পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুদকে পাথর ব্যবসায়ীর অভিযোগ (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুদকে পাথর ব্যবসায়ীর অভিযোগ (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক :

সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এমরান হোসেনের নানা অনিয়ম দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪’শ পাথর ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি সহ নানা অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশন, সিলেটের উপপরিচালক মো. নুর-ই আলম বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন পাথর ব্যবসায়ী মো. মদরিছ আলী। আজ রোববার (৯ আগষ্ট) বিকেলে তিনি এ অভিযোগ দায়ের করেন। মদছির আলী গোয়াইনঘাটের ফেনাইকোণা গ্রামের মৃত মকরম আলীর পুত্র ও মেসার্স লাকী এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত¡াধিকারী।
অভিযোগে তিনি উলে­খ করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক বিগত ১০/০৭/২০২০ ইং তারিখ পরবর্তী আমি সহ ৪ শতাধিক পাথর ব্যবসায়ী উপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন। পরপর ৩ বার নিলাম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হয়রানি করেছেন। তিনি তাহার পদ ও পদবী ব্যবহার করিয়া খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধিনস্থ খনিজ সম্পদ আইন এবং বিধিমালা অনুযায়ী খনিজ সম্পদ ব্যুরোর এখতিয়ারভূক্ত পন্য পাথর বে-আইনী জব্দনামা করত: নিজের এখতিয়ারের বাইরে গিয়া তিন দফা নিলাম ও পুন: নিলাম বিজ্ঞপ্তি দিয়াছেন। আমি দরখাস্তকারী তাহার কার্যালয়ে উপস্থিত হইয়া অত্র কর্মকর্তাকে অত্র কাজ করিতে বারন করি এবং ইহা যে তার এখয়তিারভূক্ত নয় তাহা লিখিত ও মৌখিক ভাবে অবহিত করি। পরবর্তীতে আমি সহ লোভাছড়া পাথর কোয়ারীর পাথর ব্যবসায়ীগণ তাহাদের সমিতির পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করিলেও তাহা আমলে না নিয়া তিনি তাহার আইন বহির্ভূত ক্ষমতার অপব্যবহার করিবার চলমান কার্যক্রম বন্ধ করেন নাই। তখন আমি সহ আমার সহ ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস জন্মইয়াছে যে, তিনি স্বজ্ঞানে বুঝিয়া ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সাধণের উদ্দেশ্যে এই বে-আইনী কর্ম ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়া করিতেছেন। তাই নিম্ন বর্ণিত তথ্য ও দলিল সহ অভিযােগ আপনার নিকট উপস্থাপন করিলাম।
মদরিছ আলী বলেন, আমার প্রতিষ্ঠান মেসার্স লাকী এন্টার প্রাইজ বিভিন্ন রশিদের মাধ্যমে বৈধভাবে সরকারি রয়েলিটি দিয়ে পাথর ৩,৭০,০০০/- (তিন লক্ষ সত্তর হাজার) ঘন ফুট পাথর যাহার মোট ক্রয় মূল্য ৭৪,০০,০০০/- (চুয়াত্তর লক্ষ) টাকার পাথর খরিদ সূত্রে মালিক। এই পাথর সহ প্রায় ১ কোটি ঘনফুট পাথর মালিকবিহীন ঘােষণা করিয়া বে-আইনী জব্দ করেন যাহা ১৬/০৭/২০২০ ইং এবং স্মারক নম্বর বিহীন। জব্দ তালিকার পাথরের পরিমাণ ১,০৫,৮৬,৪৮৮ ঘনফুট লিখা রহিয়াছে।
আমি বিগত ২১/০৭/২০২০ ইং আমি স্বশরীরে উপস্থিত হইয়া ক্রয়কৃত পাথরের মালিক হিসাবে মালিকানা দাবীর সমূহ কাগজপত্র সহ মালিকানা দাবী করি এবং এই জব্দ কর্ম ও দলিল যে বে-আইনী তাহাও অবহিত করি। কিন্তু তাহা ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়া আইনী ভাবে নিষ্পত্তি করেন নাই।
বিগত ১৬/০৭/২০২০ ইং অত্র কর্মকর্তা কর্তৃক সৃজন করা কথিত জব্দ তালিকা সহ জব্দ কার্যক্রমে অত্র এলাকায় কোন পাথর ব্যবসায়ীকে অবহিত করেন নাই এবং কোন জনপ্রতিনিধিকে বা স্থানীয় কাউকে সাক্ষী হিসাবে সম্পৃক্ত করেন নাই। এমনকি এই কথিত জব্দ কার্যক্রমের আগে কোন নোটিশ প্রদান করা হয় নাই।
বিগত ১৬/০৭/২০২০ইং কথিত জব্দ কার্যক্রম বিষয়ে আমি সহ লোভাছড়ার পাথর কোয়ারীর ব্যবসায়ীরা তাহাদের তিন ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে আইনজীবী নিযুক্ত করিয়া বিগত ২৪/০৭/২০২০ ইং তারিখে ই-মেইল জেলা প্রশাসক, সিলেট এর মাধ্যমে ও এডি সহ ডাক যােগে বর্ণিত বিবাদীর নিকট ৯০ (নব্বই) লক্ষ ঘনফুট পাথরের মালিকানা দাবী করিয়া স্বারক নং ০২ (২)ও ০৪(ং) এর মাধ্যমে প্রেরণ করেন। আইন অনুযায়ী লিগ্যাল নােটিশ নিস্পত্তির কথা থাকলেও তিনি তাহা আমলে নেন নাই এবং নিষ্পত্তিও করেন নাই। যাহা ক্ষমতার অপব্যবহার ও বে-আইনী।
এই অবস্থায় বিগত ১৭/০৭/২০২০ ইং স্মারক নং-২২.০২.৯১০০. ৩১১.৬৩.৪০৩.২০.৭২০ এর মাধ্যমে (শুক্রবার) মাত্র ৩ কার্যদিবস সময় দিয়া নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন যাহা বে-আইনী ও নিজের এখতিয়ার বহির্ভুত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়াছেন। অত্র নিলাম কার্যক্রম ২১/০৭/২০২০ ইং স্থগিত ও বাতিল করেন।
এই অবস্থায় ২১/০৭/২০২০ ইং অত্র কার্যকর্তার পুনরায় জব্দ পাথরের এলাকা হ্রাস করিয়া পুনরায় জব্দ পাথরের পরিমাণ সমান রাখিয়া পুন:নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন যাহার স্মারক নং-২২.০২.৯১০০.৩১১.৬৩.৪০৩.২০.৫২৮ যাহার জন্য মাত্র ৩ কার্য দিবস প্রদান করা হয়। অত্র নিলাম বিজ্ঞপ্তি পুনরায় ২৮/০৭/২০২০ ইং স্থগিত ও বাতিল করা হয়। যাহা বে-আইনী ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত করে ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে করা হইয়াছে।
এই অবস্থায় বিগত ২৮/০৭/২০২০ ইং তারিখে অত্র কর্মকর্তা পুনরায় পুন:নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন যাহা স্মারক নং-২২.০২.৯১০০.৩১১.৬৩.৪০৩.২০.৪৬৪। এই পুন: নিলাম বিজ্ঞপ্তির নিলাম দাখিলের শেষ তারিখ ১২/০৮/২০২০ ইংরেজী। নিলাম ও পুন:নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রাপ্ত।
(ক) দফা হইতে (ছ) দফা পর্যন্ত সমূহ দাপ্তরিক কার্যক্রম বে-আইনী হইয়াছে এবং অত্র কর্মকর্তার এখতিয়ার বহির্ভূত কর্ম তৎপরতা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুস্পষ্ট প্রমাণ। এই কর্মকর্তা পাথর ব্যবসায়ীদের আর্থিক ভাবে ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে স্মারক নাম্বারবিহীন বে-আইনী জব্দ তালিকা তৈরী করত: মালিকানার দাবীর সমূহ কাগজাত অস্বীকার করিয়া ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে নিজ পদ ও পদবির এখতিয়ারের বাইরে গিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করত: হীন উদ্দেশ্যে আমার অনুমান ৫০,০০,০০০/- (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকার ক্ষতি সাধন করিয়াছেন এবং লােভাছড়া পাথর কোয়কারীর অন্য ব্যবসায়ীদের অনুমান ২৫,০০,০০,০০০/- (পঁচিশ কোটি) টাকার ক্ষতি সাধন করিয়াছেন, যাহা ১৯৪৭ ইং সনের দূর্নীতি প্রতিরােধ আইনের ৫(২) ধারা সহ দন্ডবিধি আইনের ১৬৬/১৬৭ ধারার অপরাধ যাহা অপনার তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ারের মধ্য পড়ে। তাই আমি এবং অন্য ব্যবসায়ীগণের এই ক্ষতিগ্রস্থ করার বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত প্রতিকার পাওয়া একান্ত আবশ্যক। অন্য ৪শ ব্যবসায়ী মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষী প্রদান করিবেন।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ