে হবে, শনাক্ত রোগীরা আইসোলেশনে (বাড়িতে বা আইসোলেশন সেন্টারে) থাকবে। স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত আইসোলেশনে ব্যবস্থা থাকবে।
১১। মসজিদ উপাসনালয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ইবাদত করা যাবে।
সবুজ জোন নিম্ন ঝুঁকির এলাকা
১। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কৃষিকাজ করা যাবে
২। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলকারখানা ও কৃষি পণ্য উৎপাদন কাজ করা যাবে।
৩। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস খোলা থাকবে
৪। ৩০ জনের বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না।
৫। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করা যাবে তবে প্রয়োজন ছাড়া কিংবা আড্ডা দেওয়ার জন্য বের হওয়া যাবে না
৬। সড়ক পথ, নদী পথ ও রেল পথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করা যাবে।

৭। জোনের ভেতরে ও বাহিরে মালবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
৮। এই জোনের অন্তর্গত মুদি দোকান, ওষুধের দোকান, রেস্টুরেন্ট, চায়ের দোকান, সেলুন, বাজার ইত্যাদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে। তবে শপিং মল সিনেমা হল, জিম স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
৯। আর্থিক লেনদেন বিষয়ক কার্যক্রম যেমন টাকা জমাদান উত্তোলন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে করা যাবে।
১০। উক্ত এলাকার রোগীর নমুনা পরীক্ষার সহজগম্যতা থাকতে হবে,শনাক্ত রোগীরা আইসোলেশনে (বাড়িতে বা আইসোলেশন সেন্টারে) থাকবে।
১১। মসজিদ উপাসনালয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ইবাদত করা যাবে।
এছাড়া সব জোনের জন্য পালনীয় সাধারণ নিয়মাবলীতে বলা হয়েছে –
১। এলাকার সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে, হাত ধোয়া, জীবাণু মুক্ত করণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
২। করোনা রোগ/সংক্রমণ শনাক্তকরণ, তাদের আইসোলেশন ও চিকিৎসা প্রদান এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। কন্টাক্ট ট্রেসিং ও তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে।
৪। স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, হাসপাতাল, জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে, অসুস্থ ব্যক্তি পরিবহনকারী যান ব্যক্তিগত গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে চলাচল করবে

৫। সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- স্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে
৬। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া জনগন এক জোন থেকে অন্য জোনে যাতায়াত করতে পারবেনা। প্রত্যেক এলাকায় সীমিত পরিমাণে প্রবেশ ও বহিরাগমন পয়েন্ট নির্ধারণ করে কঠোরভাবে জনগনের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করবে।
৭। এ সকল কার্যক্রমের তদারকির জন্য কার্যকরি সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মাঠকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ